খুলনাকে ধসিয়ে দিলেন সেই ‘পুরোনো মোস্তাফিজ’
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি ২০২১ | ৭ মাঘ ১৪২৭

খুলনাকে ধসিয়ে দিলেন সেই ‘পুরোনো মোস্তাফিজ’

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০২০

খুলনাকে ধসিয়ে দিলেন সেই ‘পুরোনো মোস্তাফিজ’
অনেক দিন পর আজ সেই পুরোনো মোস্তাফিজের দেখা মিলল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে। সেই সাপের ফনা তোলা কার্যকরী বাউন্সার, ব্যাটসম্যানদের বিব্রত করা সেই কাটার, নিখূঁত লাইন-লেন্থ। সবকিছুই ছিল নিখূঁত। মোস্তাফিজের এমন অগ্নি-মুর্তির দিনে প্রতিপক্ষের অবস্থা কী হয়, সেটা সবারই জানা। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে আজ প্রতিপক্ষ জেমকন খুলনার অবস্থাও ঠিক তেমনই হয়েছে। মোস্তাফিজদের গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসানদের খুলনা।

বিধ্বস্ত মানে বিধ্বস্তই। মোস্তাফিজ, নাহিদুল, তাইজুলদের তোপের মুখে মাত্র ৮৬ রানেই গুটিয়ে যায় তারকাখচিত খুলনা। অলআউট হয় ১৭.৫ ওভারে। লিটন দাসের হাফসেঞ্চুরিতে চড়ে চট্টগ্রাম ১ উ্টকেট হারিয়ে ১৩.৪ ওভারেই পৌঁছে গেছে ৮৭ রানের জয়ের লক্ষ্যে। মানে ৬.২ ওভার বাকি থাকতেই মোস্তাফিজদের চট্টগ্রাম পেয়ে গেছে ৯ উইকেটের সহজ জয়।

দুই দিন আগে বেক্সিমকো ঢাকাকেও ঠিক এভাবেই বিধ্বস্ত করেছিল চট্টগ্রাম। মুশফিকের ঢাকাকে মাত্র ৮৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে সেদিনও পেয়েছিল ৯ উইকেটের জয়। নিজেকে ফিরে পাওয়ার বার্তা দিয়ে সেদিনও ২ উইকেট নিয়েছিলেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ। তবে মোস্তাফিজ নিজের সত্যিকারের রূপটা দেখালেন আজ, সাকিব-রিয়াদদের দলের বিপক্ষে।

মোস্তাফিজ নিজেকে ফিরে পেতে শুরু করেছেন আসল বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ থেকেই। ঘরোয়া ওই টুর্নামেন্টে নিয়মিতই উইকেট পেয়েছেন তিনি। মোস্তাফিজ সেই ধারাবাহিকতা টেনে আনেন বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেও। আর আজ তো নিজের সেই পুরোনো সেরা রয়পটাই দেখিয়ে দিলেন। ৩.৫ ওভার বোলিং করে রান দিয়েছেন মাত্র ৫টি! উইকেট নিয়েছেণ ৪টি! ৫ রানে ৪ উইকেট! একটা দলকে গুঁড়িয়ে দিতে আর কিছু লাগে!

না লাগলেও খুলনাকে ধসিয়ে দিতে আজ মোস্তাফিজের যোগ্য সমর্থনই দিয়েছেন নাহিদুল-তাইজুল। একটু ভুলই হলো আসলে। মোস্তাফিজকে নাহিদুল-তাইজুল সমর্থন দেননি। আজ আসলে মোস্তাফিজই সমর্থন দিয়েছেন নাহিদুল-তাইজুলকে। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা খুলনার ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিলেন নাহিদুল-তাইজুলই।

তাদের দুজনের তোপের মুখে মাত্র ৫৭ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে খুলনা। এক এক করে প্যাভিলিয়ে ফিরে যান এনামুল হক বিজয় (৬), তার ওপেনিং সঙ্গী সাকিব (৩), মাহমুদউল্লাহ (১), জহুরুল ইসলাম (১৪) ও ইমরুল কায়েস (২১)। এদের মধ্যে ওপেনার এনামুল হয়েছেন রানআউট। বাকি চারজনকে ফিরিয়ে দেন নাহিদুল-তাইজুল। দুজনেই নেন ২টি করে উইকেট।

৫৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে খুলনা বিপদে পড়ে যায় বটে। তবে তারপরও মাঝারি মানের একটা স্কোরের স্বপ্ন দেখছিল খুলনা। কারণ, তখনো ব্যাট করতে বাকি ছিলেন এই টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ব্যাটিং করা আরিফুল হক, শামীম হোসেন, শাহিদুল ইসলামরা। কিন্তু মোস্তাফিজের আগুনে মূর্তির দিনে সেই আরিফুল, শামীমরাও মাথা নুইয়েছেন। প্রথম ম্যাচে খুলনাকে নাটকীয় জয় এনে দেওয়া আরিফুল এ দিন মোস্তাফিজের অগ্নি-গোলার মুখে পড়ে ৩০ বলে নিয়েছেন মাত্র ১৫ রান। বাউন্সার আর কাটারের মিশ্রণ প্রদর্শনীতে খুলনার শেষ ৫ উইকেটের ৪টিই তুলে নিয়েছেন মোস্তাফিজ। অন্যটি রানআউট।

খুলনার ইনিংস শেষেই মূলত চট্টগ্রামের বড় জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। তবে ব্যাটিংয়ে নেমে জয়ের সেই আনুষ্ঠানিক সারতে মূখ্য ভূমিকা রেখেছেন ওপেনার লিটন দাস। সৌম্য সরকার নিয়ে উদ্বোধনী জুটিতেই তিনি তুলে ফেলেন ৭৩ রান। যে জুটিতে লিটন দাসের অবদানই ছিল বেশি। সৌম্য ২৯ বলে ২৬ রান করে আউট হয়ে গেলেও লিটন দাস মাঠ ছেড়েছেন দলের জয় সঙ্গী করে। তার আগে তিনি করেছেন টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম হাফসেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৪৬ বলে ৫৩ রান করে। তার সঙ্গী মুমিনুল হক অপরাজিত ছিলেন ৫ রানে। লিটন হাফসেঞ্চুরি করলেও ম্যাচ সেরার পুরষ্কারটি গেছে মোস্তাফিজের পকেটেই।

টানা দুই ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দিয়ে ৯ উইকেটের সহজ জয়। বোলারদের কাঁধে চেপে মোহাম্মদ মিঠুনের চট্টগ্রাম ছুটছে ধুমকেতুর মতোই। দুই ম্যাচে দুই জয়ে পয়েন্ট তালিকারও শীর্ষে উঠে গেছে তারা। দুই ম্যাচে দুই জয় পেয়ে তাদের সমান ৪ পয়েন্ট মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীরও। তবে রানরেটে চট্টগ্রামের চেয়ে পিছিয়ে রাজশাহী। অন্য দিকে প্রথম ম্যাচে নাটকীয়ভাবে জিতলেও খুলনা পরের দুই ম্যাচেই হারল যাচ্ছেতাই ভাবে। খুলনার পারফরম্যান্স দেখে মনেই হচ্ছে না এই দলটি মাহমুদউল্লাহ-সাকিব-ইমরুল-এনামুলদের মতো তারকাদের দিয়ে গড়া!

কেআর

 

আরও পড়ুন

আরও