আজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬তম জন্মদিন
Back to Top

ঢাকা, শনিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২২ | ৮ মাঘ ১৪২৮

আজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬তম জন্মদিন

পরিবর্তন ডেস্ক ১১:১২ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০২১

আজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬তম জন্মদিন
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি ও দেশের সর্ববৃহৎ ক্যাম্পাস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬তম জন্মদিন আজ।

১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস ও অর্থনীতি- এই চারটি বিভাগ নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়। অবশ্য এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল ১৯৬৫ সালে।

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে পাহাড়ি ও সমতল ভূমি মিলিয়ে ১৭৫৩.৮৮ একর ভূমিতে এর অবস্থান। শুরুর সময় সাতজন শিক্ষক ও ২০০ শিক্ষার্থী ছিলেন আয়তনে সবচেয়ে বড় এই বিদ্যাপীঠের। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ছিলেন প্রফেসর আজিজুল রহমান মল্লিক।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮টি বিভাগ ও সাতটি ইনস্টিটিউটে রয়েছে প্রায় ২৮ হাজারের মতো শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের (৮টি ছেলেদের ও ৪ মেয়েদের) জন্য রয়েছে সর্বমোট ১২টি আবাসিক হল। এছাড়াও নগরের বাদশা মিয়া রোডে রয়েছে চারুকলা ইনস্টিটিউটের জন্য একটি হোস্টেল। বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরাট অবদান। তৎকালীন পাকিস্তানের শোষণের কবল থেকে জাতিকে মুক্ত করার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রাণ দিয়েছেন একজন শিক্ষক, ১১ জন শিক্ষার্থীসহ চবি’র ১৫ ব্যক্তি।

এ ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অংশ হিসেবে রয়েছে কাটা, পাহাড়, ঝুলন্ত সেতু, চালন্তা গিরিপথ, কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের পেছনের ঝর্ণা, হতাশার মোড়, টেলিটক পাহাড়, বোটানিক্যাল গার্ডেন ইত্যাদি।

এই পাহাড়ি ক্যাম্পাসে মাঝেমধ্যেই দেখা মেলে বিভিন্ন জীবজন্তুর। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- মায়া হরিণ, বুনো শূকর, সজারু, বানর এবং বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ও পাখি। 

এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ই দেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে যার নিজস্ব জাদুঘর রয়েছে। এই ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য শুধু শিক্ষার্থীদেরকেই বিমোহিত করে না বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেড়াতে আসা পর্যটকদেরও এক অদ্ভুত মায়ার বাঁধনে আবদ্ধ করে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের প্রধান বাহন হচ্ছে শাটল ট্রেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হিসেবে স্থানটি দখল করে নেয় শাটল ট্রেন। প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার শিক্ষার্থী শাটল ট্রেনে যাতায়ত করে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মদিন উপলক্ষে নানা কর্মসূচি নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির উপাচার্য শিরীণ আখতার জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার থেকে আনন্দ শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হবে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কার্যক্রম। সকাল ১১টায় কেক কাটার পর সাড়ে ১১টায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন মহীবুল আজিজ।

এসকে

 

আরও পড়ুন

আরও