চট্টগ্রামে করোনায় আরও ২ জনের মৃত্যু
Back to Top

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১ | ৩০ চৈত্র ১৪২৭

চট্টগ্রামে করোনায় আরও ২ জনের মৃত্যু

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:৩৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ০১, ২০২১

চট্টগ্রামে করোনায় আরও ২ জনের মৃত্যু
চট্টগ্রামে একটানা ২৬ দিন পর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবার শতক ছাড়িয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১১৩ জন নতুন বাহক শনাক্ত হন এবং মৃত্যু হয় ২ করোনা রোগীর। সংক্রমণ হার ৮ দশমিক ০২ শতাংশ। সুস্থতার ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬০ জন।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের রিপোর্টে বলা হয়, নগরীর সাতটি ও কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে গতকাল রোববার চট্টগ্রামের ১ হাজার ৪০৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে নতুন ১১৩ জন পজিটিভ শনাক্ত হন।

এর মধ্যে শহরের বাসিন্দা ৯৩ জন ও আট উপজেলার ২০ জন। উপজেলায় আক্রান্তদের মধ্যে হাটহাজারীতে ১০ জন, সীতাকুন্ডে ৩ জন, মিরসরাইয়ে ২ জন এবং রাউজান, ফটিকছড়ি, বাঁশখালী, পটিয়া ও বোয়ালখালীতে ১ জন করে রয়েছেন।

জেলায় করোনাভাইরাসে মোট শনাক্ত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৩৪ হাজার ৯৯৯ জনে। এর মধ্যে শহরের ২৭ হাজার ৪৬৮ জন ও গ্রামের ৭ হাজার ৫৩১ জন। খবর বাসসের

গতকাল করোনায় দুই জনের মৃত্যু হয়। মৃতের সংখ্যা বেড়ে এখন ৩৭৫ জন। এতে শহরের বাসিন্দা ২৭৪ জন ও গ্রামের ১০১ জন। সুস্থতার ছাড়পত্র পেয়েছেন নতুন ৬০ জন। মোট আরোগ্য লাভকারীর সংখ্যা ৩২ হাজার ১৮১ জনে উন্নীত হয়েছে।

এর মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৪ হাজার ৪৩১ জন ও বাসা থেকে ২৭ হাজার ৭৫০ জন। হোম কোয়ারেন্টাইন বা আইসোলেশনে নতুন যুক্ত হন ৩০ জন। ছাড়পত্র নেন ২০ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৯৫২ জন।

উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিন এবং শেষ দিন শনাক্ত রোগী একশ’ ছাড়ালেও মাঝের দিনগুলোতে এর নিচেই ছিল। পহেলা ফেব্রুয়ারি ১০৮ জনের সংক্রমণ ধরা পড়ে। এ সংখ্যা আশি থেকে ওপরে উঠেছিল ছয় দিন। শনাক্ত বাহকের সংখ্যা পঞ্চাশের নিচে নেমেছিল তিন দিন। একদিন করোনাকালের সর্বনিম্নের রেকর্ড হয়। এদিন ১ হাজার ২২৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২১ জনের দেহে ভাইরাসের উপস্থিতি মিলে। সংক্রমণ হার ১ দশমিক ৭১ শতাংশ। এদিকে, চট্টগ্রামে গতকালসহ পরপর দু’দিন দু’জন করে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ৯ দিন মৃত্যুশূন্য ছিল। সর্বশেষ ১৭ ফেব্রুয়ারি করোনায় এক রোগী মারা যান। এর আগে দু’জনের মৃত্যু হয় ১৩ জানুয়ারি। ৯ জানুয়ারি ও দুই রোগীর মৃত্যু হয়েছিল। চলতি মাসে একজন করে মারা যান ১৩ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি।

ল্যাবভিত্তিক রিপোর্টে দেখা যায়, ফৌজদারহাটস্থ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস ল্যাবে ৭৩১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৬ জন জীবাণুবাহক পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ল্যাবে ১৮৮ জনের নমুনার মধ্যে ৩২ জন করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হন।

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ৬৪টি নমুনার ১৭টিতে ভাইরাস পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ৫৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে ৮ জন জীবাণুবাহক বলে চিহ্নিত হন। নগরীর একমাত্র বিশেষায়িত কোভিড চিকিৎসা কেন্দ্র আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালের আরটিআরএল-এ ৫টি নমুনার ৫টিরই পজিটিভ আসে।

নগরীর বেসরকারি ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরির মধ্যে শেভরনে ২২০টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৮টিতে এবং ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ৪৮টি নমুনায় ৭টিতে ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। মা ও শিশু হাসপাতালে কোনো নমুনা পরীক্ষা হয়নি। এদিন চট্টগ্রামের ৬৫ জনের নমুনা কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে পাঠানো হয়। সবগুলোরই নেগেটিভ আসে।

ল্যাবভিত্তিক রিপোর্ট পর্যবেক্ষণে বিআইটিআইডি’তে ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ, চমেকে ১৭ দশমিক ০২, সিভাসু’তে ২৬ দশমিক ৫৬, চবিতে ২৮ দশমিক ৫৭, আরটিআরএলে শতভাগ, শেভরনে ৮ দশমিক ১৮, ইম্পেরিয়ালে ১৪ দশমিক ৫৮ এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে ০ শতাংশ সংক্রমণ রেকর্ড হয়।

এইচআর

 

আরও পড়ুন

আরও