লকডাউনে সরকারি গাড়িতে কক্সবাজারে বেড়াতে গেলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা
Back to Top

ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

লকডাউনে সরকারি গাড়িতে কক্সবাজারে বেড়াতে গেলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ৮:৪৮ অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০২০

লকডাউনে সরকারি গাড়িতে কক্সবাজারে বেড়াতে গেলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের চলমান পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মকর্তাদের ছুটি বন্ধ থাকলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে কক্সবাজার বেড়াতে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান কর্মকর্তার কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় বিষয়টি নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় এ পর্যন্ত ৬ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে তারা সবাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। উপজেলায় এখন পর্যন্ত করোনার পরীক্ষার জন্য ২৮৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের পার্শ্ববর্তী হওয়ার কারণেই প্রতিদিন সেখানকার লোকজন এলাকায় আসছেন। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা। কোন বিষয়ে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে ফোন করলেও তিনি ধরছেন না। করোনার এই সময়ে সরকারের কাজে ব্যবহার করা গাড়ি নিয়ে তিনি কক্সবাজার গেছেন। করোনার কারণে আড়াই মাস ধরে স্ত্রীর সঙ্গে ওই চিকিৎসক দেখা করতে পারছেন না। তাই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আল মামুন স্যার হোমকোয়ারেন্টিনে আছেন। রোববার দুপুরে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

সরকারি গাড়ি নিয়ে তিনি কক্সবাজারে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি বলতে পারব না। তবে স্যারের পরিবার কক্সবাজারে থাকেন। নমুনার ফল আসা পর্যন্ত আজ থেকে কোয়ারেন্টিনে থাকবেন বলেই আমাদের তিনি জানিয়েছেন। যদি নমুনার ফল পজেটিভ আসে তাহলে তিনি নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে থাকবেন।

এদিকে একাধিকবার চেষ্টা করলেও মুঠোফােন না ধরায় বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সরোয়ার জানান, জেলা সিভিল সার্জনের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে তিনি কক্সবাজার যাচ্ছেন বলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আল মামুন আমাকে জানিয়েছেন। তবে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে এভাবে যাওয়ার কথা না। বিষয়টি আমি খোঁজ নেব।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার স্ত্রী কক্সবাজারে থাকেন। স্ত্রী অসুস্থ থাকায় তিনি ছুটি নিয়ে সোমবার দুপুরে কক্সবাজারে গিয়েছেন। স্ত্রীকে দেখেই তিনি চলে আসবেন বলে জানিয়েছেন।

স্ত্রী অসুস্থ থাকলে তো ছুটি নিয়ে যেতেই পারেন, ব্যক্তিগত কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে গেলেন কেন জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোন সরকারি কর্মকর্তাই ব্যক্তিগতকাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন না। তবে স্ত্রীর অসুস্থতার দিক বিবেচনা করে তিনি ব্যবহার করেছেন, দুই-তিন দিনের মধ্যে চলে আসবেন।

এআর/পিএসএস

 

: আরও পড়ুন

আরও