প্রতিবেশীদের কানাঘুষা, পরকিয়ার সন্দেহে স্ত্রীকে হত্যা
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০ | ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

প্রতিবেশীদের কানাঘুষা, পরকিয়ার সন্দেহে স্ত্রীকে হত্যা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ৬:৪৬ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০২০

প্রতিবেশীদের কানাঘুষা, পরকিয়ার সন্দেহে স্ত্রীকে হত্যা
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় নিজের গার্মেন্টসকর্মী স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন মিজানুর রহমান।

বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কাউছার আলমের আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন।

জবানবন্দিতে মিজানুর বলেন, পাশের বাড়িতে জসিম নামে এক যুবক থাকে। আমি বৃদ্ধ হওয়ায় পাশের বাড়ির নারীরা প্রায় সময় আমার স্ত্রীকে নিয়ে কানাঘুষা করতো। তার ব্যঙ্গ করে বলতো বুড়ার বৌকে জসিমের সঙ্গে বিয়ে দিব। আর বুড়াকে বিচ্ছেদ করাবো, বুড়া কোন কাজকর্ম করে না ঘরে বসে খায়। এসব কানাঘুষা শুনে মনে ক্ষোভ জমে।

ঘটনার দিন মঙ্গলবার সকালে মিজানুর তার স্ত্রী সুলতানা বেগমের কাছে জানতে চায় জসিমের সঙ্গে তার কোন পরকিয়ার সম্পর্ক আছে কিনা। উত্তরে সুলতানা বেগম বলেন এসব ফাও কথায় কান না দেয়াই ভাল। এ নিয়ে মিজানুর উত্তেজিত হয়ে সুলতানার সঙ্গে তর্কে জড়ায়। এক পর্যায়ে সুলতানা বেগম পাটার শিল ছুড়ে মারেন মিজানুর রহমানের ওপর। এ সময় মিজানের বুকে শিলটি হালকা লাগে। এরপর মিজানুরও সেই শিলটি উঠিয়ে পাল্টা সুলতানার দিকে ছুড়ে মারে। তখন শিলটি সুলতানার মাথায় লাগলে সে ঘরের মেঝেতে পড়ে যায়। এরপর আশপাশের লোকজন এসে সুলতানাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় আর মিজানুরকে বেধে রেখে থানায় খবর দেয়।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ডটি ক্ষোভ থেকেই ঘটানো হয়েছে। মিজানুরকে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জায় ঘটনার বিষয়ে আদালতে জবানবন্দি দেবে। তখন তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

উল্লেখ্য, নিহত সুলতানা বেগম (৪০) মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী থানার কামারখাড়া গ্রামের আব্দুল কাদের মিয়ার মেয়ে। আর গ্রেফতার মিজানুর রহমান চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানার সিংগা মঞ্জুল ধার বাড়ি গ্রামের মৃত. আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

মঙ্গলবার সকালে ফতুল্লার ভোলাইল আউয়াল মিয়ার ভাড়া বাড়িতে পাটার শিল দিয়ে মাথায় আঘাত করে সুলতানাকে হত্যা করে তার স্বামী মিজানুর। এ ঘটনায় সুলতানার বড় ভাই সফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন।

এপি/পিএসএস

 

: আরও পড়ুন

আরও