‘আমার মেয়ের চরিত্রহননের চেষ্টা করা হচ্ছে’
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২১ | ১৫ মাঘ ১৪২৭

‘আমার মেয়ের চরিত্রহননের চেষ্টা করা হচ্ছে’

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৬:৪২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২১

‘আমার মেয়ের চরিত্রহননের চেষ্টা করা হচ্ছে’
রাজধানীর কলাবাগানে ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছে মেয়েটির মা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তদন্তকে ভিন্ন খাতে নিতে নানাভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। আমার নিষ্পাপ মেয়ের চরিত্রহননের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এসময় তিনি মামলাটি দ্রুত বিচারের দাবি জানান।

আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এক সংবাদ সম্মেলনে ও শিক্ষার্থীর মা এসব কথা বলেন।

কলাবাগানে ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।

সংবাদ সম্মেলনে মেয়েটির মা বলেন, ৭ জানুয়ারি আমার মেয়েকে অপহরণ করে দিহান ও তার সঙ্গীরা তার বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে আমার মেয়েকে অমানবিক নির্যাতন, ধর্ষণ এবং হত্যা করে আমাকে ফোন করা হয়। হাসপাতালে গিয়ে দেখি, দিহানসহ তার তিন সঙ্গী বসে আছে। দিহান আমার পা জড়িয়ে ধরে বলে আন্টি আমাকে বাঁচান।

মেয়েটির মা অভিযোগ করেন, মামলায় আমাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। আমরা অপহরণ মামলা করতে চেয়েছি। কিন্তু পুলিশ সেটা করতে দেয়নি। একটি মহল দিহান ও তার সঙ্গীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। তার মেয়ের চরিত্রহননের চেষ্টা করছে। আসামির বক্তব্যকে প্রাধান্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়। আর কোনো মা যেন এমন কষ্ট না পায়। কোনো মেয়েকে যেন এমন অকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে না হয়।

সরকারের কাছে পরিবারের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়।

দাবিগুলো হলো— প্রভাবমুক্ত থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায়বিচার করা, মামলাটি দ্রুত বিচার আদালতে স্থানান্তর করা, একটি স্বচ্ছ ডিএনএ পরীক্ষা করা এবং তার পরিবারকে যেন হয়রানির শিকার না হতে হয়, সেটির ব্যবস্থা করা।

সংবাদ সম্মেলনে মেয়েটির বাবা বলেন, আমার একটাই চাওয়া, আমি যা হারিয়েছি, তা যেন আর কোনো মা-বাবা কখনো না হারায়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের লিগ্যাল এইডের পরিচালক মাকছুদা আখতার।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার শিকার শিক্ষার্থীকে হেয় প্রতিপন্ন করে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের শুরুতেই অনভিপ্রেত বক্তব্য নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর পরিবারকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম, মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, সহসাধারণ সম্পাদক মাসুদা রেহানা, ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি মাহাতাবুন নেসা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনুস।

৭ জানুয়ারি সকালে ওই ছাত্রী তার বন্ধু দিহানের বাসায় যায়। সেখানে তাদের শারীরিক সম্পর্ক হয়। একপর্যায়ে রক্তক্ষরণ হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে দিহানসহ চার বন্ধু তাকে ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ছাত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওই দিন রাতেই স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে কলাবাগান থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় দিহানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ আনা হয়। আটক দিহানকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ৮ জানুয়ারি দিহান আদালতে জবানবন্দি দেন। পরে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

ওএস/এসবি

 

আরও পড়ুন

আরও