লকডাউনে যেভাবে থাইল্যান্ডে পালায় সিকদার-পুত্ররা
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০ | ২৯ আষাঢ় ১৪২৭

লকডাউনে যেভাবে থাইল্যান্ডে পালায় সিকদার-পুত্ররা

পরিবর্তন প্রতিবেদক: ৮:৩০ অপরাহ্ণ, মে ২৯, ২০২০

লকডাউনে যেভাবে থাইল্যান্ডে পালায় সিকদার-পুত্ররা
এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নির্যাতন ও ঋণ দিতে চাপ দেয়ার ঘটনায় হওয়া মামলার আসামি সিকদার গ্রুপের এমডি রন হক সিকদার ও তার ভাই দিপু হক সিকদার বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে আরোপিত বিধিনিষেধের মধ্যেই গত ২৫ মে সিকদার গ্রুপের মালিকানাধীন একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে দুই ভাই থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হন। গত ২৬ মার্চ থেকে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে।

লকডাউনের কড়াকড়ির মধ্যেই রাতারাতি কিভাবে এই দুই ভাই বিদেশে পাড়ি দিলেন সেটি নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। থাইল্যান্ডে সিকদার গ্রুপের কেওআই রেস্তোঁরা লিমিটেড এবং আর অ্যান্ডআর রেস্তোঁরা গ্রুপ লিমিটেড নামে দুইটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে পরিবর্তন ডটকমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ মে সকাল ৯টা ১৩ মিনিটের দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

সূত্র জানায়, ওই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি সিকদার গ্রুপের সিস্টার কনসার্ন আরঅ্যান্ডআর অ্যাভিয়েশন লিমিটেডের মালিকানাধীন। আর তাতে থাকা দুই ‘মুমূর্ষু রোগী’ হলেন- সিকদার গ্রুপের এমডি রন হক সিকদার ও তার ভাই দিপু হক সিকদার।

গত ২৫ মে দুই জন যাত্রী নিয়ে যে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে, সেটি গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ উল-আহসান। তবে ওই দুই যাত্রীর পরিচয় জানতে চাইলে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে এ ব্যাপারে কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানায় ইমিগ্রেশন ডেস্ক।

আর এন্ড আর এভিয়েশন ও সিকদার গ্রুপের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান:

সিকদার গ্রুপ অব কোম্পানির বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থাকা আইডি পর্যালোচনা করে জানা গেছে, এই গ্রুপটির অধীনে মোট ৪২ টি অঙ্গ-প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে ২৪টি ও বিদেশে ১৮টি অঙ্গ-প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- এসজিসি ব্যাংকিং (ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড), পাওয়ার জেনারেশন (কেরানীগঞ্জ ও জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট দ্বারা মোট ৪৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প), রিয়েল এস্টেট (সিকদার রিয়েল এস্টেট লিঃ এবং মাল্টিপ্লেক্স হোল্ডিংস লিমিটেড), অবকাঠামো উন্নয়ন (আরএন্ডআর হোল্ডিংস লিমিটেড), পাওয়ারপ্যাক হোল্ডিংস লিমিটেড, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা (জয়নুল হক সিকদার মহিলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রা. লিমিটেড), এভিয়েশন সেক্টর (আরএন্ড আর এভিয়েশন লিমিটেড), বন্দর উন্নয়ন ও অপারেশন (পাওয়ারপ্যাক পোর্টস লিমিটেড), অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন ও অপারেশন (পাওয়ারপ্যাক অর্থনৈতিক অঞ্চল লিমিটেড এবং এসবিজি অর্থনৈতিক অঞ্চল লিমিটেড), প্রিন্ট মিডিয়া (বাংলাদেশ পোস্ট) এবং ট্রেডিং (এ ওয়ান ট্রেড সেন্টার)।

প্রতিষ্ঠানটির বিদেশি অঙ্গ-প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- থাইল্যান্ড (কেওআই রেস্তোঁরা লিমিটেড এবং আর অ্যান্ডআর রেস্তোঁরা গ্রুপ লিমিটেড), সিঙ্গাপুর (আন্ত-এশিয়া গ্রুপ পিটি লিমিটেড) এবং সুইজারল্যান্ডে (সিএনএন মানি)।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে হেলিকপ্টার সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় কোম্পানি সিকদার গ্রুপের মালিকানাধীন আর এন্ড আর এভিয়েশন লিমিটেড।

একটি হকার ৮০০ বিমান, একটি বেল ২৩০ হেলিকপ্টার এবং একটি রবিনসন ৪৪ হেলিকপ্টার দিয়ে আর এন্ড আর এভিয়েশন যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের বহরে যুক্ত হয়েছে আরও অত্যাধুনিক সব মডেলের হেলিকপ্টার। রয়েছে বেশ কয়েকটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সও।

নিজস্ব এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে যেভাবে দেশ ছাড়লেন দুই ভাই:

গত ২৫ মে দুই ভাইকে নিয়ে বিমানবন্দর ছেড়ে যায় আরঅ্যান্ডআর অ্যাভিয়েশন লিমিটেডের মালিকানাধীন অ্যাম্বুলেন্সটি।

যদিও করোনা পরিস্থিতিতে চলমান সাধারণ ছুটির কারণে বন্ধই রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম। আর অ্যান্ড আর অ্যাভিয়েশন লিমিটেডের হটলাইন নম্বরে ফোন করা হলে পূর্বে রেকর্ড করা বার্তায় জানানো হয়, তাদের কার্যক্রম এখনও স্থগিত রয়েছে। আগামী ৩১ মে থেকে আবার কার্যক্রম শুরু হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি থাইল্যান্ডে অবতরণের অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে গত ২৩ মে সেখানকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি দিয়েছে থাইল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস।

সূত্র আরও জানায়, ওই দিনই তাদের অনুমোদন দেওয়া হলে ঢাকায় অবস্থিত থাই দূতাবাসে একটি চিঠি দেওয়া হয়। যেখানে দুইজনকে মেডিকেল ভিসা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়।২৪ মে ভিসা ইস্যু করা হয় এবং পরের দিন (২৫ মে) তারা ব্যাংককের উদ্দেশে রওনা দেয়।

পিএসএস

 

: আরও পড়ুন

আরও