বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পার হচ্ছে মানুষ
Back to Top

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পার হচ্ছে মানুষ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ১০:৫৭ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০২০

বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পার হচ্ছে মানুষ
টাঙ্গাইলে করোনাভাইরাস ও ঘুর্ণিঝড় আম্পানের ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিন চালিত ছোট ছোট নৌকাযোগে যমুনা নদী পারি দিচ্ছে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলগামী মানুষ। বুধবার সকাল থেকেই ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুর ফেরত এসব মানুষ বিভিন্ন মাধ্যমে যমুনা নদীর ঘাটে আসছে।

সরেজমিনে বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব সংলগ্ন কালিহাতী উপজেলার বেলটিয়া যমুনা নদী ঘাট ও ভুঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ঘাটে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
মহাসড়কে গণপরিবহন বন্ধ থাকার কারণে ঈদে বাড়ি যাওয়ার জন্য মানুষজন ঢাকা, চন্দ্রা, গাজীপুর ও নারায়নগঞ্জ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে আসছে ঘাটে নদী পার হতে।

বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব হারবার পয়েন্টের কাছে সেতু কর্তৃপক্ষের তিনজন নিরাপত্তাকর্মী নদী পার হওয়ার জন্য আসা মানুষজনকে ঘাটের দিকে যাওয়ার জন্য সিগনাল দিচ্ছেন। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গগামী এসব মানুষজন ব্যাটারীচালিত অটোরিকশা, সিএনজি ও ভ্যানে করে সেতুপূর্ব বেলটিয়া যমুনা ঘাটে যাচ্ছে। সেখান থেকে ইঞ্জিত চালিত ছোট ছোট নৌকাযোগে জনপ্রতি ১শ’ টাকা ভাড়া দিয়ে যমুনা নদী পার হচ্ছেন।

জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল গণপরিবহন বন্ধ থাকায় মানুষজন নৌকাযোগে নদী পাড় হচ্ছিল। এতে নৌকাটি মাঝ নদীতে যাওয়ার পর ডুবে যায়। পরে নারী ও শিশুসহ তিনজন নিখোঁজ হয়। পরে নদীতে উদ্ধার অভিযানে নেমে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতরা বগুড়া জেলার বাসিন্দা ছিল। এরমধ্যে ঘুর্ণিঝড় আম্পান ও করোনাভাইরাসের ঝুঁকি নিয়ে ছোট ছোট নৌকাযোগে নদী পাড়ি দিচ্ছেন ঈদে ঘরমুখো মানুষ। আর এই সুযোগে ঘাটের নৌকার মাঝিরা পাচঁগুন ভাড়া নিয়ে লোকজনকে নদী পার করছেন। এতে দুর্ঘটনার পাশাপাশি হতাহতের ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। মানুষজন ঝুঁকি নিয়ে নদী পাড় হলেও তা বন্ধে কার্যকর কোন উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা ফেরত পঞ্চগড়গামী ফারুক বলেন, কাজ নেই। টাকাও নেই যে থাকবো। তাই বাড়ি যাচ্ছি ঝুঁকি নিয়েই।
নদী পাড় হওয়া বগুড়াগামী মাইনুল হোসেন বলেন, মহাসড়কে পরিবহণ বন্ধ তাই বিভিন্নভাবে বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব বেলটিয়া যমুনা নদীর ঘাটে আসি। এখান থেকে ১০০টাকা দিয়ে যমুনা নদী পাড় করে দেয়ার কথা থাকলেও তারা মাঝ নদীর চরে নামিয়ে দেয়। এরপর সেখান থেকে পুনরায় ৫০টাকা দিয়ে আবার নৌকাযোগে সেতুপশ্চিমপাড়ের বিদ্যুতের পাওয়ার স্টেশনের কাছে গিয়ে নামতে হয়।

কালিহাতী উপজেলার বেলটিয়া গ্রামের ফারুক আহমেদ বলেন, ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষজন এসে নদী পাড় হচ্ছে। এতে এলাকাবাসী ঝুঁকি রয়েছে। অথচ পুলিশের সামনে দিয়ে লোকজনগুলো দলে দলে আসলেও তারা সেটি বন্ধ করেনি। মানুষজন সিএনজি, অটোরিকশা ও ভ্যানে করে যমুনা নদীর বেলটিয়া ঘাটে আসছে। ভোর থেকে শুরু হয় নদী পাড়াপাড়।

একই গ্রামের আমিনুল ইসলাম বলেন, ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গগামী কয়েক হাজার মানুষ নদী পাড় হয়েছেন।
ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী নৌ ফাঁড়ির ইনচার্জ আলআমিন জানান, মহাসড়ক দিয়ে লোকজন ট্রাক, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান ও পায়ে হেঁটে নৌঘাটে ভিড় জমাচ্ছে নদী পাড় হওয়ার জন্য। ঘাট এলাকায় পুলিশের টিম কাজ করছে যাতে কেউ নৌঘাটে ভিড় জমাতে বা নদী পাড় না হতে পারে ।

বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব নৌ পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ এমএ আব্দুল মান্নান বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব এলাকার যমুনা নদীতে পুলিশের টহল রয়েছে। কেউ যদি ঝুঁকি নিয়ে নদী পার না হতে পারে।

বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব থানার ওসি কাজী আইয়ুবুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব বেলটিয়া ঘাটে পুলিশের টিম কাজ করছে। কেউ নৌকাযোগে নদী পার হয়নি। কাউকে পার হতে দেয়া হচ্ছে না।

এএএন/এসএস

 

: আরও পড়ুন

আরও