মুশফিকের ঢাকাকে পিষিয়ে দিয়েছে চট্টগ্রাম
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২১ | ১৪ মাঘ ১৪২৭

মুশফিকের ঢাকাকে পিষিয়ে দিয়েছে চট্টগ্রাম

পরিবর্তন ডেস্ক ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৭, ২০২০

মুশফিকের ঢাকাকে পিষিয়ে দিয়েছে চট্টগ্রাম
৯.১ ওভার বাকি থাকতে ৯ উইকেটের জয়। টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জয়ের এই বিশাল ব্যবধানটাই বলে দিচ্ছে সব কিছু। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের চতুর্থ ম্যাচে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের কাছে পাত্তাই পায়নি মুশফিকুর রহিমের বেক্সিমকো ঢাকা। মিরপুরের শেরে বাংলায় মুশফিকের ঢাকাকে বলতে গেলে পিষে মেরেছে মোহাম্মদ মিঠুনের চট্টগ্রাম।

গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের এটাই ছিল টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচ। মানে চট্টগ্রাম টুর্নামেন্ট শুরু করল বিশাল জয় দিয়ে। অন্য দিকে ফেবারিট ঢাকা হার মানল নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচেই। উদ্বোধনী ম্যাচে মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীর কাছে শেষ বলে হারার পর কাল চট্টগ্রামের কাছে উড়েছে খড়কুটোর মতো।

চট্টগ্রামের দাপুটে জয়ের নায়ক বোলাররা। টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামা ঢাকাকে মাত্র ৮৮ রানেই প্যাকেট করে ফেলে চট্টগ্রামের ৬ বোলার। হ্যাঁ, ঢাকাকে হতাশায় ঢেকে ফেলতে চট্টগ্রামের ৬ বোলারই একযগে ঝাপিয়ে পড়েন। বল হাতে ৬ বোলারই পেয়েছেন উইকেট। তবে ৬ জনের মধ্যে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান ও তাইজুল ইসলাম-এই ৪ জনে নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। নাহিদুল ইসলাম ও সৌম্য সরকার নিয়েছেন ১টি করে উইকেট। চট্টগ্রামের বিশাল জয়টা মূলত খেলা হয়ে যায় ঢাকার ইনিংস শেষেই।

২০ ওভারে ৮৯ রানের জয় লক্ষ্য, এ আর এমন কি! জয়টাকে যতটা সহজ মনে হচ্ছিল, চট্টগ্রামের দুই ওপেনার লিটন দাস ও সৌম্য সরকারের মারকাটারি ব্যাটিংয়ে তা আরও সহজ হয়ে যায়! দুজনে মিলে মাত্র ৯.৪ ওভারেই তুলে ফেলেন ৭৯ রান। ৩৩ বলে ৩৪ রান করে লিটন দাস আউট হওয়ার পর মুমিনুল হক এসে ৩ বলে ৮ রান করে জয়কে আরও দ্রুত করেছেন। ১০.৫ ওভারে মাত্র ১ উইকেট চট্টগ্রাম ছুঁয়ে ফেলে লক্ষ্য, করে ফেলে ৯০ রান। অন্য ওপেনার সৌম্য সরকার অপরাজিত ২৯ বলে ৪৪* রান করে। যে ঝড়ো ইনিংসটিতে তিনি ২টি ছক্কা ও ৪টি চার মেরেছেন।

ব্যাটসম্যানদের কাজটা স্রেফ জয়ের আনুষ্ঠানিকতা ছিল মাত্র। ঢাকা হার মেনেছে নিজেদের ইনিংস শেষেই। ডুবিয়েছে ব্যাটসম্যানেরা। ৮৮ রানে অল আউট হওয়াটা ব্যাটসম্যানদের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলছে। তবে অন্য সবাইকে কাটগড়ায় তুললেও মোহাম্মদ নাঈমকে দায় দেওয়া যাবে না! বরং সমান ৩টি করে ছক্কা-চারে মাত্র ২৩ বলে ৪০ রান নাঈম বাহবাই পেতে পারতেন। কিন্তু অন্যদের ব্যর্থতায় তাকেও মুখ লুকাতে হয়েছে লজ্জায়।

নাঈম বাদে অন্যরা কতটা ব্যর্থ ছিলেন সেটি একটি তথ্যেই স্পষ্ট। দলীয় ৮৮ রানের মধ্যে নাঈম একাই করেছেন ৪০ রান। ৯ রান এসেছে অতিরিক্ত থেকে। বাকি ১০ ব্যাটসম্যান মিলে করেছেন ৩৯ রান! সেই ১০ জনের মধ্যে ৫ জনেরই নামের পাশে শূন্য। যার মধ্যে সাব্বির রহমান, অধিনায়ক মুশফিক, আবু হায়দার রনি ও রুবেল হোসেন-এই ৪ জন ডাক মেরেছেন। মেহেদি হাসান রানা ডাক লজ্জা পাননি, দিনি শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন!

এই ডাক পাওয়াদের মধ্যে অধিনায়ক মুশফিকের লজ্জাটা একটু বেশি। ঢাকার অধিনায়ক যে মেরেছেন ‘গোল্ডেন ডাক।’ মানে প্রথম বলেই আউট। রান পাওয়া ৫ ব্যাটসম্যানের মধ্যে দুজন করেছেন ২ রান করে। ওপেনার তানজিদ হাসান ও শাহাদাত হোসেন। এছাড়া মাসুম বিল্লাহ করেছেন ৮ রান। বাকি থাকা ‘দুই আলি’র মধ্যে আকবর আলি করেছেন ১৫, মুক্তার আলি ১২। স্কোরকার্ড যেন স্পষ্ট করেই বলছে, অধিনায়ক মুশফিকের নেতৃত্বে দলকে ডোবানোর মিছিলেই নেমেছিলেন ঢাকার ব্যাটসম্যানেরা!

এমন এক পেশে ম্যাচে যে কাজটা একটু কঠিন ছিল, তা হলো ম্যাচসেরা নির্বাচন। সমান দুটি করে উইকেট নেওয়া মোসাদ্দেক, শরিফুল, মোস্তাফিজ, তাইজুল ছাড়াও ব্যাট হাতে ঝড় তোলা সৌম্য সরকারও ছিলেন ম্যাচ সেরার দৌড়ে। তবে ৫ জনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ অ্যাডজুকেন্ডরা বেছে নিয়েছেন মোসাদ্দেককে। যিনি ২ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। সরাসরি বোল্ড করেছেন ঢাকার হয়ে একমাত্র কোমড় সোজা করে দাঁড়ানো মোহাম্মদ নাঈম ও আকবর আলিকে।

টানা দুই হারে নিশ্চিতভাবেই পয়েন্ট তালিকার সবার তলানিতে ঢাকা। নিজেদের দুই ম্যাচেই জিতে পূর্ণ ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী। প্রথম ম্যাচেই জিতে ২ পয়েন্ট পাওয়া চট্টগ্রাম রয়েছে ২ নম্বরে। দুই ম্যাচে এক জয় পাওয়া জেমকন খুলনা তিন নম্বরে। তাদেরও পয়েন্ট চট্টগ্রামের সমান ২। তবে খুলনা রানরেটে পিছিয়ে। ৪ নম্বরে রয়েছে ফরচুন বরিশাল। নিজেদের প্রথম ম্যাচে যারা গিলতে হয়েছে হারের তেতো স্বাদ।

কেআর

 

আরও পড়ুন

আরও