শ্যামলীর সেই হাসপাতালের মালিক গ্রেপ্তার
Back to Top

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

>

শ্যামলীর সেই হাসপাতালের মালিক গ্রেপ্তার

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৭:৪৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৭, ২০২২

শ্যামলীর সেই হাসপাতালের মালিক গ্রেপ্তার
বিল পরিশোধ নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে ঢাকার শ্যামলীর ‘আমার বাংলাদেশ হাসপাতাল’ থেকে জমজ দুই শিশুকে বের করে দেওয়ার পর একজনের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হওয়ার পর ওই হাসপাতালের মালিক গোলাম সরোয়ারকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।
শুক্রবার বিকেলে কারওয়ানবাজারে র্যা বের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র্যা বের মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন এ তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তার গোলাম সারোয়ার ‘আমার বাংলাদেশ হাসপাতাল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। একটি শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শুক্রবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যা ব। গ্রেপ্তারের সময় গোলাম সারোয়ারের মালিকানাধীন হাসপাতালটির বিভিন্ন অনিয়ম দেখতে পান র্যা বের সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে র্যা বের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শ্যামলী এলাকায় ‘আমার বাংলাদেশ হাসপাতাল’ থেকে দাবি করা টাকা দিতে না পারায় আয়েশা আক্তার নামে এক নারীর দুই যমজ সন্তানকে এনআইসিইউ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এমনকি টাকা দিতে না পারায় ওই নারীকে শারীরিকভাবে হেনস্থাও করেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম সারোয়ার। পরে প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন আয়েশা আক্তার এবং ১০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে ওই হাসপাতালের ফার্মেসির বিল পরিশোধ করেন। এরপর একটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গেলে জমজ দুই শিশুর মধ্যে একশিশু মারা যায় তার। এ ঘটনার পর পরই শিশুটির মা বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। অপর শিশুকে তাৎক্ষণিক ঢাকা মেডিক্যালের এইচডিইউতে ভর্তি করান। বর্তমানে শিশুটি আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ আছে।

র্যা ব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার গোলাম সারোয়ার জানিয়েছেন, ১৯৯২ সালে তিনি প্রাণিবিদ্যায় মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ২০০০ সাল থেকে প্রায় ৬টি (রাজারবাগ, বাসাবো, মুগদা, মোহাম্মদপুর ও শ্যামলী এলাকায়) হাসপাতাল ও ডায়াগোনস্টিক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। গত প্রায় একবছর ধরে শ্যামলীতে ‘আমার বাংলাদেশ হাসপাতাল’ নামে প্রতিষ্ঠান খুলে ব্যবসা শুরু করেন। আগেকার অভিজ্ঞতা থেকে এই হাসপাতালের সঙ্গেও দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন তিনি।

র্যা বের জিজ্ঞাসাবাদে গোলাম সারোয়ার জানান, বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের ফুসলিয়ে এই হাসপাতালে নিয়ে আসা হতো। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে যখনই তদারকি এবং মনিটরিংয়ের জন্য লোকজন আসতো, তখন বাইরে থেকে চিকিৎসক ও নার্স এনে সবকিছু ঠিকঠাক করে রাখা হতো। অন্যান্য সময় হাসপাতালটি ফাঁকা পড়ে থাকতো। চিকিৎসা সেবা দেওয়ার মতো ব্যবস্থাও থাকতো না।

র্যা ব জানায়, হাসপাতাল পরিচালনার বিধি অনুযায়ী সার্বক্ষণিক ৩ জন চিকিৎসক ডিউটিরত থাকার কথা থাকলেও তাদের হাসপাতালে মাত্র একজন চিকিৎসক ডিউটিরত থাকতো। হাসপাতালটিতে ২টি আইসিইউ-সহ ৩০টি বেডের অনুমোদন রয়েছে। তবে এই হাসপাতালে ৬টি আইসিইউ রয়েছে। অর্থাৎ ৪টি আইসিইউ বেশি। এছাড়া ভেন্টিলেটর রয়েছে ২টি। ৯টি এনআইসিইউ থাকলেও ইনকিউভেটর আছে মাত্র ১টি। ১৫টি সাধারণ বেড রয়েছে। মূলত আইসিইউ-কেন্দ্রিক ব্যবসার ফাঁদ তৈরি করে তিনি অবৈধ ব্যবসা করে আসছিলেন বলে জানান র্যা বের এই কর্মকর্তা।

এসবি

 

আরও পড়ুন

আরও
               
         
close