প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে পদত্যাগের নির্দেশ
Back to Top

ঢাকা, শনিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২২ | ৮ মাঘ ১৪২৮

প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে পদত্যাগের নির্দেশ

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৭, ২০২১

প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে পদত্যাগের নির্দেশ
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসৌজন্যমূলক বক্তব্য দেওয়ায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে মঙ্গলবারের (৭ ডিসেম্বর) মধ্যে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল তার বাসভবনে এ কথা জানান।

তিনি বলেন, সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এবিষয়ে কথা হয়েছে। আমি রাত ৮টায় প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে বার্তাটি পৌঁছে দিয়েছি।

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পরিবারের এক সদস্য সম্পর্কে বক্তব্য দেন।  তার ওই বক্তব্যে নারী বিদ্বেষের অভিযোগ উঠে। এরপর চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে তার ফোনালাপ ফাঁস হয়। 

মাহিয়া মাহির সঙ্গে মুরাদ হাসানের ফোনে কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ফোনালাপে তিনি অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করেন। অশ্লীল ভাষায় মাহিকে তার সঙ্গে দেখা করার নির্দেশ দেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী পাঠিয়ে তুলে আনার হুমকি দেন মুরাদ হাসান।

এসব ঘটনায় বিভিন্ন দিক থেকে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সরকারের দায়িত্বশীল পদে থেকে তার এ ধরনের বক্তব্য ও মন্তব্য নিয়ে বিভিন্ন দিক থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

বেশ কিছু দিন ধরে বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান আলোচনা-সমালোচনায় এসেছেন। একে একে তার বিষয়গুলো বর্তমান পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। দুপুরে আওয়ামী লীগের এক অনুষ্ঠানে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছে তথ্য প্রতিমন্ত্রী নারী বিদ্বেষী বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানিয়েছিলেন বিষয়টি নিয়ে আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবো। আর রাতেই গেল তার পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে।

চিকিৎসাশাস্ত্রের ডিগ্রিধারী মুরাদ হাসান ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী, মেস্টা ও তিতপল্যা) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে প্রথমবার সংসদে যান। এরপর ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে দ্বিতীয়বার জয়ী হন তিনি। এই দফায় সরকারে মুরাদ হাসানকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

একটি বিষয় নিয়ে চিকিৎসকদের আপত্তির মুখে সরকার গঠনের পাঁচ মাসের মাথায় ২০১৯ সালের মে মাসে মুরাদ হাসানকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী করা হয়।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় ২০০০ সালে ছাত্রলীগের কলেজ শাখার সভাপতি হন মুরাদ হাসান। তিন বছর পর যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সদস্য হন নির্বাচিত হন।

মুরাদ হাসান ২০১৫ সালে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের ‘স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক’ নির্বাচিত হন। তাঁর বাবা মতিয়র রহমান তালুকদার জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।

এইচআর
 

আরও পড়ুন

আরও