অবশ্যই ছয় মারতে খুবই ভালো লাগে: বিজয়
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২২ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

>

অবশ্যই ছয় মারতে খুবই ভালো লাগে: বিজয়

ক্রীড়া ডেস্ক ৭:৩৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০২২

অবশ্যই ছয় মারতে খুবই ভালো লাগে: বিজয়
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সম্প্রতি বাংলাদেশের ব্যাটারদের পাওয়ার হিটিং নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বাংলাদেশ ওপেনার এনামুল হক বিজয় মনে করেন, দলের সকল ক্রিকেটারের চার-ছক্কা মারার সামর্থ্য আছে। তার নিজেরও ছয় মারতে খুবই ভালো লাগে। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে পাওয়া হিটিংয়ের পরিকল্পনাটা বেশি প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগে দুবাইয়ে অনুশীলনে ব্যস্ত সময় পার করছে বাংলাদেশ দল। অনুশীলনের এক ফাঁকে দলের প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেন বিজয়। তার মতে, এশিয়া কাপের জন্য দলের প্রস্তুতি ভালো হচ্ছে। টুর্নামেন্টের জন্য নিজেদের ভালোভাবে তৈরি করতে অনুশীলনে কঠোর পরিশ্রম করছে ক্রিকেটাররা।

টি-টোয়েন্টিতে অন্যান্য দেশের ক্রিকেটারদের মত চার-ছক্কার ফুলঝুড়ি ফোটাতে পারে না বাংলাদেশের ব্যাটাররা। তাই এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের ব্যাটারদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে দলের সকল ক্রিকেটারের চার-ছক্কা মারার সামর্থ্য আছে বলে মনে করেন বিজয়।

দুবাই থেকে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় বিজয় বলেন, আমি প্রায় ১০ বছর যাবত বিপিএল খেলছি, এছাড়াও বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলেছি। আমাদের প্রতিভাবান ক্রিকেটার আছে, অনেক পরিশ্রমী, আমার কাছে মনে হয় পাওয়ার হিটিংয়ের চেয়ে বেশি জরুরি পরিকল্পনা। কেউই বলতে পারবে না, সে চার বা ছয় মারতে পারে না বা কোয়ালিটি নেই। যারা জাতীয় দলে আসে, অবশ্যই শতভাগ কোয়ালিটি নিয়েই বাংলাদেশ দলে আসে।

তিনি আরও বলেন, সবারই কোয়ালিটি আছে চার-ছক্কা মারার। ব্যাপারটা পরিকল্পনার। কোন বোলারকে আমরা পিক করবো, কোন বোলারকে সিঙ্গেল রোটেশন করবো, কোন সময় মারা উচিত, কোন সময় উচিত নয়। সেটা নিয়ে কাজ করা উচিত।

বিজয় আরও বলেন, আমার মনে হয়, সবারই কোয়ালিটি আছে। উপর থেকে যদি ধরেন, দলে ৮টা-১০টা ব্যাটসম্যান আছে- সবাই কম-বেশি ভালো মারতে পারে। তাদের সবাইকে সময় দেওয়া উচিত, ১০ বল-৫ বল-৪ বল, তারপর প্রয়োগে যাওয়া উচিত। অবশ্যই প্রতিটি ক্রিকেটারের সামর্থ্য আছে ছয়-চার মারার।

দলের ক্রিকেটারদের চার-ছক্কা মারার সামর্থ্য থাকলেও, তা বাস্তবায়ন হতে কিছুটা সময় লাগবে বলেও উল্লেখ করেন বিজয়। বর্তমান কোচিং প্যানেল ও অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের অধীনেই পাওয়ার হিটিংয়ে উন্নতি হবে দৃঢ়বিশ্বাস দলের সবার।

তিনি বলেন, আমি চেষ্টা করি, অবশ্যই ছয় মারতে খুবই ভালো লাগে। বাস্তবায়ন কোন সময়ে করবো, দলের জন্য কতটা উপকার হবে, এটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ক্রিকেটারদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। অবশ্যই উন্নতি সম্ভব। আমার মনে হয়, এই কোচের কোচিংয়ে, সাকিব ভাইয়ের নেতৃত্বে আমরা পাওয়ার হিটিংয়ে যথেষ্ট উন্নতি করবো।
দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফেরা এ ওপেনার আরও বলেন, এটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার ব্যাপার। এটা একদিনে হবে না। তবে অবশ্যই ৩-৬ মাসে লাগতে পারে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রতিটি ক্রিকেটার শতভাগ চেষ্টা করবে এসবে উন্নতি করতে।

ঘরোয়া ক্রিকেট ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) দুর্দান্ত পারফরমেন্সের সুবাদে দীর্ঘ বিরতির পর এ বছরই জাতীয় দলে ফিরেন বিজয়। দলে ফেরার পর একটি টেস্ট-তিনটি ওয়ানডে ও ছয়টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন তিনি। টেস্টে ২৭, টি-টোয়েন্টিতে ৮৫ রান করলেও ওয়ানডেতে দুই ইনিংসে হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান এই ডান-হাতি ব্যাটার। তিন ইনিংসে ১৬৯ রান করেন বিজয়।

এশিয়া কাপের মত বড় আসরে ভালো করতে ও বড় ইনিংস খেলতে চাওয়া বিজয় বলেন, এশিয়া কাপ একটা বড় মঞ্চ। এখানে সুযোগ এসেছে ভালো খেলার। আমি চেষ্টা করবো প্রভাব বিস্তার করার মত ইনিংস উপহার দেওয়ার, যেন দলকে ভাল একটা সূচনা এনে দিতে পারি।

তিনি আরও বলেন, আমার প্রথম টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপ। নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। মিরাজ, তাসকিন, সাকিব ভাই, মুশফিক ভাই, আফিফ সবাই অনেক সাহায্য করছে। টপ অর্ডারে ভালো স্কোর দাঁড় করালে, তাদের জন্যও সুবিধা হবে। আবার মিডল অর্ডার ভালো করলে লোয়ার মিডল অর্ডারের জন্য ভালো হবে। দলীয় স্কোর বড় করলে বোলারদের জন্য ভালো হবে। আশা করছি দারুণ সূচনা এনে দিতে পারব, সেভাবেই অনুশীলন করছি।

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ পারফরমেন্স প্রশ্নবিদ্ধ। তাই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে, সদ্যই টেকনিক্যাল পরামর্শক হিসেবে ভারতের শ্রীধরন শ্রীরামকে দলে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ।

দুবাইয়ে শ্রীরামের সাথে অনুশীলন পর্বটা ভালো কাটছে বলে জানান বিজয়। এছাড়াও এশিয়া কাপের প্রস্তুতি সকলে ভালোভাবে নিচ্ছে জানিয়ে বিজয় বলেন, আসলে শ্রীরাম আসার পর আমাদের দারুণ একটা মিটিং হয়েছে। বোলিং-ব্যাটিং এবং স্পিন বিভাগ, ফিল্ডিং বিভাগ আমরা কিভাবে কি করবো, এ বিষয়ে স্পস্ট ধারনা  পেয়েছি। প্রতিটা ক্রিকেটার জানে, তাদের কাজটা কি। আমরা সবাই মনে করছি, ম্যাচে ডোমিনেট করতে পারবো। দলকে যতটুকু দেয়ার সামর্থ্য আছে, তার পুরোটাই  দেয়ার চেষ্টা করবে সকলে। এই কমিটমেন্ট সবাই করেছে এবং আমরা বিশ্বাস করি, আমরা পারবো।

তিনি আরও বলেন, দুবাইয়ে দুই দিন অনুশীলন করে মনে হচ্ছে, আমরা খুব ভালো প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা এখানে রাত আটটা থেকে অনুশীলন করছি, বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা, যা আগে কখনও করিনি। এটা দারুন এক অভিজ্ঞতা। দু’টা দিন দারুণ সময় গেছে আমাদের। কালকের বিরতির পর আরও দু’দিন সময় পাবো আমরা। আশা করছি, ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবো।

আগামী ৩০ আগস্ট আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এশিয়া কাপ শুরু করবে বাংলাদেশ। পহেলা সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে টাইগাররা।

এসবি

 

আরও পড়ুন

আরও
               
         
close