'সতর্ক থাকবেন, এটাই যেন জীবনের শেষ শপিং না হয়'
Back to Top

ঢাকা, শনিবার, ৩০ মে ২০২০ | ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

'সতর্ক থাকবেন, এটাই যেন জীবনের শেষ শপিং না হয়'

পরিবর্তন প্রতিবেদক ২:০১ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০২০

'সতর্ক থাকবেন, এটাই যেন জীবনের শেষ শপিং না হয়'
করােনা পরিস্থিতির মধ্যেও ঈদকে কেন্দ্র করে খোলা হয়েছে দেশের মার্কেট ও শপিংমলগুলো। এমন অবস্থায় ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, শপিংয়ের বেলায় আপনারা সতর্ক থাকবেন। যেন এটাই জীবনের শেষ শপিং না হয়।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে রাজারবাগে পুলিশ লাইন্স অডিটোরিয়ামে আসন্ন ঈদুল ফিতর ও করোনা মহামারীতে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আইজিপি বলেন, শপিংমলগুলো খোলা হয়েছে। আমরা মার্কেট সমিতির সঙ্গে কথা বলেছি, এ সকল বিষয়ে সরকার নির্দেশ জারি করেছে। যাতে করে মার্কেটগুলোতে শপিং নিরাপদ হয়। আমরা শপিংয়ের বেলায় একটি কথা উচ্চারণ করছি, 'স্বাস্থ্যবিধি ' যেগুলো আছে। সুরক্ষা বিধি যেগুলো আছে। সেগুলো অবশ্যই আমাদের মেনে চলতে হবে।

তিনি বলেন, এক্ষেত্রে মার্কেট সমিতি সেসব নির্দেশনা মানবেন, বিক্রেতারাও মানবেন। ক্রেতাদেরও মানতে হবে। সবাই এসব স্বাস্থ্যবিধি মেনেই শপিং করবেন। ৫ দোকান দেখে ১০ দোকান দেখে এক দোকানে শপিংয়ের যে আমাদের একটা কালচার আছে। সেটাকে পরিহার করাই এবার ভাল হবে। এক্ষেত্রে আমি বলব, শপিংয়ের বেলায় আপনারা সতর্ক থাকবেন, যেন এটাই আপনার জীবনের শেষ শপিং না হয়।

বেনজীর আহমেদ আরো বলেন, করোনায় মৃত্যু কিন্তু রিয়েল ফ্যাক্ট, এটা কোন জুজুর ভয় নয়। তাই যে স্বাস্থ্যবিধির কথা বলা হয়েছে সেটা বিক্রেতা ক্রেতা উভয়ই মেনে চলবেন। আমরা যদি এগুলো মেনে চলি, আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস বৈশ্বিক এই দুর্যোগ থেকে জাতিকে দেশকে জনগণকে তুলনামূলকভাবে রক্ষা করতে পারব।

এছাড়া ঈদকে সামনে রেখে গতকাল সোমবার ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছিল ফেরিঘাটে। এই ঢল ঠেকাতে গতকাল দুপুরেই ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে ঘাটেই আটকা পড়েছেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। তাদের ফিরে আসার আহ্বানও জানান পুলিশ প্রধান।

বেনজীর আরও বলেন, এই মুহূর্তে ফেরিঘাটে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত চলছে। এর মধ্যে অনেকে ফেরিঘাটে ভিড় করছেন। নানা চোরাই পথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হওয়ার চেষ্টা করছেন। আমরা নৌপুলিশকে বলেছি, এগুলো প্রতিহত করতে। যারা ফেরিঘাটে চলে গেছেন, তাদের বলবো ফিরে আসুন। প্রয়োজনে আপনাদের ফিরে আসার ব্যবস্থা পুলিশ করবে।

তিনি বলেন, এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত ২৩টি জেলা করোনামুক্ত ছিল। কিন্তু যখনই লোকজন চলাচল বাড়িয়ে দিল, তখনই দেশজুড়ে এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। যেখানে যেখানে চেকপোস্ট, থেমে যান। ফিরে আসুন। দয়া করে আপনি যেখানে আছেন, সেখানেই থাকেন।

আইজিপি আরো বলেন, ঈদের নামাজ খোলা জায়গায় নয়, মসজিদে পড়ুন। যতটা সম্ভব কম সময় থাকুন। বাসা থেকে সুরক্ষার সব প্রস্তুতি নিয়ে যাবেন। আর দয়া করে ঈদের দিন কেউ এখানে সেখানে ঘুরতে যাবেন না।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজরদারি রয়েছে জানিয়ে পুলিশ প্রধান বলেন, আমরা নিয়মিত নজরদারি করছি। কেউ যদি সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য দেশবিরোধী প্রচারণা চালায়, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পিএসএস

 

: আরও পড়ুন

আরও