ঢাকার জন্মদাত্রী বুড়িগঙ্গার একাল-সেকাল
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১২ আশ্বিন ১৪২৭

ঢাকার জন্মদাত্রী বুড়িগঙ্গার একাল-সেকাল

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৬:৪৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০২০

বুড়িগঙ্গা নদী, ঢাকার প্রাণ। বলা হয়ে থাকে টেমসের তীরে যেমন লন্ডন, সেইনের তীরে প্যারিস, দানিয়ুবের তীরে বুদাপেস্ট, তেমনই বুড়িগঙ্গার তীরে ঢাকা।
দীর্ঘ ৪১২ বছর আগে এই নদীর তীরেই গড়ে উঠেছিল বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত প্রিয় ঢাকা শহর। বুড়িগঙ্গা নদীটি ঢাকার দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে গেছে।
 
ব্রহ্মপুত্র আর শীতলক্ষ্যার পানি এক স্রোতে মিশে বুড়িগঙ্গা নদীর সৃষ্টি হয়েছিল। তবে বর্তমানে এটা ধলেশ্বরীর শাখাবিশেষ। কথিত আছে, গঙ্গা নদীর একটি ধারা প্রাচীনকালে ধলেশ্বরী হয়ে সোজা দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে মিশেছিল। পরে গঙ্গার সেই ধারাটির গতিপথ পরিবর্তন হলে গঙ্গার সাথে তার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে প্রাচীন গঙ্গা এই পথে প্রবাহিত হতো বলেই এমন নামকরণ। মূলত ধলেশ্বরী থেকেই বুড়িগঙ্গার উৎপত্তি। কলাতিয়া এর উৎপত্তিস্থল। বর্তমানে উৎসমুখটি ভরাট হওয়ায় পুরানো কোন চিহ্ন খোঁজে পাওয়া যায় না।
 
বুড়িগঙ্গার সৌন্দর্য বাড়ানোর কাজ করেছিলেন বাংলার সুবাদার মুকাররম খাঁ। তার শাসনামলে শহরের যেসকল অংশ নদীর তীরে অবস্থিত ছিল, সেখানে প্রতি রাতে আলোক সজ্জা করা হতো। এছাড়া নদীর বুকে অংসখ্য নৌকাতে জ্বলতো ফানুস বাতি।
 
তখন বুড়িগঙ্গার তীরে অপরুপ সৌন্দর্য্যের সৃষ্টি হতো। ১৮০০ সালে টেইলর বুড়িগঙ্গা নদী দেখে মুগ্ধ হয়ে লিখেছিলেন- বর্ষাকালে যখন বুড়িগঙ্গা পানিতে ভরপুর থাকে তখন দুর থেকে ঢাকাকে দেখায় ভেনিসের মতো।
 
এই নদীর তীরেই ১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালে নবাব আবদুল গণি নির্মাণ করেন আহসান মঞ্জিল। তার পুত্র খাজা আহসানুল্লাহ-র নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়। তখন আহসান মঞ্জিল ছিল ঢাকার নবাবদের আবাসিক প্রাসাদ ও জমিদারীর সদর কাচারি। এখান থেকেই তখন বুড়িগঙ্গা নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতো ঢাকার নবাব পরিবার।
 
১৮৬৪ সালে যে বুড়িগঙ্গা বয়ে যেত লালবাগ কেল্লা, রায়েরবাজার আর পিলখানা ঘাটের ধার ঘেঁষে, সময়ের সাথে সেই বুড়িগঙ্গা সরে যেতে থাকে দক্ষিণে। উত্তরে জমতে থাকা পলি জন্ম দিতে থাকে শহরের আরেকটি অংশকে।
 
মোঘল, ব্রিটিশ আর পাকিস্তান আমল পেরিয়ে গেছে। বুড়িগঙ্গার সন্তান ঢাকার বয়স ছাড়িয়ে গেছে ৪০০ বছর। নদীর তীরে গড়ে উঠা এই শহরের উন্নয়নের জঞ্জাল নদীটিকে একটু একটু করে ধ্বংস করে দিয়েছে। হাজারীবাগের ট্যানারিগুলোর অশোধিত বর্জ্য, জলযান আর গৃহস্থালির বর্জ্য, নদীর তীর জুড়ে গড়ে উঠা ছোট বড় পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে নির্গত রাসায়নিক পদার্থ, রঙ আর বিষাক্ত দ্রব্যাদি এই নদীকে একেবারেই দূষিত করে দিয়েছে।
 
তবে সম্প্রতি ট্যানারীগুলো সরিয়ে নেয়ায় ও নদী সংরক্ষণের নানা উদ্যোগের কারণে পুনরায় প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করেছে প্রাচীন এই নদীটি। করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর গত চারমাসে বুড়িগঙ্গা নদীর চেহারা আরও পাল্টে গেছে। আর বর্ষাকাল ও বন্যাকালীন সময় হওয়ার কারণে নদীটি আবার ভরে গেছে পানিতে। এত টলটলে পানি দীর্ঘ এক যুুগেও দেখা যায়নি এমনটাই দাবী করেছেন পুরান ঢাকার মানুষেরা।
লেখা ও কণ্ঠ- প্রীতম সাহা সুদীপ
 
স্থির ও ভিডিও চিত্রঃ ওসমান গণি
 
ভিডিও এডিটিংঃ পারভেজ ভুঁইয়া
 

আরও পড়ুন

আরও