শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়নি: শিক্ষা মন্ত্রণালয়
Back to Top

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২০ | ২৪ চৈত্র ১৪২৬

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়নি: শিক্ষা মন্ত্রণালয়

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৮:৫১ অপরাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০২০

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়নি: শিক্ষা মন্ত্রণালয়

করোনা ভাইরাসের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বলেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে বলে একটি মহল গুজব ছড়াচ্ছে। এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হতে অনুরোধ করেছে মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়েরের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় আইআইডিসিআরের (সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান) সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)। মঙ্গলবার মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের সচেতন করতে এই নির্দেশনা দেন।

এর আগে সোমবার বিকালে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছিলেন, আইইডিসিআর-এর তথ্য অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনই বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এমন পরিস্থিতিতেই মাউশির মহাপরিচালক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে করোনা মোকাবিলায় করণীয় উল্লেখ করে নির্দেশনা জারি করেন।

মাউশির নির্দেশনায় বলা হয়, সরকার ইতোমধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে ও আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছে। এই ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সবার সর্বোচ্চ সতকর্তা প্রয়োজন। মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের অধীন সব অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সচেষ্ট থাকার নির্দেশ দেওয়া হলো। এ পরিপ্রেক্ষিতে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত করোনা ভাইরাসের তথ্য-সংবলিত নিম্নরূপ নির্দেশনা ও পরামর্শ অনুসরণ করা হলো:

২০১৯ এন-করোনা ভাইরাস

অনেক প্রজাতির করোনা ভাইরাসের মধ্যে যে ৭ প্রজাতি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে তার একটি হলো ২০১৯ এন-করোনা (কোভিড-১৯) ভাইরাস।

যেভাবে ছড়ায়

> এখন মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ হচ্ছে।
> এ ভাইরাস কোনও প্রাণী থেকে মানুষের দেহে ঢুকেছে
> করোনা ভাইরাস মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং
> শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে (হাঁচি/কাশি/কফ/থুথু) অথবা
> আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে একজন থেকে আরেকজনে ছড়ায়।
লক্ষণ
> ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে প্রায় ২-১৪ দিন লাগে
> বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রথম লক্ষণ জ্বর
> এছাড়া শুকনো কাশি/গলা ব্যথা হতে পারে
> শ্বাসকষ্ট/নিউমোনিয়া দেখা দিতে পারে
> অন্যান্য অসুস্থতা (ডায়াবেটিস/ উচ্চ রক্তচাপ/শ্বাসকষ্ট/ হৃদরোগ/ কিডনি সমস্যা/ ক্যান্সার ইত্যাদি) থাকলে দেহের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ বিকল হতে পারে।

প্রতিকার

> যেহেতু এই ভাইরাসটি নতুন, তাই এর কোনও টিকা/ভ্যাকসিন এখনও নেই;
> চিকিৎসা লক্ষণভিত্তিক।
প্রতিরোধে করণীয়
>ব্যক্তিগত সচেতনতা
> ঘন ঘন সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে (অন্তত ২০ সেকেন্ড যাবৎ);
> অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা যাবে না;
> ইতোমধ্যে আক্রান্ত এমন ব্যক্তিদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে;
> কাশি শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে (হাঁচি/কাশির সময় বাহু/টিস্যু/কাপড় দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখতে হবে);
> অসুস্থ পশু-পাখির সংস্পর্শ পরিহার করতে হবে;
> মাছ-মাংস ভালোভাবে রান্না করে খেতে হবে;
> অসুস্থ হলে ঘরে থাকুন, বাইরে যাওয়া আবশ্যক হলে নাক-মুখ ঢাকার জন্য মাস্ক ব্যবহার করতে হবে;
> জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন এবং প্রয়োজন ব্যতীত এ সময়ে ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করতে হবে;
> প্রবাসী আত্মীয়স্বজনদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাংলাদেশ ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করতে হবে;
> প্রয়োজন ছাড়া যেকোনও জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে;
> অত্যাবশ্যকীয় ভ্রমণে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
সন্দেহভাজন রোগীর ক্ষেত্রে করণীয়
> অসুস্থ রোগীকে ঘরে থাকতে বলুন;
> মারাত্মক অসুস্থ রোগীকে নিকটস্থ সদর হাসপাতালে যেতে বলুন;
> রোগীকে নাক-মুখ ঢাকার জন্য মাস্ক ব্যবহার করতে বলুন;
> রোগীর নাম, বয়স, যোগাযোগের জন্য পূর্ণ ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর সংরক্ষণ করুন এবং
> আইইইডিসিআর-এর করোনা কন্ট্রোল রুমে (০১৭০৫-৭০৫৭৭) এবং হটলাইন নম্বরে (১৪৩৭-১১০০১৯, ০১৯৩৭-০০১১, ০১৯২-১১৭৮৪, ০১৯২৭-৭১১৭৫) যোগাযোগ করুন।

ওএস/পিএসএস

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও