দিবা-রাত্রির টেস্ট: রোমাঞ্চের চেয়ে ভয়টাই বেশি
Back to Top

ঢাকা, বুধবার, ২৭ মে ২০২০ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

দিবা-রাত্রির টেস্ট: রোমাঞ্চের চেয়ে ভয়টাই বেশি

খলিলুর রহমান ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০১৯

দিবা-রাত্রির টেস্ট: রোমাঞ্চের চেয়ে ভয়টাই বেশি

উপমহাদেশে প্রথম দিবা-রাত্রির টেস্ট। খেলাটাও হবে গোলাপি বলে। কলকাতার ইডেন গার্ডেনে আজ শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ঐতিহাসিক এই টেস্টকে ঘিরে কত আয়োজন, কত কি!

টেস্টটা স্মরণীয় করে রাখতে সব রকম উদ্যোগই নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নতুন কর্তা সৌরভ গাঙুলি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে টেস্ট শুরুর ঘণ্টা বাজাবেন। তারা ছাড়াও উপস্থিত থাকবেন রাজনীতি, ক্রীড়াঙ্গন, সংগীতাঙ্গনসহ অন্য অনেক ভুবনের অনেক রথী-মহারথী।

উপস্থিত থাকবেন ২০০০ সালের ঠিক এই নভেম্বরেই খেলা বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের ক্রিকেটাররা। এই ভারতের বিপক্ষেই খেলা বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের ক্রিকেটারদের সংবর্ধনা জানানো হবে। বিশেষ এই উপলক্ষ সমানে রেখে বাংলাদেশের একাধিক সাবেক অধিনায়কসহ বিসিবির কর্তারাও থাকবেন ইডেনের আলোকিত মঞ্চে।

সব মিলে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার দিবা-রাত্রির টেস্টটিকে ঘিরে সব শ্রেণী-পেশার মানুষদের মধ্যেই অন্য রকম রোমাঞ্চ খেলা করছে। রোমাঞ্চের স্রোতে ভাসছে ভারত এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও। প্রথম বারের মতো দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বলে কথা। কিন্তু সেই রোমাঞ্চের স্রোতের মধ্যে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের হৃদয়ে নিশ্চিতভাবেই একটা চোরা স্রোতও বইছে! ক্রিকেটারদের পাশাপাশি সেই চোরা স্রোতের শিকার এ দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরাও!

চোরা স্রোতটা ভয়ের, শঙ্কার। ঐতিহাসিক টেস্টটিতে বড় কোনো লজ্জার মুখে পড়তে যাচ্ছে না তো বাংলাদেশ? ইন্দোরে সিরিজের প্রথম টেস্টেই ইনংস ও ১৩০ রানের ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। কাজেই প্রশ্ন উঠতে পারে, ইনিংস হারের চেয়ে বড় লজ্জা আবার কি হতে পারে!

ইনিংস হারের চেয়ে বড় লজ্জা হয়তো নেই্। আবার আছেও। অসহায়ের মতো পথ হেঁটে ইন্দোর টেস্টটিকে তবু ৩ দিনের আয়ু দিতে পেরেছিল সাকিব-তামিমবিহীন নড়বড়ে বাংলাদেশ। মুমিনুল হকের দল ইডেনের দিবা-রাত্রির চ্যালেঞ্জে তার চেয়ে কম সময়ে গুটিয়ে যায় কিনা, সেই শঙ্কা বেশ জোরেই বইছে।

ইন্দোরে দিনের চকচকে রোদের আলোতেও ভারতীয় পেসাররা বাংলাদেশিদের নাকে-মুখের জল এক করে ছেড়েছে। ভারতীয় পেসারদের গতি, বাউন্স, শট বলের জবাব বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের কাছে ছিল না। সেখানে ইডেনে খেলতে হবে রাতের শিশিরের মধ্যে। শিশিরের কারণে পিচ ভেজা থাকবে, সেটা অনুমিতই। আর ভেজা পিচে পেসাররা কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারেন, সেটা তো ক্রিকেটের আম-দর্শকও জানেন।

টেস্ট ক্রিকেট বরাবরই বাংলাদেশিদের জন্য রহস্যের চোরা গর্ত। দীর্ঘ ১৯ বছরেও যে সেই রহস্যের গর্ত থেকে বাংলাদেশ বেরোতে পারেনি, সর্বশেষ দুই টেস্টের তার প্রমাণ। সেপ্টেম্বরে নিজেদের ঘরের মাটিতে পুঁচকে আফগানিস্তানের কাছে হার। সেটাও বৃষ্টি ড্র’র পরিবেশ তৈরি করে দেয়া অবস্থায়। এরপর ইন্দোরে ভারতের কাছে অসহায় আত্মসমর্থন।

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে সবচেয়ে স্পষ্ট সমীকরণ দাঁড়ায়-পুরো দল যা, সাকিব-তামিম মিলে তার অর্ধেক। তাদের পরিবর্তে যারা নামেন, তারা তাদের ধারের কাছেও না। ইন্দোর টেস্ট সেটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। সাকিব-তামিমবিহীন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ ভারতীয় পেসারদের তোপের মুখে কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারেনি। ইশান্ত শর্মা, উমেশ যাদব, মোহাম্মদ সামিদের পেস-বাউন্সের সামনে কাঁপাকাঁপি করে মরেছে। পা ঠিক রাখতে পারেননি।

ইডেনের দিবা-রাত্রির টেস্টে কাঁপাকাঁপির ভয়টা আরও বেশি। ইমরুল, মুমিনুল, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ, মিঠুনরা পারবেন মনের ভয় দূর করে ইডেনে স্বাভাবিক ব্যাটিং করতে? নাকি শিশির-ভেজা পিচে পেসারদের ফণা তোলা ছোবলে আরও বেশি হুড়-মুড়িয়ে ভেঙে পড়বেন?

টেস্ট ৫ দিনের হলেও ইডেন টেস্টের টিকিট বিক্রি হয়েছে ৪ দিনের। মানে ম্যাচ শুরুর আগেই দর্শকদের বিশ্বাস, টেস্ট পঞ্চম দিনে গড়াবে না! যারা চতুর্থ দিনের টিকিট কেটেছেন, তারাও নিশ্চয় শঙ্কার মধ্যেই আছেন। হয়তো শঙ্কার মধ্যে আছেন আয়োজকেরাও। কারণ, আয়োজকেরা চতুর্থ দিনেও বেশ কিছু কর্মসূচী রেখেছেন।

দর্শক-আয়োজকসহ সবার এই শঙ্কা মুছে ফেলার দায়িত্ব বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের উপর। কর্তব্যও। সেই দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করতে হলে সবার আগে হারাতে হবে মনের ভয়কে। মনের ভেতরের ভয়-শঙ্কার চোরা স্রোত চাপা দিয়ে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারলেই কেবল ইডেনের ঐতিহাসিক দিবা-রাত্রির টেস্টটা বাংলাদেশের জন্য অর্থবহ হয়ে উঠবে। বাইরের রোমাঞ্চটা সার্থক হবে।

বাংলাদেশ পারবে ইডেনে অন্তত লড়াই করতে?

কেআর

 

: আরও পড়ুন

আরও