প্রতিষ্ঠার ৪২ বছর পেরিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
Back to Top

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২২ | ১২ মাঘ ১৪২৮

প্রতিষ্ঠার ৪২ বছর পেরিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইরফান রানা ৪:১৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০২১

প্রতিষ্ঠার ৪২ বছর পেরিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রতিষ্ঠার ৪২ বছর পেরিয়ে ৪৩ বছরে পা রাখছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। সোমবার ৪৩ তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালিত হবে। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ১৯৭৯ সালে যাত্রা শুরু করে এ বিশ্ববিদ্যালয়। তবে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে এক বৃহৎ ইতিহাস।

ক্যাম্পাস সূত্রে, ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর কুষ্টিয়া শহর থেকে ২৪ কি.মি. ও ঝিনাইদহ শহর থেকে ২২ কি. মি. দূরে শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুর নামক স্থানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পরেই স্থানান্তর জটিলতায় পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি। পরে ১৯৮৩ সালের ১৮ জুলাই এক অধ্যাদেশে শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুর থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় গাজীপুরের বোর্ড বাজারে স্থানান্তর করা হয়। জাতীয় সংসদে ১৯৮০ সালের ২৭ ডিসেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৮০ (৩৭) পাস হলে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যাবলী পরিচালনায় স্বায়ত্বশাসন প্রদান করা হয়। পরে ১৯৮১ সালে ১লা জানুয়ারি প্রথম উপাচার্য হিসেবে ড. এ এন এম মমতাজ উদ্দিন চৌধুরীকে নিযুক্ত করা হয়। 

১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে তিনটি বিভাগে আটজন শিক্ষক ও ৩০০ শিক্ষার্থী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৮৯ সালের ৩ জানুয়ারি তৎকালীন মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৪ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ১৯৯০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়টি গাজীপুর থেকে পুণরায় শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুরে স্থানান্তর করা হয়। এভাবে বারবার স্থান বদলের কবলে পড়ে শুরুতেই বড় ধরণের হোঁচট খায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। এভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টি নানা বাধা বিপত্তি পেরিয়ে সামনে অগ্রসর হতে শুরু করেছে। 

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি অনুষদের ৩৪টি বিভাগে ১৫ হাজার ৩৮৪ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছেন। যাদের ১০ হাজার ২৯১ জন ছাত্র এবং ছাত্রী ৫ হাজার ৯৩ জন। বর্তমানে ৩৯০ জন শিক্ষক শিক্ষাদানে নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়াও ৪৬৮ জন কর্মকর্তা, ১৫২ জন সহায়ক কর্মচারী এবং ১৭১ জন সাধারণ কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রেখে চলেছেন। 

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ পর্যন্ত ৫১৪ জন পি.এইচ.ডি এবং ৬৯৬ জন এম.ফিল ডিগ্রি অর্জন করেছে। বর্তমানে ২৯০ জন পিএইচ.ডি এবং ২১৯ জন এম.ফিল গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন। অ্যালপার ডগার (এডি) সায়েন্টিফিক ইনডেক্সের ওয়েবসাইটে সম্পতি প্রকাশিত বিশ্বসেরা গবেষকের তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ১৭ শিক্ষক স্থান পেয়েছেন। 

এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪টি সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম সমাবর্তন ২৭ এপ্রিল ১৯৯৩ সালে, দ্বিতীয় সমাবর্তন ৫ ডিসেম্বর ১৯৯৯ সালে, তৃতীয় সমাবর্তন ২৮ মার্চ ২০০২ সালে এবং সর্বশেষ ৪র্থ সমাবর্তন ৭ জানুয়ারি ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত হয়। 

বর্তমানে শিক্ষার্থীদের জন্য ৮টি আবাসিক হল, চিকিৎসা কেন্দ্র, ব্যায়ামাগার, বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ নামের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার রয়েছে। একই সাথে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতের জন্য বর্তমানে বিশ্বদ্যালয়ের পরিবহন পুলে ৪৩টি পরিবহন রয়েছে। এর মধ্যে ৫টি এসি কোস্টার গাড়িসহ বাস-মিনিবাস ২২টি, এ্যাম্বুলেন্স ২টি, পিক-আপ ২টি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চাহিদার তুলনায় এই আবাসন ও পরিবহন সুবিধা অপ্রতুল। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ৪২ বছর পার করলেও এই সংকট সমাধান করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত ১৩ জন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৩তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম।

তিনি জানিয়েছেন, করোনা মহামারি শেষে ক্যাম্পাসের একাডেমিক এবং প্রশাসনিকসহ সব কাজে প্রবাহমানতা তৈরি করার চেষ্টা করছি। শিক্ষা, গবেষণা এবং প্রশাসন পরিচালনায় স্বচ্ছতা এই তিনটি বিষয় সামনে রেখে শিক্ষক-কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সকলের সহযোগিতা দিয়ে আমরা আগামী দিনে সামনের দিকে এগিয়ে যাব। 

তিনি আরও জানিয়েছেন, সংকট আসলে সংকটের ভিতর দিয়েই সব বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে দিয়ে আমাদের অগ্রসর হতে হবে। আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করছি। সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন তৈরির কাজ শুরু হয়ে গেছে।

এসকে
 

আরও পড়ুন

আরও