দাফনের সময় নড়ে উঠল নবজাতক
Back to Top

ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০ | ১৫ কার্তিক ১৪২৭

দাফনের সময় নড়ে উঠল নবজাতক

ঢামেক প্রতিবেদক ২:৫৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২০

দাফনের সময় নড়ে উঠল নবজাতক
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে গাইনী বিভাগে এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন শাহিনুর বেগম (২৭) নামে এক মা। জন্ম নেয়ার পরই নবজাতকটিকে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

এরপর তাকে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় কবরস্থানে। দাফনের কয়েক মিনিট আগে নড়েচড়ে উঠে শিশুটি।

শুক্রবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে শিশুটির জন্ম হয়।

হাসপাতাল থেকে কাপড় জড়িয়ে প্যাকেট করে দেন হাসপাতালের স্টাফরা। সাথে মৃত্যুর সনদ দিয়ে দেন এবং দাফনের জন্য বলা হয়। নবজাতকের বাবা গাড়িচালক ইয়াছিন নিয়ে যান আজিমপুর কবরস্থানে।

সেখানে কবরস্থানের লোকজন দাফন কাফন বাবদ ১৪শ টাকা দাবি করেন। কিন্তু সে সময় তার কাছে এতো টাকা ছিল না। তার তাকে অন্য কবরস্থানে নেয়ার কথা বলেন।

এসময় বাবা দেখেন তার সন্তান হঠাৎ নড়েচড়ে উঠছে। পরে বিষয়টি বিশ্বাস না হলেও, আশপাশের লোকজন ও তা দেখেন এবং দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। তখন তিনি নবজাতককে বুকে জড়িয়ে পুনরায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। খবরটি হাসপাতালে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভর্তির জন্য তার আর কোনো ঝামেলা হয়নি। দ্রুত নবজাতক বিভাগে ভর্তি করা হয়।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নবজাতকটিকে ঢামেক নবজাতক নিউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

নবজাতকের বাবা বলেন, এটা ছিল তার ২য় সন্তান। এর আগে ইসরাত জাহান (১০) নামে তার এক মেয়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, নবজাতটিকে মৃত ঘোষণা করে যে সনদটি চিকিৎসকরা দিয়েছিলেন তা আবার তারা নিয়ে গেছেন।

নবজাতকের মা শাহিনুর বেগমকে গত বুধবার ঢামেক হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করেন তার স্বামী বাসচালক ইয়াসিন।

বাবা ইয়াসিন বলেন, ঢাকা মেডিকেলের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করার পর সেখানকার চিকিৎসকরা তার স্ত্রীকে দেখেন এবং জানান তার প্রেশার অনেক হাই।

চিকিৎসকদের পরামর্শ ছিল, বাচ্চাটি ডেলিভারি না করালে তার প্রেশার কমবে না। চিকিৎসকদের কথায় সম্মতি দেয়ার পর বুধবার রাতেই তাকে লেবার রুমে নিয়ে নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করা হয়। ডেলিভারি না হওয়ায় তাকে ১১০ নম্বর ওয়ার্ডে রাখা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা দুদিন চেষ্টার পরও ডেলিভারি হয়নি। আজ শুক্রবার ভোরে শাহিনুরের আবার ব্যথা শুরু হয়। এরপর পৌনে ৫টার দিকে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি। বাচ্চাটি মৃত অবস্থায় জন্ম হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানান।

ইয়াসিন আরো বলেন, এরপর হাসপাতালের আয়া বাচ্চাটিকে প্যাকেট করে বেডের নিচে রেখে দেন এবং কোথাও নিয়ে দাফন করার জন্য বলেন।

ইয়াসিনের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মালঙ্গা গ্রামে। তুরাগ ধউর নিসাতনগর এলাকায় থাকেন তারা। তার স্ত্রী গৃহিণী ও তিনি বিআরটিসির বাসচালক।

এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘নবজাতকটি জীবিত আছে, ভালো আছে। তাকে ভর্তি রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটা তদন্ত কমিটি করবো। তদন্ত করে বের করার চেষ্টা করবো কেন এমনটি হয়েছে।’

এইচআর

 

আরও পড়ুন

আরও