রোদ-বৃষ্টি মাথায় দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করেও হচ্ছে না টেস্ট!
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০ | ২৯ আষাঢ় ১৪২৭

রোদ-বৃষ্টি মাথায় দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করেও হচ্ছে না টেস্ট!

প্রীতম সাহা সুদীপ ও ওসমান গণি, ঢাকা ৭:৪০ অপরাহ্ণ, জুন ১৫, ২০২০

নূর মোহাম্মদ, গত এক সপ্তাহ ধরে জ্বর-কাশিসহ করোনার উপসর্গ নিয়ে ভুগছেন৷ প্রচণ্ড অসুস্থতা নিয়ে অনেক চেষ্টা করেও বাসায় বসে টেস্টের ব্যবস্থা করতে পারেননি। তাই বাধ্য হয়েই গিয়েছেন রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে।

কোভিড-১৯' এর টেস্ট করাতে যে এত ভোগান্তি ভুগতে হবে ধারণাই ছিলনা নূরের। ভেবেছিলেন সকাল ৮টার মধ্যে গেলে একটু ফাঁকা থাকবে, পরীক্ষা করাতে সময় লাগবে না। কিন্তু এখানে এসে দেখেন ভোর থেকেই মানুষ গায়ে গা লাগিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন টেস্ট করানোর জন্য। নেই কোন সামাজিক দূরত্বের বালাই।

কাঠফাটা রোদের মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে আরও অসুস্থ বোধ করতে লাগলেন নূর। তার স্ত্রী একটু পর পর স্বামীকে পানি এগিয়ে দিচ্ছেন। কাধে থাকা রুমাল দিয়ে একটু পর পর ঘাম মুছছেন নূর। মাঝে একবার মাথা ঘুরিয়ে পরতে গিয়েও সামলে নেন নিজেকে। তখন তার স্ত্রী স্বামীকে একটু দূরে ছায়ার মধ্যে একটা জায়গায় বসিয়ে দিয়ে নিজে এসে লাইনে দাঁড়ান। কিন্তু এত অসুস্থতা নিয়ে এত ধকলের পরও টেস্ট করানো হলো না তার। স্ত্রীকে নিয়ে ফিরে গেলেন টঙ্গীতে নিজ বাড়ির দিকে।

নূরের মতো কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে আসা অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা ভোর থেকে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। প্রচণ্ড রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় পার করার পর নমুনা দিতে পারছেন তারা। এছাড়া কোন কোনদিন বৃষ্টি থাকলে তাতে ভিজেই সিরিয়ালে অপেক্ষা করতে হয় নমুনা পরীক্ষা করাতে আসা মানুষগুলোকে।

আবার যারা ভোরের দিকে আসতে পারেন না, আসতে একটু দেরি হয় সিরিয়াল একটু দূরে পরে তখন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় তারা নমুনা পরীক্ষার টিকেট পাননা। এতে করে ঝামেলায় পড়তে হয় দূর থেকে আসা রোগীদের।

সোমবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থেকে ঢাকার মুগদা হাসপাতালে করোনা টেস্ট করাতে আসেন মেহেদী হাসান জনি। দীর্ঘ সময় রোদের মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি, কিন্তু অপেক্ষা করার সেই দীর্ঘ সময়টাই বৃথা গেল তার। প্রতিদিনের নির্দিষ্ট সংখ্যক টেস্টের সুযোগ শেষ হয়ে যাওয়ায় টেস্টের টিকিট পেলেন না তিনি।

জনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও টিকিট পেলাম না। এতদূর থেকে এসেছিলাম। আবার ফিরে যেতে হবে। আগামীকাল আরো ভোরে আসবো যাতে সিরিয়ালে এগিয়ে থাকতে পারি।

হোমনা থেকে ঢাকায় টেস্ট করাতে এসেছেন শফিকুল ইসলাম। সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে তিনিও টেস্ট না করাতে পেরে ফিরে যাচ্ছেন।

তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আমার করোনার কোন লক্ষ্মণ নেই। আমি অসুস্থও না। কিন্তু বাহিরে যাওয়ার জন্য কোভিড-১৯ নেই এমন সার্টিফিকেট দরকার, তাই টেস্ট করাতে এসেছি। হোমনা থেকে এসে আমি ঢাকায় বড় ভাইয়ের বাসায় উঠেছি। টেস্ট করাতে না পেরে আজকে ফিরে যাচ্ছি। আগামীকাল আবার এসে এই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হবে।

এদিকে মুগদা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, এই হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে প্রতিদিন প্রায় ২০০ জনের কোভিড-১৯ পরীক্ষা করানোর সক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ মানুষ ছাড়াও হাসাপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের টেস্ট করাতে হয়। যে কারণে প্রতিদিন বিপুল সংখ্য মানুষ সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেও টেস্ট না করাতে পেরে ফিরে যাচ্ছেন।

মুগদা জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মো. আবুল হাসেম শেখ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, যারা পরীক্ষা করাতে আসছেন ভীড় ও ঝুঁকি এড়াতে আগে থেকে হাসপাতালের ফোনে যোগাযোগ করে সিরিয়াল দিয়ে আসতে পারেন, সেক্ষেত্রে আমরা ৫০ টা সিরিয়াল নিয়ে রাখতে পারি। কিন্তু এত পরিমাণ মানুষ সকাল থেকে হাসপাতালের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলে, আমাদের পক্ষে সকলের টেস্ট করার সক্ষমতা নাই।

পিএসএস

 

: আরও পড়ুন

আরও