হাসপাতাল থেকে রোগী পালালে দায় কি ডাক্তারের?
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০ | ২৯ আষাঢ় ১৪২৭

হাসপাতাল থেকে রোগী পালালে দায় কি ডাক্তারের?

শাহাদাত স্বপন ৭:৪৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২০

হাসপাতাল থেকে রোগী পালালে দায় কি ডাক্তারের?
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে করোনাক্রান্ত রোগী পলায়নের বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। এমনকি করোনাভাইরাস সনাক্তে নমুনা পরীক্ষার পর পজিটিভ রিপোর্ট হওয়ায় অনেককে নিজ বাড়িতেও খুঁজে পায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এসব মানুষের ধারণা হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেওয়া ও নিজ বাড়িতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্ত্বাবধানে আইসোলেশনে থাকা এক ধরনের বন্দিজীবন।

এর মধ্যে গত ২০ জুন রাজধানীর মুগদা হাসপাতাল থেকে ৭৬৪ নম্বর বেডে ভর্তি হওয়া শ্যামলীর হোসেন হাউজিং সোসাইটির বাসিন্দা করোনা ভাইরাস আক্রান্ত আব্দুল মান্নান পালিয়ে যাযন। এই ঘটনায় কর্মরত একজন মেডিকেল অফিসার কে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট এই জেনারেল হাসপাতালের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পরিচালক ডাক্তার মোঃ আবুল হাসেম শেখ কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। উক্ত কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, ‘মোঃ আব্দুল মান্নান (৪৪) করোনাক্রান্ত হয়ে গত ১৫ জুন মুগদা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ৭৬৪ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি ২০ জুন আড়াইটায় হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান, এসময় আপনি ডিউটিতে ছিলেন। এমতাবস্থায় সরকারি দায়িত্বে অবহেলা করায় কেন আপনার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা পত্র প্রাপ্তির ৩ কর্মদিবসের মধ্যে নিম্নস্বাক্ষরকারীর দপ্তরে লিখিতভাবে জবাব দাখিল করার জন্য বলা হলো।’

দারোয়ানগিরি করা ডাক্তারের কাজ নয়: এফডিএসআর

এই কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির পর থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। ঘটনার প্রতিবাদ করেছে ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস এন্ড রেস্পন্সিবিলিটি (এফডিএসআর)। এ বিষয়ে সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক ডাক্তার রাহাত আনোয়ার চৌধুরী বলেন, কোনো হাসপাতালের ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগীকে পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব একজন চিকিৎসকের নয়। চিকিৎসক একটি ওয়ার্ডের ২০ থেকে ৫০ জন রোগীকে দেখভাল করেন। আর একজন চিকিৎসক একটি ওয়ার্ডে একমাত্র কর্মচারীও নন যে কেউ পালিয়ে গেলে তার দায়িত্ব চিকিৎসকের ওপর বর্তাবে। নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতালে কেউ ঢুকতে চাইলে ভিজিটরের পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হয় এবং ডিসচার্জ লেটার ছাড়া কোনো রোগী হাসপাতালের দরজার গেট অতিক্রম করার কথা নয়। কোনো রোগী পালিয়ে গেলে এর দায় উক্ত হাসপাতালের সর্বোচ্চ প্রশাসনের। কোনভাবেই কর্তব্যরত চিকিৎসক এর দায় বহন করবে না।

তার দাবী, শুধুমাত্র উক্ত হসপিটালের ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা স্বল্পতার ফলেই এটা করেছে। একজন কর্তব্যরত চিকিৎসককে এ ধরনের তলবপত্র দিয়ে অযৌক্তিকভাবে তারা উদোড় পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করেছে। প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তার কাজ হাসপাতালের দরজায় দাঁড়িয়ে দারোয়ানগিরি করা নয়, এই নোটিশ করার মধ্য দিয়ে প্রথম শ্রেণির একজন কর্মকর্তাকে অপমান করা হয়েছে। আমরা সাংগঠনিকভাবে এই শো-কোজ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি।

এদিকে ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস এন্ড রেস্পন্সিবিলিটি (এফডিএসআর) এর দপ্তর সম্পাদক ডাক্তার রাশিদুল হক রানা পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, এটা সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে একটি শোকজ করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ কারণে আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কে একটি চিঠি দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছি। একটি হাসপাতালে সিকিউরিটি গার্ডের দায়িত্ব একজন ডাক্তারের না। আমরা বলেছি এটা অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক। এর পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে, আমরা অপেক্ষায় আছি তারা এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেন।

সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায় এড়াতে পারেন না: মন্ত্রণালয়

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব মো: মুহিবুর রহমান বলেন, দেখুন একজন সরকারি কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তার কর্ম ক্ষেত্রে যা কিছু হোক না কেন স্বাভাবিকভাবে তিনি তার দায় এড়াতে পারেন না। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, তারা তদন্ত করে বিষয়টি দেখবেন। যদি তিনি এই ঘটনায় দোষী না হন তাহলে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না। আর যদি তদন্তে উঠে আসে তার দায়িত্ব অবহেলার বিষয়টি, তাহলে অবশ্যই বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ফোকাল পারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সম্প্রতি বদলি হওয়া ডাক্তার মাহবুবুর রহমান পরিবর্তনকে বলেন, আমি মনে করি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি না বুঝে করেছে। এটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। একজন ডাক্তার দারোয়ান নয়, আসলে কোন কারণে কাকে শোকজ করতে হবে, সম্ভবত পরিচালক পর্যায়ের ব্যক্তিরা সেটি জানেন না।

এ বিষয়ে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের দায়িত্বে থাকা ডাক্তার মোঃ আবুল হাসেম শেখের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।

এসএস/

 

: আরও পড়ুন

আরও