হাসপাতালে অসাবধানতায় সুস্থদেরও করোনা আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০ | ২৯ আষাঢ় ১৪২৭

হাসপাতালে অসাবধানতায় সুস্থদেরও করোনা আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা

প্রীতম সাহা সুদীপ ও ওসমান গণি, ঢাকা ৮:০৯ অপরাহ্ণ, জুন ১৬, ২০২০

হাসপাতালে অসাবধানতায় সুস্থদেরও করোনা আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে প্রতিদিন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অথবা এই রোগের উপসর্গ নিয়ে অনেক মানুষের মৃত্যু ঘটছে।

এমন অবস্থার মধ্যেই প্রতিদিন এখানে করোনার নমুনা পরীক্ষা করাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে ভীড় জমাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। তাদের মধ্যে বেশিরভাগের শরীরেই জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্টসহ করোনার উপসর্গ রয়েছে। আবার কখনো কখনো উপসর্গ নেই এমন, অথবা সুস্থ মানুষও কোন না কোন কারণে করোনার নমুনা পরীক্ষা করাতে আসছেন।

মঙ্গলবার সরেজমিনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) করোনা ইউনিট পরিদর্শন করে দেখা গেছে অসংখ্য মানুষ করোনা টেস্টের জন্য এখানে ভীড় জমিয়েছেন। গায়ে গা লাগিয়ে তারা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, পাশাপাশি চেয়ারে বসছেন। এর মধ্যে রোগীর সাথে আসা অনেক সুস্থ স্বজনও রয়েছেন। নূন্যতম সামাজিক দূরত্ব না থাকায় সুস্থদেরও বাড়ছে করোনা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা।

প্রচন্ড জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে সকালে ঢাকা মেডিকেলে আসেন নরসিংদীর গৃহবধূ শিমুল বিশ্বাস। করোনার নমুনা পরীক্ষা ও করোনা ইউনিটে ভর্তি হতে আসলেও তার সাথে কোন স্বজনকে দেখা যায়নি। তীব্র শ্বাসকষ্টের এক পর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে হাসপাতালের চেয়ারেই শুয়ে পড়েন ওই গৃহবধূ।

দীর্ঘ দুইঘন্টা চেয়ারে নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকেন শিমুল৷ ঘন ঘন কাশছিলেন আর শ্বাস টানছিলেন৷ এক পর্যায়ে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকরা বিষয়টি নিরাপত্তারক্ষী এবং কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে আনলে তারা তাকে ভেতরে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

এদিকে তাকে উঠিয়ে ভেতরে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই করোনা টেস্ট করাতে আসা আরেক রোগীর সুস্থ স্বজন এসে সেখানে বসে পড়েন। ওই মহিলাকে জিজ্ঞেস করা হয় কিছুক্ষণ আগে এখানেই একজন নারী মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে ছিলেন। আপনি সেটা দেখেও এখানে বসে পড়লেন?

জবাবে ওই মহিলা বলেন, আসলে আমি খেয়াল করি নি, বিষয়টা আমার মাথায়ই ছিল না। স্বামীকে নিয়ে এসেছি টেস্ট করাতে, দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে গেছি তাই বসে পড়েছি।

তিনি বলেন, বসে পড়েছি, কি আর করার? তাছাড়া এমনিতেও হাসপাতালে কোন সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই। লাইনে গায়ের সাথে গা লাগিয়ে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে, কেউ সাবধান না। তাড়াহুড়ো করে চলাচল করতে গিয়ে কতজন কতজনের গায়ে ধাক্কা দিচ্ছে, একটু সাবধান না থাকলে এখানে যে কোন ভাবেই করোনা ছড়াতে পারে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ঢামেকেরই একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আসলে বাস্তবতা হলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে রোগী আসেন৷ সেক্ষেত্রে কোভিড-১৯ রোগী ও তাদের সঙ্গে থাকা সম্ভাব্য আক্রান্ত লোকজনের সংস্পর্শ এড়ানোর সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে এখানে আসা মানুষের আরও সচেতন থাকতে হবে, সাবধান থাকতে হবে।

২৪ ঘন্টায় ঢামেক করোনা ইউনিটে ১৩ জনের মৃত্যুঃ

সোমবার (১৫ জুন) বিকাল থেকে মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জনের করোনা পজিটিভ ছিল আর বাকি ১০ জন করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।

ঢামেক হাসপাতালের মর্গ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ১০ জনের মধ্যে অনেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল পরীক্ষার জন্য কিন্তু রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায় নি।

করোনায় মারা যাওয়া তিনজন হলেন, ঢাকার ফায়জা বেগম (৭৩), নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মো. মোমেন (৫০) ও ফতুল্লার আইয়ুব আলী (৬২)।

এছাড়া করোনার উপসর্গ নিয়ে যারা মারা গেছেন, তারা হলেন- আজিমপুরের ফায়জুন্নেসা (৭০), ফেনীর বালিগাঁওয়ের শরফত উল্লাহ (৬৪), মানিকগঞ্জের মহিন হোসেন (৩৪), কুমিল্লার দাউদকান্দির আলমাছ (৭৫), গাজীপুরের টঙ্গীর হোসের বেগম (৬৫), নারায়ণগঞ্জের মিজানুর রহমান (৩০), চাঁদপুরের মো. আলী, মিরপুরের রেশমি (৪০), নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের সাকির হোসেন (৫৬) ও নারায়ণগঞ্জের উ'মরাতা জাহান (৫০)।

পিএসএস

 

: আরও পড়ুন

আরও