দেশের বৃহৎ রেলসেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২১ | ১৪ মাঘ ১৪২৭

দেশের বৃহৎ রেলসেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৯, ২০২০

দেশের বৃহৎ রেলসেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী
দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে যমুনা নদীর উপর দেশের সবচেয়ে বড় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুর নির্মাণ কাজ ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।

রোববার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফরেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন করেন।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা। পরে ঢাকাস্থ জাপান দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বক্তব্য রাখেন।

রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন এতে সভাপতিত্ব করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখেন। এসময় একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই রেলসেতুর নির্মাণের ফলে দেশের মানুষের অনেক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। টাঙ্গাইলে কোনো রেললাইন ছিল না। আমরাই প্রথম টাঙ্গাইলে রেললাইন দেই। এর ফলে পণ্য পরিবহনে বিশেষ ভূমিকা রাখছে৷

তিনি বলেন, সারা দেশেই রেলপথ নির্মাণ করা হবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত ও আধুনিক করা হবে।

৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘের বিশেষায়িত এই সেতুটি দেশের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে রেল সংযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

জাপানের জাইকার আর্থিক সহায়তায় এর নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে রেলসেতুটি নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

২০২৪ সালে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে দেশের রেল যোগাযেগের ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটে যাবে। এই রেলসেতু দেশের মানুষের কাছে আশীর্বাদ হিসেবে ধরা দেবে বলে মনে করছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

যমুনা নদীর উপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতু বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে দুই অংশকে একত্রিত করেছে। সড়কের পাশাপাশি সেতুতে রেল সংযোগও রয়েছে। এই সেতুতে রেল চলে কচ্ছপ গতিতে।

এর আগে কয়েকবার সেতুতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন যাত্রীরা। রেল চলাচল করায় বঙ্গবন্ধু সেতু রয়েছে হুমকির মুখে। সেতুর উপর ধীর গতিতে রেল চলায় ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের।

বঙ্গবন্ধু সেতুকে রক্ষাকরণ, যাত্রীদের দুর্ভোগ দূর করতে ও দেশের রেল যোগাযোগ আরো উন্নত করার লক্ষ্যে সরকার যমুনা নদীর উপর আলাদা রেল সেতু নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছে।

যমুনায় নতুন রেলসেতু নির্মাণের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো উন্নত হবে। সহজেই পার হতে পারবে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনগুলো। যাত্রী ভোগান্তি কমার পাশাপাশি প্রসার ঘটবে ব্যবসা-বাণিজ্যেরও।

জানা যায়, ১৯৯৮ সালে বঙ্গন্ধু সেতু চালুর মধ্য দিয়ে রাজধানীর সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ চালু হয়। প্রথমে ৪টি ট্রেন দৈনিক ৮ বার পারাপারের পরিকল্পনা থাকলেও যাত্রী চাহিদায় পরে তা বাড়ানো হয়। ২০০৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ফাঁটল দেখা দিলে কমিয়ে দেয়া হয় ট্রেনের গতি। বর্তমানে প্রতিদিন ৩৮টি ট্রেন স্বল্পগতিতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এতে সময় অপচয়ের পাশাপাশি ঘটছে সিডিউল বিপর্যয়।

এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেল স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার আব্দুল মান্নান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, বর্তমানে বঙ্গবন্ধু সেতুর উপর দিয়ে প্রতিদিন ১৬ জোড়া রেল পারাপার হয়। বঙ্গবন্ধু সেতুতে সর্বোচ্চ ২০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে রেল। এছাড়া সিগন্যালের জন্য অপেক্ষা করতে হয়, দীর্ঘ সময়। এতে দুর্ভোগের সীমা থাকে না রেল স্টেশনের কর্মী ও যাত্রীদের।

তিনি জানান, রেলসেতু নির্মাণ করা হলে কোনো ট্রেনেই কোনো প্রকার সিডিউল বিপর্যয় ঘটবে না। সময় অনেকটা সাশ্রয় হবে। অল্প সময়ের মধ্যেই সেতু পারাপার হওয়া যাবে। একটি ট্রেন আরেকটি ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করবে না। এতে উপকৃত হবে সবাই।

টাঙ্গাইলে এক অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেছিলেন, ২৯ নভেম্বর সকালে গনভবন থেকে ভিডিও কনফরেন্সের মাধ্যমে যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিফলক উন্মোচন করবেন।

ইতোমধ্যে রেলমন্ত্রী ও রেলওয়ে বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রেল সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করেছেন। অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রস্তুতি সভা। বন্ধুপ্রতিম দেশ জাপানের জাইকার সহযোগিতায় এ রেলসেতু নির্মাণ হবে।

সেতুটির নির্মাণকাজ দুটি ভাগে হবে। একটি টাঙ্গাইল অংশে, অন্যটি সিরাজগঞ্জ অংশে। রেলসেতু প্রকল্পের বাইরেও আরেকটি প্রকল্পে জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণ করা হবে। এর ফলে একটি লাইনে রেল ঢাকার দিকে যাবে, আরেকটি লাইন দিয়ে বিপরীত দিকে যাবে। একই সঙ্গে রেলপথের মাধ্যমে ভারি মালামাল পরিবহনে কন্টেইনার পরিবহন বাড়বে। বাংলাদেশ রেলওয়ের কন্টেইনারসমূহ দেশ-বিদেশে পরিবহন করা হবে। ১শ কিলোমিটার গতিতে সেতুর ওপর দিয়ে রেল চলাচল করতে পারবে।

জাপানের আর্থিক সহায়তায় এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে রেলসেতুটি নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

উদ্বোধন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে পৃথকভাবে একই সময়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দুই প্রান্তেই স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসকসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এইচআর 

 

আরও পড়ুন

আরও