নেইমার-ইকার্দিদের শূন্যতা বুঝতেই দিলেন না এমবাপে
Back to Top

ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০ | ১৫ কার্তিক ১৪২৭

নেইমার-ইকার্দিদের শূন্যতা বুঝতেই দিলেন না এমবাপে

পরিবর্তন ডেস্ক ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২০

নেইমার-ইকার্দিদের শূন্যতা বুঝতেই দিলেন না এমবাপে
দলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমারকে ছাড়াই কাল মাঠে নামতে হয় পিএসজিকে। খেলেননি আক্রমণভাগের দুই আর্জেন্টাইন সৈদিন মাউরো ইকার্দি ও অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়াও।

কিন্তু পিএসজির মাঠের পারফরম্যান্সে বোঝাই যায়নি যে, ম্যাচটি তারা নেইমার, ইকার্দি, ডি মারিয়াকে ছাড়াই খেলছে। তাদের অভাব অনুভূত না হওয়ার কারণ কিলিয়ান এমবাপে। ফরাসি বিস্ময়বালকের অবিশ্বাস্য কারিশমায় তারপরও বরং পিএসজি পেয়েছে বড় জয়।

প্রতিপক্ষ নিমের মাঠ থেকে পিএসজি ফিরেছে ৪-০ গোলের জয় নিয়ে। নেইমার-ইকার্দিদের শূন্যতা দূর করে এমবাপে করেছেন জোড়া গোল। দলের অন্য গোল দুটি করেছেন আলেসান্দ্রো ফ্লোরেঞ্জি ও পাবলো সারাবিয়া।

না, আবার বিতর্কিত কোনো ঘটনা বা চোট বাঁধিয়ে বসেননি নেইমার।

পুরোপুরি সুস্থই আছেন ব্রাজিল তারকা। পূর্ণ ফিট থাকার পরও কাল ক্লাব পিএসজির হয়ে নেইমারের না খেলার কারণটা অন্য। বুধবার ব্রাজিল-পেরুর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচটি একটু দেরিতেই শেষ হয়েছিল। নেইমার তাই ইউরোপের সময়ের পার্থক্যের কারণে সময় মতো পৌঁছতে পারেননি। ফলে বাধ্য হয়েই পিএসজিকে স্কোয়াডের বাইরে রাখতে হয় নেইমারকে। তার সঙ্গে ইকার্দি ও ডি মারিয়াকেও বিশ্রাম দিয়েছিলেন পিএসজির জার্মান কোচ টমাস টাচেল।

এই ত্রয়ীর অবর্তমানে আক্রমণের নেতৃত্ব দেন এমবাপে। গোল করে দলকে জয় এনে দেওয়ার গুরু দায়িত্বও উঠে তার কচি কাঁধে। ফরাসি তরুণ নিজের সেই দায়িত্বটা অত্যন্ত সার্থকতার সঙ্গেই পালন করেছেন।

ফ্লোরেঞ্জি-সারাবিয়াদের সঙ্গে নিয়ে খেলেছেন দাপটের সঙ্গেই। অবশ্য মাঠে পিএসজির একচ্ছত্র দাপটের পেছনে ছিল অন্য একটি কারণও। ম্যাচের ১২ মিনিটেই ১০ জনের দলে পরিণত হয় স্বাগতিক নিম।

বিধি-বহির্ভূতভাবে কড়া ট্যাকল করে সরাসরি লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন নিমের ডিফেন্ডার লইক ল্যান্ডলে।

এমবাপের নেতৃত্বে সফরকারী পিএসজি এর ফায়দাটা লুফে নিয়েছে দারুণভাবে। একদিকে ম্যাচের শুরুর দিকেই একজন খেলোয়াড় কমে যাওয়া। অন্যদিকে প্রতিপক্ষের ফরোয়ার্ড এমবাপের অবিশ্বাস্য রূপে জ্বলে ওঠা, দুইয়ে মিলে নিম মাঠে পাত্তাই পায়নি। সেই সুযোগে এমবাপে, ফ্লোরেঞ্জি, সারাবিয়ারা আদায় করে নিয়েছেন একের পর এক গোল।

পিএসজি প্রথম লিড পায় ৩২ মিনিটে। দারুণ এক গোল করে দলের জয়ের রাস্তা খুলেন এমবাপে। ম্যাচের ৭৭ মিনিট পর্যন্তও এই ১ গোলেই এগিয়ে থাকতে হয় পিএসজিকে। একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে খেলেও নিম দাঁতে দাঁত চেপে পিএসজির আক্রমণ রুখে গেছে। কিন্তু কতক্ষণ আর দাঁত কামড়ে অসম লড়াই করা! শেষ দিকে তাই ধসে পড়ে নিমের প্রতিরোধ দেয়াল। শেষের ১৩ মিনিটের মধ্যেই তাই পিএসজি আদায় করে নেয় আরও ৩টি গোল। ৭৭ মিনিটে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন আলেসান্দ্রো ফ্লোরেঞ্জি। এর ৫ মিনিট পর নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোলটি করেন এমবাপে। ৮৮ মিনিটে নিমের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়েছেন সারাবিয়া।

দারুণ এই জয়ে ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানে আবার শীর্ষস্থান ফিরে পেয়েছে পিএসজি। সেজন্য অবশ্য দিগুকে ধন্যবাদ দিতে হবে পিএসজিকে। কারণ কাল দিনের অন্য ম্যাচে পুঁচকে দিগু শীর্ষে থাকা রেনেকে রুখে দিয়েছে বলেই বর্তমানে শীর্ষে পিএসজি। দিগু-রেনের ম্যাচটি শেষ হয়েছে ১-১ গোলে। এই ড্রয়ের পরও অবশ্য রেনের পয়েন্ট শীর্ষে থাকা পিএসজির সমান ১৫। পিএসজি এক নম্বরে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকার সুবাদে। পিএসজি-রেনে, দুই দলই খেলেছে সমান ৭টি করে ম্যাচ।

শীর্ষস্থান নিয়ে পিএসজি-রেনের লড়াইটা সত্যিই বেশ জমে উঠেছে।

কেআর

 

আরও পড়ুন

আরও