অধিনায়ক বদলেও মুম্বাই-জুজু কাটল না কলকাতার
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২০ | ১৭ কার্তিক ১৪২৭

অধিনায়ক বদলেও মুম্বাই-জুজু কাটল না কলকাতার

পরিবর্তন ডেস্ক ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২০

অধিনায়ক বদলেও মুম্বাই-জুজু কাটল না কলকাতার
প্রতিপক্ষ মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। যাদের বিপক্ষে ম্যাচ হারাটা যেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের জন্য নিয়ম হয়ে গেছে! এমন কঠিন ম্যাচের আগে কিনা কলকাতা শিবির বিশৃঙ্খলার প্রবল ঢেউয়ে কম্পমান।

ম্যাচ শুরুর ঘণ্টা তিনেক আগে খবর ছড়িয়ে পড়ে, কলকাতার অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিয়েছেন দিনেশ কার্তিক। তিনি নেতৃত্বভার তুলে দিয়েছেন ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক এউইন মরগানের হাতে।

এই খবরের সত্যতা মিলল টস পর্বেই। কার্তিকের পরিবর্তে হঠাৎ অধিনায়কত্ব পাওয়া মরগানই এলেন টস করতে। কিন্তু মরগান অধিনায়কত্ব নিয়েও কলকাতার মুম্বাই-জুজু কাটাতে পারলেন না।

বরং কালও কলকাতা ম্যাচ হারল যাচ্ছেতাই ভাবে। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং-তিন বিভাগের কোনোটিতেই মুম্বাইয়ের কাছে পাত্তা পায়নি কলকাতা। অনেকটা একপেশে ম্যাচে ৮ উইকেটে জিতে মুম্বাইই উঠে গেছে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে। ৮ ম্যাচে ৬ জয়ে ১২ পয়েন্ট হলো মুম্বাইয়ের। সমান ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসেরও পয়েন্ট সমান ১২।

তবে মুম্বাই ১ নম্বরে রানরেটে এগিয়ে থাকায়। দিল্লি দুইয়ে। কালকের হারের পরও ৮ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার ৪ নম্বরে শাহরুখ খানের কলকাতা।

আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে কাল ম্যাচটি সরাসরি দেখার জন্য মেয়ে সোহানাকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে হাজির হয়েছিলেন বলিউড কিং শাহরুখ খান। কিন্তু তাদের বাড়ি ফিরতে হয়েছে হারের তেতো স্বাদ গিলে, বিষাদ বদনে। দিনেশ কার্তিকের জায়গায় অধিনায়ক মরগান। কলকাতার ভক্ত-সমর্থকেরা হয়তো এই অধিনায়কত্ব পরিবর্তনের মধ্যে নতুন করে একটা স্বপ্ন সাজানোর উপলক্ষ্যই পেয়েছিলেন।

কারণ মুম্বাইয়ের বিপক্ষে ম্যাচ হারাটাকে যেন নিজেদের নিয়তি বানিয়ে ফেলেছে কলকাতা। মুম্বাইয়ের মুখোমুখি হলেই অজানা এক ভয় এসে কম্পন তুলে কলকাতা শিবিরে। অধিনায়ক বদলে সেই ভয়টা যদি কাটে! এমনটাই হয়তো আশা করেছিলেন কলকাতার সমর্থকেরা। মরগান ভক্ত-সমর্থকের প্রথম হাসিটা হাসানও। সেটি টস জিতে।
কিন্তু ওই টস জয় পর্যন্তই। মাঠের লড়াই শুরু হতেই উবে যায় কলকাতার সেই হাসি। তার যায় ঠাই নেয় মুম্বাইয়ের কাছে আরেকটি হারের শঙ্কা। শেষ পর্যন্ত সেই শঙ্কাই সত্যি।

টস জিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রথমে ব্যাটিং নেন মরগান। কিন্তু ব্যাটিংয়ে নামতেই অধিনায়কত্ব ইস্যু নিয়ে কলকাতার ড্রেসিংরুমের অস্থিরতাটা ফুটে উঠে। কলকাতার ব্যাটসম্যানদের শারীরিক ভাষাই বলে দিচ্ছিল, তাদের ড্রেসিংরুমে অস্থির হাওয়া বইছে। মনে অভ্যন্তরিণ কোন্দলের অস্থিরতা।

ওদিকে প্রবল প্রতিপক্ষ মুম্বাইয়ের বোলারদের অগ্নি-ঘোলা। দুইয়ে মিলে ব্যাটিংয়ের শুরুতেই হেরে বসে কলকাতা। ৬১ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে রীতিমতো ধুকতে থাকে। কলকাতা ম্যাচটা আসলে হেরে যায় তখনই!

কিন্তু ম্যাচ হারলেও ন্যুনতম লড়াইটা তো করতে হবে! অধিনায়কত্বের গুরু দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে সেই দায়টাই যেন বুঝলেন মরগান। দলকে লড়াকু অবস্থানে টেনে তোলার দায়িত্বও তিনি তুলে নিলেন নিজের কাঁধে। যে কাজে তাকে সহায়তা করতে এগিয়ে এলেন এবারের আইপিএলের সবচেয়ে দামী বিদেশি ক্রিকেটার প্যাট কামিন্স।

অস্ট্রেলিয়ান অল-রাউন্ডার বরং দায়িত্বটা পালনে অধিনায়ক মরগানের চেয়েও বড় ভূমিকা রাখলেন। দলকে টেনে তোলার কাজে দুজনে মিলে গড়লেন ৮৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। তাতে কলকাতার সংগ্রহ ৬১ থেকে ১৪৮-এ গিয়ে ঠেকে।

মরগান ২৯ বলে করেন অপরাজিত ৩৯। তাকে ছাপিয়ে যাওয়া কামিন্স ৩৬ বলে করেন অপরাজিত ৫৩। যে ইনিংসটি তিনি সাজান ২টি ছক্কা ও ৫টি চারের সহায়তায়। আবুধাবির পিচটা মন্থর ছিল। তাই বলে মাত্র ১৪৮ রান করে পরাক্রমশালী মুম্বাইকে রুখে দেওয়া যায়! বিশেষ করে যে দলটিতে রোহিত শর্মা ও কুইন্টন ডি ককের মতো দুই ওপেনার আছে। কলকাতা তাই আটকাতে পারেওনি মুম্বাইকে। বরং মুম্বাই অনেকটা হেসে-খেলে ১৯ বল বাকি থাকতেই তুলে নিয়েছে ৮ উইকেটের জয়।

১৪৯ রানের লক্ষ্যে রোহিত-ডি কক উদ্বোধনী জুটিতেই তুলে ফেলেন ৯৪ রান। সেটিও মাত্র ১০.৪ ওভারে। দলীয় ৯৪ রানে অধিনায়ক রোহিত আউট হওয়ার পরও তাই মুম্বাইয়ের জয়ের পথ এতটুকু পিচ্ছিল হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকান কুইন্টন ডি কক বরং একপ্রান্ত আগলে রেখে দলের জয়ের পথটা সহজ করে দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত জয় সঙ্গে নিয়েই তিনি ফিরেছেন প্যাভিলিয়নে। খেলেছেন ৪৪ বলে ৭৮ রানের হার না মানা ম্যাচ জয়ী ইনিংস। ৩টি ছক্কা ও ৯ চারে সাজানো যে ইনিংসটি ডি কককে এনে দিয়েছে ম্যাচ সেরার পুরস্কারও।

রোহিতের পর সূর্য কুমার যাদবও ফিরে যান দ্রুত। তিনি আউট হন মাত্র ১০ রান করে। এরপর হার্দিক পাণ্ডিয়াকে সঙ্গে নিয়ে জয়ের বাকি কাজটুকু অনায়াসেই সেরেছেন কুইন্টন ডি কক। ১টি ছক্কা ও ৩ চারে পাণ্ডিয়া মাত্র ১১ বলে খেলেছেন অপরাজিত ২১ রানের ইনিংস।

এ নিয়ে আইপিএলে দুই দলের ২৭ সাক্ষাতের মধ্যে ২১টিতেই হারল কলকাতা। এবারের আসরে হারল গ্রুপপর্বের দুই সাক্ষাতেই। কলকাতার মুম্বাই-জুজুটা এতেই স্পষ্ট। সামনের আসরে কলকাতার এই মুম্বাই-জুজু নিশ্চয় আরও ভয়ঙ্কর রূপ নেবে!

কেআর

 

আরও পড়ুন

আরও