‘দ্বিতীয় জীবনে’ সাকিবকে অবিশ্বাস্য উপহার দিলেন আরিফুল
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি ২০২১ | ৭ মাঘ ১৪২৭

‘দ্বিতীয় জীবনে’ সাকিবকে অবিশ্বাস্য উপহার দিলেন আরিফুল

পরিবর্তন ডেস্ক ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৫, ২০২০

‘দ্বিতীয় জীবনে’ সাকিবকে অবিশ্বাস্য উপহার দিলেন আরিফুল
কিছু কিছু উপহার সত্যিই খুব স্পেশাল হয়। যে উপহারের মূল্য টাকার অঙ্কে নিরুপণ করা যায় না! আজীবন স্মৃতির ফ্রেমে গেথে রাখা হয়। গতকাল ফেরার ম্যাচে সাকিব আল হাসানকে তেমনই বিশেষ উপহার দিয়েছেন আরিফুল হক। উপহারটির নাম জয়।

দীর্ঘ এক বছরের নিষেধাজ্ঞাথেকে মুক্তির পর পোনে এক মাসের মতো মাঠে ফেরার অপেক্ষা। নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ‘দ্বিতীয় জীবনে’ পা দেওয়ার ম্যাচটিতে নিশ্চিতভঅবেই জয় কামনা ছিল সাকিবের। কাঙ্খিত সেই জয়টা পেয়েছেনও সাকিব। কিন্তু আকাঙ্খা পূরণে সাকিব নিজে তেমন কিছুই করতে পারেননি।

প্রথমে বল হাতে ৩ ওভারে ১৮ রান দিয়ে নিয়েছেন একটি উইকেট। পরে ব্যাট হাতে ১৬ বলে করেছেন মাত্র ১৫ রান। তারপরও ফেরার ম্যাচে তিনি জয় পেয়েছেন। কাল বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে সাকিব ও তার দল জেমকন খুলনার ৪ উইকেটের জয়টা একান্তই আরিফুল হকের উপহার। কী বিস্ময়করভাবেই না খুলনাকে জয়টা এনে দিয়েছেন আরিফুল! শেষ ওভারে ৪টি ছক্কা মেরে ৬ বলে ২২ রানের সমীকরণ মিলিয়ে দলকে জয় এনে দেওয়া, এটা তো স্বপ্নকেও হার মানানোর মতো ব্যাপার।

কাল মিরপুরের শেরে বাংলায় স্বপ্নকে হার মানানো কাণ্ডই করেছেন আরিফুল। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের দ্বিতীয় ম্যাচটাতে কাগজে-কলমে সাকিব-আরিফুলদের খুলনাই ছিল পরিষ্কার ফেবারিট। প্রতিপক্ষ ফরচুন বরিশালকে মাত্র ১৫২ রানে বেঁধে রেখে জয় সম্ভাবনার পথটাও তৈরি করে মাহমুদউল্লাহর তারকাখচিত খুলনা। মাত্র ১৫৩ রানের জয় লক্ষ্য, এনামুল হক বিজয়, ইমরুল কায়েস, সাকিব, মাহমুদউল্লাহদের খুলনার জন্য কাজটা আর কঠিন কি!

কিন্তু খুলনা ব্যাটিংয়ে নামার পরপরই চিত্রপটটা ভুজবাজির মতো পাল্টে যায়। স্কোরবোর্ডে মাত্র ৩৬ রান উঠতেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে ফেবারিট খুলনা। একে একে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান এনামুল, ইমরুল, মাহমুদউল্লাহ, সাকিব। খুলনার হারকে নিশ্চিত মনে করে যারা খেলা দেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন, ম্যাচ শেষে হয়তো আফসোসে কপাল চাপড়েছেন, শেষের কি নাটকটাই না মিস করেছেন তারা! আফসোস করেছেন আরিফুলের নাটকীয় ব্যাটিং কাণ্ড দেখতে না পেরে।

প্রথমে খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তোলার জন্য জুহুরুল ইসলামের সঙ্গে জুটি বাঁধেন আরিফুল। পঞ্চম উইকেটে তারা গড়েন ৪২ রানের জুটি। এরপর দলকে ৭৮ রানে রেখে জহুরুলের বিদায়ের পর আরিফুল জুটি বাঁধেন শামীম হোসাইনের সঙ্গে। কিন্তু দলকে এগিয়ে নিয়ে গেলেও উইকেট হারানোর চাপে তাদের ব্যাটিং ছিল অনেকটাই ধীরগতির। ফলে ধীরে ধীরে খুলনার আস্কিং রানরেটটা বাড়তে থাকে। শেষ দিকে তো খুলনার জয় সমীকরণটা আকাশে গিয়ে ঠেকে।

শেষ ৭ বলে খুলনার দরকার ছিল ২৮ রান, শেষ ৬ বলে ২২। এই সমীকরণও কি মেলানো সম্ভব? কিন্তু অবিশ্বাস্য মনে হওয়া ওই সমীকরণটাও মিলিয়ে দিয়েছেন শহিদুল-আরিফুল। যাতে আরিফুলই কেন্দ্রিয় চরিত্র। শহিদুল তার পার্শ্বচরিত্র মাত্র। অবশ্য শেষের এই অবিশ্বাস্য নাটকের শুরুটা শহিদুলই করেছেন। তাসকিন আহমেদের করা ১৯তম ওভারের শেষ বলটিতে ছক্কা মারেন তিনি।

অথচ ওই ছক্কার আগে ৬ বলে তিনি নিয়েছিলেন মাত্র ২ রান। সেই শহিদুলই দরকারের সময় মেরে বসেন ছক্কা। ৭ বলে ২৮ রানের সমীকরণটা নামিয়ে আনেন ৬ বলে ২২ রানের সমীকরণে।
শেষ ওভারে ২২ রান দরকার খুলনার। এই রান আটকাতে বরিশাল অধিনায়ক তামিম ইকবাল বল তুলে দিলেন পরীক্ষিত সৈনিক মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে। কাল টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেও শেষ ওভারটি করেছিলেন একজন মেহেদি। কিন্তু সেই মেহেদি মাত্র ৮ রান ডিফেন্ড করেও নিজ দল রাজশাহীকে পাইয়ে দেন জয়। তার কয়েকঘণ্টা পরই তারকা মেহেদী ২১ রানও ডিফেন্ড করতে পারলেন না। সেটা আরিফুল হঠাৎ দানবীয় রূপ নেওয়ার কারণে।

আরিফুলের শরীরে কোন অশূর শক্তি ভর করেছিল কে জানে। অদৃশ্য সেই শক্তির জোরে মেহেদীর প্রথম দুই বলেই দুই ছক্কা মেরে বসেন আরিফুল। তৃতীয় বলটি ডপ দিলেও চতুর্থ ও পঞ্চম বলে আবার দুটি ছক্কা। ৫ বলে ৪ ছক্কা মেরে এক বল বাকি থাকতেই নিজ দল খুলনাকে এনে দেন অবিশ্বাস্য নাটকীয় জয়। বরিশালের ৯ উইকেটে ১৫২ টপকে খুলনা করে ৬ উইকেটে ১৫৫ রান।

বিজয়ীর বেশে আরিফুল মাঠ ছাড়েন ৩৪ বলে ৪৮ রানের ইনিংস খেলে! যে ইনিংসে তিনি ৪টি ছক্কা মেরেছেন। সেই ৪টিই শেষ ওভারে। শেষ ওভারের ওই তাণ্ডবের আগে তিনি ২৯ বলে করেছিলেন ২৪ রান! সেই তিনিই শেষ ৫ বলে নেন ২৪ রান। সত্যিই সাকিবের ফেরার ম্যাচের জয়টা আরিফুল বিরোচিতের স্বাক্ষীই হয়ে থাকবে!

কেআর

 

আরও পড়ুন

আরও