ফেবারিট ঢাকাকে হারিয়ে দিলেন রাজশাহীর মেহেদি
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি ২০২১ | ৭ মাঘ ১৪২৭

ফেবারিট ঢাকাকে হারিয়ে দিলেন রাজশাহীর মেহেদি

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৭:৩০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৪, ২০২০

ফেবারিট ঢাকাকে হারিয়ে দিলেন রাজশাহীর মেহেদি
প্রথমে ব্যাট হাতে ৭ নম্বরে নেমে ৩২ বলে ৫০ রান। পরে বল হাতে ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে একটি উইকেট। টি-টোয়েন্টি ম্যাচে এমন অল-রাউন্ড পারফরম্যান্সের পর জয় হাসিটা মেহেদি হাসানের প্রাপ্যই ছিল। তা আজ বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে জয় হাসি হেসেছেনও মেহেদি হাসান। জিতেছে তার দল মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী। তবে জয় পেতে ঢাকাকে ঘাম ছোটাতে হয়েছে। পুড়তে হয়েছে টেনশনের আগুনে। রাজশাহীর ২ রানের জয় স্পষ্ট করেই বলছে, হারার আগে জমাট লড়াই করেছে মুশফিকুর রহিমের বেক্সিমকো ঢাকা।

দলীয় শক্তিমত্তার ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবেই মুশফিকের ঢাকা ফেবারিট। কিন্তু রাজশাহীর ছিল একজন মেহেদি হাসান। ব্যাটে-বলে জ্বলে উঠে দুই দলের মধ্যে পার্থক্যটা গড়ে দিয়েছেন মূলত তিনিই। ম্যাচ জেতানো অল-রাউন্ড নৈপূণ্যের সুবাদে ম্যাচসেরার পুরস্কারটিও পেয়েছেন খুলনার এই তরুণ।

টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাওয়া ৫ দলের খেলোয়াড়েরাই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, জমজমাট লড়াইয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টটাকে আকর্ষণীয় করে তুলবেন। প্রথম ম্যাচে অন্তত সেই প্রতিশ্রুতি শতভাগ রক্ষা করেছেন রাজশাহী ও ঢাকার ক্রিকেটাররা। দমবন্ধ করা উত্তেজনাকর এক ম্যাচই হয়েছে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে। প্রথমে ব্যাট করে রাজশাহী গড়ে ৯ উইকেটে ১৬৯ রানের পুঁজি। জবাবে ঢাকা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উিইকেট হারিয়ে করতে পেরেছে ১৬৭ রান।

জয়ের জন্য শেষ ওভারে ঢাকার দরকার ছিল ৯ রান। টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৫ উইকেট হাতে থাকা দলের জন্য সমীকরণটা সহজ! কিন্তু সহজ সেই সমীকরণটাই ঢাকার জন্য অতিক্রম্য করে তুলেছেন মেহেদি হাসান। ব্যাট হাতে চার-ছক্কার ফোয়ারা ফুটিয়েছেন। বল হাতেও আগে করা ৩ ওভারে ঘুর্ণির মায়াজাল ছড়িয়েছেন। সব বিবেচনা করে রাজশাহী অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শেষ ওভারটি করার জন্য তাই মেহেদির হাতেই বল তুলে দেন। মেহেদি তার মর্যাদা রেখেছেন শেষ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে। দলকে জয় এনে দিয়ে।

অবশ্য জয়ের হাসি হাসানোর আগে অধিনায়ককে টেনশনেও পুড়িয়েছেন। শেষ ওভারটিতে একটি নো-বল করেছেন মেহেদি। যে নো বলের সুবাদে ঢাকা পেয়েছিল ফ্রি হিট। কিন্তু ফ্রি হিটটিকে কাজে লাগাতে পারেননি ঢাকার মুক্তার আলি। কোনো রানই তিনি নিতে পারেননি। মেহেদির শেষ ওভারটির বিবরণ ছিল এমন, প্রথম ৩ বলে কোনো রান নিতে পারেননি মুক্তার। তবে চতুর্থ বলে চার মেরে দেন তিনি। শেষ দুই বলে দরকার ৫ রান। ঠিক তখনই নো-বল করে বসেন মেহেদি। অতিরিক্ত হিসেবে ১ রান পেয়ে যাওয়ায় ঢাকার জন্য সমীকরণটা নেমে আসে ২ বলে ৪ রান।

দুই বলের একটি আবার ফ্রি হিট ছিল। ফলে তখনো ঢাকার জয়ের পাল্লাই ভরি মনে হচ্ছিল। ফ্রি হিটে একটা চার মেরে দিলেই তো ম্যাচ শেষ! চার মারা র্দূরে থাক, ফ্রি হিটের বলে মুক্তার কোনো রানই নিতে পারেননি। দলকে জেতাতে হলে শেষ বলে তাই তাকে অন্তত চার মারতে হতো। কিন্তু নিজের দিনে মেহেদি কী তা হতে দিতে পারেন! শেষ বলের দমবন্ধ করা উত্তেজনাতেও মেহেদিই জয়ী। ৪ দরকারের বলে মুক্তার নিতে পারেন মাত্র ১ রান।

দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া ম্যাচে টস জিতে প্রতিপক্ষকে ব্যাটিংয়ে পাঠান ঢাকার অধিনায়ক মুশফিক। তা মুশফিকের আমন্ত্রণে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী শুরুটা ভালোই করেছিল। উদ্বোধনী জুটিতে তুলে ৩১ রান। কিন্তু এরপর দ্রুতই আরও ৪ উইকেট হারিয়ে রাজশাহী হয়ে পড়ে ৫ উইকেটে ৬৫ রানের দল। ঠিক তখনই ব্যাট হাতে মাঠে নামেন মেহেদি। দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলার জন্য জুটি বাঁধেন উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান নুরুল হাসানের সঙ্গে। ষষ্ঠ উইকেটে ৮৯ রানের জুটি গড়ে সেই লড়াইয়ে জয়ীও হয়েছেন তারা। তাদের এই জুটিতে চড়েই রাজশাহী পায় ১৬৯ রানের নির্ভরযোগ্য পুঁজি। যে জুটিতে মেহেদির অবদানই বেশি।

৩২ বলে ৫০ রানের ইনিংসে ৩টি চার ও ৪টি ছক্কা মেরেছেন তিনি। নুরুল হাসান ২০ বলে খেলেছেন ৩৯ রানের ইনিংস। ২ চারের সঙ্গে ৩টি ছক্কা মেরেছেন তিনি। এছাড়া ওপেনার আনিসুল ইসলাম ইমন করেছেন ২৩ বলে ৩৫ রান। অধিনায়ক নাজমুল ১৬ বলে ১৭ এবং শেষ দিকে ফরহাদ রেজা ৬ বলে করেছেন অপরাজিত ১১ রান।

১৭০ রানের জয়ের লক্ষ্যে ঢাকা ৫৫ রানেই হারিয়ে ফেলে ৩ উইকেট। এরপরও দলকে ঢাকাকে জয়ের পথে নিয়ে যান অধিনায়ক মুশফিক, আকবর আলি ও মুক্তার আলি। কিন্তু অল্পের জন্য শেষ রক্ষা তাদের হয়নি। মুশফিক ৩৪ বলে ৪১, আকবর আলি ২৯ বলে ৩৪ ও মুক্তার আলি ১৬ বলে খেলেছেন অপরাজিত ২৭ রানের ইনিংস।

রাজশাহীর বোলারদের মধ্যে মেহেদি ছাড়াও একটি করে উইকেট নিয়েছেন এবাদত, আরাফাত সানি ও ফরহাদ রেজা।

কেআর

 

আরও পড়ুন

আরও