৭ ম্যাচ পর সুযোগ পেয়েই নিজেকে প্রমাণ করলেন গেইল!
Back to Top

ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০ | ১৫ কার্তিক ১৪২৭

৭ ম্যাচ পর সুযোগ পেয়েই নিজেকে প্রমাণ করলেন গেইল!

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২০

৭ ম্যাচ পর সুযোগ পেয়েই নিজেকে প্রমাণ করলেন গেইল!
প্রশ্ন উঠতে পারে, ক্রিস গেইল টি-টোয়েন্টির সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। তার আবার নতুন করে প্রমাণ করার কী আছে? এমনিতে হয়তো নেই। কিন্তু এবারের আইপিএলে তার দল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের টিম ম্যানেজমেন্ট তার সঙ্গে যে অবহেলা-অবজ্ঞার খেলা খেলেছে, তাতে নিজেকে প্রমাণ করাটা তার জন্য অপরিহার্য ছিল। এক এক ৭টি ম্যাচ খেলে পাঞ্জাব। কিন্তু বয়সের দোহাই দিয়ে গেইলকে একটি ম্যাচেও মাঠে নামায়নি পাঞ্জাব। সতীর্থরা মাঠে খেলেছেন, আর টি-টোয়েন্টির সবচেয়ে বড় তারকা রিজার্ভ বেঞ্চে বসে অসহায় করতালি বাজিয়ে গেছেন শুধু!

তাতেও হয়তো প্রশ্ন উঠত না, যদি তাকে ছাড়াই পাঞ্জাব জয়ের পতাকা পতপত করে উড়াতে পারত। কিন্তু পাঞ্জাব সেটা পারেনি। বরং হয়েছে উল্টোটা। নিজেদের প্রথম ৭ ম্যাচের মধ্যে জিততে পারে ১টিতে। ৭ ম্যাচের ৬টিতেই হেরে দেওয়ালে ঠিক ঠেকে যায় পাঞ্জাবের। যাতে সমীকরণটা দাঁড়ায় এমন, কোয়ালিফায়ারে উঠতে হলে পাঞ্জাবকে পরের সবগুলো ম্যাচেই জিততে হবে! কঠিন এই পরিস্থিতিতে গতকাল নিজেদের ৮ম ম্যাচে এসে গেইলের স্মরণাপন্ন হয় পাঞ্জাবের টিম ম্যানেজমেন্ট।

রিজার্ভ বেঞ্চ থেকে গেইলকে নামিয়ে দেয় মাঠে। বাধ্য হয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের ফসলও পেয়েছে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। টানা ৫ ম্যাচে হারের পর কাল জয় পতাকা উড়িয়েছে পাঞ্জাব। টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলতে থাকা রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে হারিয়েছে ৮ উইকেটে। পেয়েছে নিজেদের দ্বিতীয় জয়। আর পাঞ্জাবের এই দ্বিতীয় জয়ে গেইলের ভূমিকা অনেক। দলকে ভুলে যাওয়া জয়ের স্বাদ পাইয়ে দিতে ক্যারিবীয় দানব প্রথম খেলার সুযোগ পেয়েই করেছেন হাফ সেঞ্চুরি। বুঝিয়ে দিয়েছেন, বুড়ো বলে তাকে বসিয়ে রেখে ঠিক করে পাঞ্জাবের টিম ম্যানেজমেন্ট।

না, মাঠে নেমেই গেইল তার অতি-মানবীয় রূপ দেখাতে পারেননি। আসলে তিনি তা দেখাতে যানওনি। বরং নিজেকে সংযত রেখে অত্যন্ত সার্থকতার সঙ্গে মিটিয়েছেন দলের প্রয়োজন। মানে ওয়ান ডাউনে নামা তার কাছে দলের যে চাহিদা ছিল, গেইল তা দক্ষতার সঙ্গেই পূরণ করেছেন।

প্রথমে ব্যাট করে বেঙ্গালুরু গড়ে ৬ উইকেটে ১৭১ রানের পুঁজি। ১৭২ রানের জয়ের লক্ষ্যে পাঞ্জাবের দুই ওপেনার অধিনায়ক লোকেশ রাহুল ও মায়াঙ্ক আগারওয়াল উদ্বোধনী জুটিতেই তুলে ফেলেন ৭৮ রান। আগারওয়াল ঝড়ে তারা এই রানটাও তুলে ফেলে মাত্র ৮ ওভারে। উদ্বোধনী জুটির এনে দেওয়া শক্ত এই ভিতের উপর দাঁড়িয়ে দরকার ছিল দেখে-শুনে খেলে পথ হারা দলকে জয়ের পথ দেখানো। অধিনায়ক লোকেশ রাহুলের সঙ্গে জুটি বেঁধে গেইল দলের সেই প্রয়োজনটা দারুণভাবেই মিটিয়েছেন।

খেলেছেন ৪৫ বলে ৫৩ রানের সময়োপযোগী এক ইনিংস। দারুণ এই ইনিংসটির পথে যে বলে ধৈর্য দেখানোর কথা, তাতে ধৈর্য দেখিয়েছেন। আবার মারার বলে ঠিকই ব্যাট চালিয়েছেন নিজের স্বভাবসুলভ ভাবে। ৫৩ রানের ইনিংসে ৫টি ছক্কার মার সেই সাক্ষ্যই দেয়। সঙ্গে মেরেছেন একটি চারও। দলকে জয়ের পথে নিলেও গেইল অবশ্য জয় সঙ্গে নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেননি। পাঞ্জাবের স্কোর যখন বেঙ্গালুরুর সমান ১৭১, ঠিক তখনই জয়সূচক রানটি নিতে গিয়ে রান আউট হয়ে যান গেইল। তার বিদায়ের পর তারই স্বদেশি নিকোলাস পুরান এসে নিজের প্রথম বলেই ছক্কা মেরে শেষ করেন ম্যাচ। টানা ৫ হারের পর পাঞ্জাব মেতে উঠে জয়ের উৎসবে।

মার-কাটারি ব্যাটিং করেননি। পাননি ম্যাচসেরার পুরষ্কারও। সেটি পেয়েছেন তারই সতীর্থ অধিনায়ক লোকেশ রাহুল। ওপেনিংয়ে নেমে যিনি খেলেছেন ৪৯ বলে ৬১ রানের হার না মানা ইনিংস। গেইলের মতো লোকেশ রাহুলও নিজের ইনিংসে ৫টি ছক্কা এবং ১টি চার মেরেছেন। তার আগে মায়াঙ্ক আগারওয়াল ঝড় তুলে ২৫ বলে খেলেন ৪৫ রানের ইনিংস। যে ইনিংসে তিনি সাজান ৩টি ছক্কা ও ৪টি চারের সহায়তায়।

এর আগে বেঙ্গালুরুর স্কোর ১৭১ তেই আটকে যাওয়ার কারণ, দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এবি ডি ভিলিয়ার্স এদিন সুবিধা করতে পারেননি। মাত্র ২ রান করে আউট হয়ে যান তিনি। তার সঙ্গে বেঙ্গালুরুর বাকি ব্যাটসম্যানরাও তেমন কিছু করতে পারেননি। একমাত্র অধিনায়ক বিরাট কোহলিই শুধু ব্যাট হাতে যা একটু কারিশমা দেখিয়েছেন। খেলেছেন ৩৯ বলে ৪৮ রানের ইনিংস। বেঙ্গালুরুর সংগ্রহটা আরও কম হতো, যদি শেষ দিকে ক্রিস মরিসের ৮ বলে ২৫ রানের ঝড়টি না তুলতেন।

যাই হোক, গেইল ছোঁয়ায় পাওয়া এই জয়ে কোয়ালিফায়ারের স্বপ্নটা আবার জ্বলে উঠল পাঞ্জাব শিবিরে। তবে স্বপ্নটা বাস্তবায়ন করতে হলে পাঞ্জাবকে গ্রুপপর্বের বাকি সবকটি ম্যাচই জিততে হবে। পাঞ্জাব নিজেদের এই স্বপ্নটা নিশ্চয় এখন গেইলকে কেন্দ্র করেই সাজাবে?

কেআর

 

আরও পড়ুন

আরও