আকবর আলি: এক বিশ্বজয়ী অধিনায়কের গল্প
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২০ | ২৬ চৈত্র ১৪২৬

আকবর আলি: এক বিশ্বজয়ী অধিনায়কের গল্প

পরিবর্তন ডেস্ক ২:৫৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২০

আকবর আলি: এক বিশ্বজয়ী অধিনায়কের গল্প

ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছে বাংলাদেশ। বিশ্বের তাবৎ শক্তিশালী দলকে হারিয়েই বিশ্বজয় করেছে বাংলাদেশের যুবারা। টুর্নামেন্ট জুড়েই দুর্দান্ত খেলেছে বাংলাদেশ দল। অনন্য এই জয়ে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন আকবর আলি নামে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ।

বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবরের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ তেমন আগ্রাসী নয়। বরং বেশ ঠাণ্ডা মাথায় দলকে নেতৃত্ব দেন তিনি। নেপথ্যে থাকতেই পছন্দ করেন তিনি।

আকবরের জন্ম রংপুরে, ২০০১ সালের ৮ অক্টোবর। সপ্তম শ্রেণিতে থাকাকালীনই ক্রিকেটে হাতেখড়ি তার। এরপর ভর্তি হন বাংলাদেশ ক্রীড়া-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি)। বিকেএসপির অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে প্রথম লিস্ট এ ম্যাচ খেলেন তিনি গেল বছর ৮ মার্চ আবাহনীর বিপক্ষে। এখন পর্যন্ত ১৩টি লিস্ট এ ম্যাচে তার মোট রান ২৯৫। সর্বোচ্চ ৫৬। টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন ২টি। তাতে রান করেছেন ৮৫ রান।

যুব বিশ্বকাপে দলের নেতৃত্ব পেয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী আকবর ঘোষণা করেন, তার দল শুধু নক আউট পর্বেই যাবে না, জিতবে শিরোপাও। যদিও তার সে বক্তব্য খুব একটা গুরুত্বের সাথে নেয়নি কেউই। কারণ এর আগে তখনও যুব বিশ্বকাপের সেই ফাইনালেও যেতে পারেনি বাংলাদেশ।

তবে আসর যত এগিয়েছে পৃথিবীর সামনে ততোই পরিষ্কার হচ্ছিল বাংলাদেশের শক্তি। ধীরে ধীরে বিশ্ব বুঝতে পারেন নেহাত অংশগ্রহণের জন্য বিশ্বকাপে আসেনি আকবর আলির দল। তারা এসেছে বিশ্ব জয় করতেই।

আসরে বাংলাদেশ পড়েছিল কঠিন গ্রুপেই। তাদের গ্রুপসঙ্গী ছিল পাকিস্তান, জিম্বাবুয়ের ও স্কটল্যান্ডের মতো দলগুলো। কিন্তু এই বাধা পেরিয়েই নক আউট পর্বে ওঠে বাংলাদেশ। কোয়ার্টার ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েই ইতিহাস গড়ে আকবর আলির দল। প্রথমবারের মতো ওঠে টুর্নামেন্টের সেমি ফাইনালে।

কিন্তু সেমি ফাইনালে থেমে থাকার দল নয় আকবর আলিরা। ততো দিনে তাদের পেয়ে বসেছে শিরোপার ক্ষুধা। নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে উঠে যায় ফাইনালে। এরপর তো ভারত বধের মহাকাব্য।

তবে দলকে ঐতিহাসিক জয় এনে দিয়েও বিনয়ী আকবর। সাফল্যের কৃতিত্ব দিলেন দলের সবাইকে। বলেছেন, দলের সাফল্যের নেপথ্যে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। প্রচুর ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন তারা। বিদেশ সফর, উন্নত পরিকাঠামো তাদের করেছে চৌকস।

বিশ্বকাপের মধ্যেই বড় বোনের মৃত্যুর খবর পান আকবর। কিন্তু শোকে ভেঙে পড়েননি তিনি। বরং শোককে শক্তিতে পরিণত করে দৃঢ় প্রতিজ্ঞায় উঠে দাঁড়ান দেশের ডাকে। শোকার্ত অধিনায়ককে আগলে রাখেন সতীর্থরাও।

উইকেটকিপার এই ব্যাটসম্যান উইকেটের পেছনে থেকে বিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের পর্যবেক্ষণ করতে ভালবাসেন। এর ফলে তার অধিনায়কত্বে সুবিধা হয়। উইকেটকিপিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিং অর্ডারেও নিজেকে রাখেন নিচের দিকে। ব্যাট করতে নামেন ছয়ে। নিজেকে ‘ফিনিশার’ বলতে ভালবাসেন রংপুরের তরুণ। যার হাত ধরে শুরু হল বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন এক অধ্যায়ের।

পিএ

বোনের মৃত্যুতেও দমেননি বিশ্বজয়ী আকবর
ছোটদের বিশ্বজয়, বড়দের ইনিংস হার
কী ঘটেছিলো খেলা শেষে?
অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করলেন আকবর
বিশ্বজয় করে বিশ্বকে যে বার্তা দিলেন আকবর

 

 

খেলাধুলা: আরও পড়ুন

আরও