জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ হারল বাংলাদেশ
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ৮ আগস্ট ২০২২ | ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯

>

জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ হারল বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক ৯:১১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০২, ২০২২

জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ হারল বাংলাদেশ
জিম্বাবুয়ের কাছে প্রথমবার টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারল বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে শেষ টি-টোয়েন্টি ১০ রানে জিতে নিয়েছে জিম্বাবুয়ে।

রায়ান বার্লের ঝড়ো হাফসেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৬ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ১৪৬ রান করতে পারে। ফলে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয় জিম্বাবুয়ে।

১৫৭ রানের লক্ষ্য, টি-টোয়েন্টিতে মোটেও কঠিন বলা চলে না। তার ওপর হারারের এই স্টেডিয়ামে মোটামুটি রান উৎসবই হয়েছে। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং ভালো না হলেও বাংলাদেশ ছিল সাবলীল। সেখানেই ব্যর্থ হলো টপ অর্ডাররা।

নুরুল হাসান সোহান চোটে পড়ায় নেতৃত্বের দায়িত্ব পড়ল মোসাদ্দেক হোসেনের কাঁধে। কিন্তু তিনি সিরিজ হার ঠেকাতে পারেননি। পারেননি দলের ব্যাটারাও। লিটন দাস শুরুতে মৃদু ঝড় তুললেও সেটি থামে ৬ বলে ১৩ রানে। অভিষিক্ত পারভেজ হোসেন ইমনের ইনিংস মাত্র ২ রানে শেষ। এনামুল হক আবারও ব্যর্থ। ১৩ বলে করেন ১৪ রান। নাজমুল হোসেন শান্ত ভালো শুরু পেয়েও ২০ বলে ১৬ রান করে আউট। তাতে ৬০ রানে নেই ৪ উইকেট।

‘বিশ্রাম’ থেকে ডেকে নেওয়া মাহমুদউল্লাহ ও আফিফ হোসেন পথ দেখাতে থাকেন। তাতে জয়ের সম্ভাবনাও উঁকি দিতে থাকে। কিন্তু মাহমুদউল্লাহর বিদায়ে আবারও ছন্দপতন। ২৭ বলে ২৭ রান করে এই অভিজ্ঞ ব্যাটারের বিদায়ের পরপরই যে ফিরে যান অধিনায়ক মোসাদ্দেক। ব্র্যাড এভান্স তাকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগিয়েছিলেন।

এরপর আফিফ ও মেহেদী হাসান আবারও আশা জাগান। যদিও সফল হতে পারেননি। মেহেদী ১৭ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ২২ রান করে বিদায় নেওয়ার পরই আসলে হার একরকম নিশ্চিত হয়ে যায়। আফিফ টিকে থাকলেও শেষরক্ষা করতে পারেননি। বাঁহাতি ব্যাটার ২৭ বলে ৩ বাউন্ডারিতে অপরাজিত থাকেন ৩৯ রানে।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু পায় জিম্বাবুয়ে। প্রথম ৩ ওভারে তোলে ২৯ রান। তবে ইনিংসের চতুর্থ ওভারে ঝড়ো শুরুর আভাস দেওয়া চাকাভাকে ফিরিয়ে সফরকারীদের ব্রেক-থ্রু এনে দেন স্পিনার নাসুম আহমেদ। আফিফের দারুণ ক্যাচে ১০ বলে ১৭ রান করে ফেরেন ওপেনার চাকাভা।

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে জোড়া আঘাত শেখ মেহেদী হাসানের। ওয়েসলে মাধেভেরেকে বোল্ড করে সাজঘরে পাঠান মাত্র ৫ রানে। এর রেশ না কাটতেই শিকার নতুন ব্যাটসম্যান সিকান্দার রাজা। আগের দুই ম্যাচেই ফিফটি করা রাজা এবার নিজের খেলা প্রথম বলেই শূন্য রানে ফেরান। মেহেদীর স্পিন ঘূর্ণিতে পাওয়ার-প্লে শেষে উড়ছিল বাংলাদেশ।

৬ ওভারে ৪৫ রান তুললেও ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়া স্বাগতিকরা পরে খেই হারায় বাংলাদেশ দলের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে। দলীয় নবম ওভারে উইলিয়ামসকে ফেরান মোসাদ্দেক। ব্যক্তিগত ২ রানে উড়িয়ে মারতে গিয়ে শান্তর হাতে ধরা পড়েন উইলিয়ামস। পরের ওভারেই সাফল্য আসে মাহমুদউল্লাহর হাত ধরে। প্রথমবার আক্রমণে এসে উইকেটের দেখা পান তিনি। ক্রেইগ আরভিনকে ফেরান স্টাম্পিংয়ে ফাদে ফেলে। 

১৩তম ওভারের শেষ বলে মুস্তাফিজ ফেরান মিল্টন শুম্বাকে। আউটসাইড অফের বল খোঁচা দিয়ে ফেরেন সাজঘরে। ১১ বলে ৪ রান করেন তিনি। ১৩ ওভারে ৬৭ রানে ৬ উইকেট হারানো জিম্বাবুয়েকে সেখান থেকে টেনে তোলেন রায়ান বার্ল আর লুক জংওয়ে। ইনিংসের ১৫তম ওভারে ৫টি ছয় ও ১ চারের সাহায্যে নাসুমের ওভার থেকে বার্ল তুলে নেন ৩৪ রান। টি-টোয়েন্টি এটি বাংলাদেশি কোনো বোলারের সবচেয়ে খরুচে ওভার।

পরে মাত্র ২ চার ৬ ছয়ের মাতে মাত্র ২৪ বলে ফিফটি তুলে নেন বার্ল। ২৮ বলে ৫৪ রানে থামেন তিনি। তার আগে জংওয়ে ২০ বলে ৩৫ রানে ফিরিয়ে ৩১ বলে ৭৯ রানের সপ্তম পার্টনারশিপ ভাঙেন হাসান মাহমুদ। জংওয়ের ব্যাট থেকে আসে ২০ বলে ৩৫ রান। এতে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পায় জিম্বাবুয়ে। বোলারদের নৈপুণ্যে সে পুঁজিই যথেষ্ট হয়ে যায় দলটির জন্য। আর বাংলাদেশের সঙ্গী হয় একরাশ লজ্জা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবুয়ে: ২০ ওভারে ১৫৬/৮ (বার্ল ৫৪, জঙ্গোয়ে ৩৫, আরভিন ২৪, চাকাভা ১৭; মেহেদী ২/২৮, হাসান মাহমুদ ২/২৮, মাহমুদউল্লাহ ১/৮)।

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৪৬/৮ (আফিফ ৩৯*, মাহমুদউল্লাহ ২৭, মেহেদী ২২, শান্ত ১৬, এনামুল ১৪, লিটন ১৩; নিয়াউচি ৩/২৯, এভান্স ২/২৬)।

ফল: জিম্বাবুয়ে ১০ রানে জয়ী।

সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজ জিম্বাবুয়ে ২-১ ব্যবধানে জয়ী।

ম্যাচসেরা: রায়ান বার্ল।

এসবি

 

আরও পড়ুন

আরও
               
         
close