অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া সুমন যা বললেন!
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২০ | ২২ আষাঢ় ১৪২৭

অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া সুমন যা বললেন!

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৩:০৮ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২০

অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া সুমন যা বললেন!
বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ১৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার করা হয় সুমন ব্যাপারী নামে এক ফল ব্যবসায়ীকে। বর্তমানে তিনি রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন।

মঙ্গলবার সকালে সেখানেই মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরার গল্প শোনান সুমন।

তিনি বলেন, লঞ্চ ছাড়ার পর থেকে আমার চোখে কিছুটা ঘুম ছিল, তখন হঠাৎ দেখি লঞ্চটিতে আরেকটি লঞ্চ ধাক্কা দিয়েছে, এটি ডুবে যাচ্ছে। ধাক্কা দেয়ার পর এক সাইড ডুবে যাচ্ছিল, আমি দৌঁড়ে লঞ্চের আরেক প্রান্তে গেলাম কিছুক্ষণ পর সেই সাইডও ডুবে গেল।

সুমন ব্যাপারী বলেন, লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার পরেই আমি পানির ভেতরে ছিলাম। লঞ্চের একটা রড ধরে ছিলাম। পরে আল্লাহ আস্তে আস্তে আমাকে একটি জায়গায় নিয়ে আসেন সেখানে তেমন পানি ছিল না। পা পর্যন্ত একটু পানি ছিল, আমি সেই পানি দিয়ে ওযু করেছি এরপর দোয়া-দুরুদ পড়েছি।

তিনি বলেন, আমার শরীরে যে পোশাক ছিল সেটা ভেসে গেছে শুধুমাত্র গেঞ্জিটা ছিল লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার পরই আমি আমার গেঞ্জিটা খুলে কোমরে বেঁধে নেই যাতে হাঁটু পর্যন্ত ঢাকা থাকে। আমি যেখানে ছিলাম সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করিনি। চেষ্টা করলে হয়তো বের হতে পারতাম আবার নাও পারতাম। তাই আমি সেখানেই ছিলাম। রাতে আমাকে উদ্ধার করা হয়।

সুমন ব্যাপারীর বাড়ি মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ি উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামে। তিনি একজন ফল ব্যবসায়ী। সদরঘাটের বাদামতলী ফলের আড়তেই তার ব্যবসা।

প্রসঙ্গত, সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর শ্যামবাজারের কাছে বুড়িগঙ্গা নদীতে ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় এমএল মর্নিং বার্ড নামের লঞ্চটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় ৩৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা সবাই মুন্সীগঞ্জের। এছাড়া লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার প্রায় ১৩ ঘণ্টার সোমবার রাত ১১টার দিকে সুমন ব্যাপারী উদ্ধার হন।

এ ঘটনায় ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এছাড়া মৃত প্রত্যেকের পরিবারকে দেড় লাখ টাকা ও তাৎক্ষণিক ভাবে দাফন করা জন্য ১০ হাজার টাকা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী।

পিএসএস

 

: আরও পড়ুন

আরও