চোখ জুড়ানো ছাদবাগান!
Back to Top

ঢাকা, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২০ | ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭

চোখ জুড়ানো ছাদবাগান!

আসাদুজ্জামান লিমন, মানিকগঞ্জ ৯:৫০ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৯, ২০২০

মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কোয়ার্টারের এক তলার ছাদে হরেক রকমের ফল ও ঔষধি গাছের সমারোহ। মনোমুগ্ধকর বাগানটিতে রয়েছে দেশি-বিদেশি দূর্লভ গাছ।

একতলা বাড়ির আঙ্গিনা থেকে শুরু করে ছাদ পর্যন্ত নানান গাছের সমন্বয়ে এক মায়াবী পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন পুলিশ কর্মকর্তা রকিবুজ্জামানের স্ত্রী নাজনীন সুলতানা।

বৃক্ষপ্রেমী নানজীন সুলতানা কর্মব্যস্ততার ফাঁকে স্বামীর উৎসাহ ও সহযোগিতায় গড়ে তুলেছেন ওই ছাদ বাগান। বাড়ির ছাদে মনোরম সবুজের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন কৃষির নির্যাস।

স্বামীর চাকরীর সুবাদে ২০১৯ সালে সদর থানায় আসেন নাজনীন সুলতানা। থানার প্রাঙ্গণেই তাদের কোয়ার্টার। একতলা বিশিষ্ট ওই ছাদে নিজ হাতে গড়ে তুলেছেন ফলের বাগান। বাগানটিতে রয়েছে আম, পেয়ারা, আঙ্গুর, ডালিম, লিচু, কমলা, মাল্টা, জলপাই, বরই, করমচা, ড্রাগন, চেরিসহ ২২ প্রকারের ফল গাছ। এর বাইরেও তুলসি, থানকুনি, পুদিনা, অ্যালোভেরা, মেহেদি, ধনিয়া গাছ রয়েছে সেই ছাদ বাগানে।

নাজনীন সুলতানা জানান, ছাত্রজীবন থেকেই গাছের প্রতি আমার আলাদা একটু দুর্বলতা ছিল। তবে ফুল গাছের চাইতে ফল ও ঔষধি গাছের প্রতি আগ্রহটা বেশি ছিল। বাসার ব্যালকনিতে দু একটি করে গাছ লাগাতাম। মানিকগঞ্জ আসার পর বড় একটা ছাদ পাই। সেখানেই তৈরি করি ছাদ বাগান। এর আগে অন্যান্য কর্মস্থলে এত বড় জায়গা পাইনি। তাই সেখানে বেশি গাছ লাগাতে পারিনি। মানিকগঞ্জে মাটির সমস্যা থাকায় অন্য জায়গা থেকে মাটি এনে বড় বড় ড্রামের মধ্যে গাছ লাগানোর কাজ শুরু করি।

তিনি আরো বলেন, প্রথমে অল্প কিছু গাছ দিয়ে শুরু করেছিলাম। যখন গাছগুলিতে ফল দিতে শুরু করে তখন আগ্রহটা আরও বেশি তীব্র হয়। আমার বাগানে প্রায় ৩০ প্রকারের গাছ রয়েছে। সকাল বিকাল নিয়ম করে গাছের যত্ন করা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আসলে বাগানের পেছনে স্বামীর বড় অবদান রয়েছে। তার সার্বিক সহযোগিতার কারণেই বাগানটি পরিপূর্ণতা পেয়েছে।

নাজনীন সুলতানা বলেন, বাগান পরিচর্যা একটি উত্তম শরীরচর্চা। ছাদবাগান যেমন বাড়ির সৌন্দর্য বাড়ায়, তেমনি মানুষের শরীর ও মন প্রফুল্ল রাখে। নগর জীবনের ব্যস্ততার মাঝে কেবল মনের খোরাক যোগাতে নয়, পরিবেশ রক্ষায় প্রতিটি বাড়ির ছাদে এমন বাগান এখন সময়ের দাবি। বাড়ির ছাদে উৎপাদিত ভেজালমুক্ত ফল ও সবজি দিয়ে পরিবারের প্রতিদিনের চাহিদার অনেকাংশই পূরণ করা সম্ভব।

তিনি আরো জানান, প্রতিনিয়ত পরিবেশের উষ্ণতা ভীতিকর পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে। প্রতিটি বাড়ির ছাদে বাগান করা হলে আমাদের বাড়ির উষ্ণতা যেমন কমবে পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

 

: আরও পড়ুন

আরও