গাড়ি ঘুরিয়ে দিচ্ছে পুলিশ, পায়ে হেটেই ঈদযাত্রা
Back to Top

ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গাড়ি ঘুরিয়ে দিচ্ছে পুলিশ, পায়ে হেটেই ঈদযাত্রা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ১০:০৮ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০২০

গাড়ি ঘুরিয়ে দিচ্ছে পুলিশ, পায়ে হেটেই ঈদযাত্রা
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা অনুয়ায়ী জরুরি পরিবহন ব্যতিত সব ধরনের যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এরই মধ্যে মাঝে লকডাউন কিছুটা শিথিল করা হলেও, ঈদে যাতে নতুন করে মানুষ বাড়িতে ফিরতে না পারে সেজন্য আবারও জোড়ালো হয় নির্দেশনা।

বিগত বছরগুলোতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধুসেতু মহাসড়ক দিয়ে প্রায় ২২ থেকে ২৩ টি জেলার উত্তরবঙ্গগামী মানুষ ঈদে বাড়ি ফিরে। এতে ওই সময়ে মহাসড়কে প্রচন্ড চাপের সৃষ্টি হয়। আর এবার করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধুসেতু মহাসড়ক দিয়ে জরুরি ব্যতিত কেউ যাতে বাড়ি যেতে না পারে সে লক্ষ্যে মহাসড়কে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে।

আর এটি বাস্তবায়নের জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মহাসড়কের ৪ টি পয়েন্টে চেক পোস্ট বসানো হয়েছে। সেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যপরিবহন, অসুস্থ ব্যক্তি ও মন্ত্রণালয়ের অনুমতি রয়েছে এমন যানবাহন উত্তরবঙ্গের দিকে যেতে দেয়া হচ্ছে। আর অন্যান্য যাত্রীবাহী যানবাহনগুলো ঢাকার দিকে ঘুরিয়ে দেয়া হচ্ছে। ফলে উত্তরবঙ্গের ঘরমুখো মানুষগুলো পায়ে হেঁটেই তাদের গন্তব্যের দিকে রওনা হয়।

জেলা পুলিশ জানায়, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে জেলা পুলিশের সদস্যরা। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে যাতে কোন যাত্রীই ঈদে বাড়িতে যেতে না পারে তাই জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মহাসড়কে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মহাসড়কের মির্জাপুর, রাবনা, ভূঞাপুর লিঙ্গ রোড এবং বঙ্গবন্ধু সেতু গোল চত্বর এলাকায় বসানো হয়েছে চেক পোস্ট। এসব চেক পোস্টে কাজ করছেন পুলিশ সদস্যরা। জরুরি প্রয়োজন ব্যতিত বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে এসব চেক পোস্ট থেকেই।

বুধবার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহা সড়কের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় মহাসড়কের মির্জাপুরে চরপাড়া বাইপাস চেক পোস্টে যান। তখন তিনি নিজেই এসব কাজ তদারকি করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুরের চরপাড়া বাইপাস এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যপরিবহন, অ্যাম্বুলেন্স, অসুস্থ ব্যক্তি ও মন্ত্রণালয়ের অনুমতি রয়েছে এমন যানবাহন উত্তরবঙ্গের দিকে যেতে দিচ্ছেন। আর অন্যান্য যাত্রীবাহী যানবাহনগুলো ঢাকার দিকে ঘুরিয়ে দেয়া হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়েই পুণরায় তাদের ফিরে যেতে হচ্ছে। ফলে উত্তরবঙ্গেও ঘরমুখো মানুষগুলো পায়ে হেটেই তাদের গন্তব্যের দিকে রওনা হয়েছেন। কেউ কেউ ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা যোগে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ভেঙে ভেঙে যাচ্ছেন।

সিরাজগঞ্জের চাঁন মিয়া নামের এক শ্রমিক বলেন, ‘করোনার ঝুঁকি থাকলেও তো বাড়িতে যেতে হবে। কেউ তো আর কোথাও থাকতে দিবে না। যে টাকা উপার্জন করেছি সেই টাকা দিয়ে ছেলে-মেয়ের সাথে একত্রে ঈদ করতেই বাড়িতে যাচ্ছি। সড়কে গণপরিহন নেই। এজন্য পায়ে হেঁটেই বাড়ির দিকে রওনা হয়েছি।’

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সফিকুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুয়ায়ী ঢাকা থেকে কোন মানুষ যাতে বাড়িতে যেতে না পারে সেজন্য জেলা পুলিশের পক্ষে থেকে কাজ করা হচ্ছে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় এবং জরুরি গাড়িগুলো যেতে দেয়া হচ্ছে অপরদিকে অন্য সব যানবাহন ঢাকার দিকেই ফিরেয়ে দেয়া হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অনুয়ায়ী আমরা চাচ্ছি ঈদের সময় যে যেখানে আছে সেখানেই থাকুক। মহাসড়কের ৩ শিফটে প্রায় শতাধিক জেলা পুলিশের সদস্য কাজ করছেন। যে সকল গাড়ির কাগজপত্র নেই বিশেষ করে মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলাও দেয়া হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল-মহাড়কের পাশাপাশি টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কসহ অন্যন্য জনবহুল সড়কে পুলিশের চেক পোস্ট বসানো হয়েছে।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, মহাসড়কে জরুরি যানবাহন ব্যতিত অন্যসব গাড়িগুলোকে পুণরায় ঢাকার দিকে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। পুলিশের এ ধরনের কার্যক্রম চলমান থাকবে। জরুরি প্রয়োজন ব্যতিত এই মহাসড়ক দিয়ে অন্য জেলায় কেউ যেতে পারবে না।

এএএন/পিএসএস

 

 

: আরও পড়ুন

আরও