বন্ধু, কী খবর বল? কতদিন দেখা হয়নি
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১০ আশ্বিন ১৪২৮

বন্ধু, কী খবর বল? কতদিন দেখা হয়নি

হাসান রাজীব ১২:৩৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১

বন্ধু, কী খবর বল? কতদিন দেখা হয়নি
‘দলাদলির দিন, গলাগলির দিন, হঠাৎ অকারণে হেসে ওঠার দিন, বন্ধু, কী খবর বল? কতদিন দেখা হয়নি’। হ্যাঁ ঠিকইতো, কতদিন যে দেখা হয়নি! দীর্ঘ দেড়টা বছর। কম সময়! যেসব বন্ধুদের একদিন না দেখলে সেদিন আর ভালো কাটেনি। সেই প্রিয় বন্ধুদের ছেড়ে আঠারোটি মাস কেটে গেল বদ্ধ ঘরের কোণে।

শিক্ষাজীবনে সহপাঠী মানে জীবনেরই একটা অংশ। দীর্ঘদিন স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় প্রিয় শিক্ষক ও বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়নি, কথা হয়নি। টানা দেড় বছর বাসায় থেকে মনে হয় সবাইকে ভুলে গেছি।

মহামারি করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে কেউ হয়তো গ্রামে ফিরে গিয়েছিল। কারও আবার মোবাইল নষ্ট। এরপরও অনলাইনে কথা হয়েছে। তবে দীর্ঘ এ সময়ে প্রিয় বন্ধুটির সঙ্গে খুনসুঁটি আর না বলা গল্পে শিক্ষার্থীদের মনে জমেছিল কথার পাহাড়। তাই ৫৪৪ দিন পর এটি শুধু স্কুলে ফেরা নয়, এটি ছিল প্রিয় বন্ধুর কাছে এসে হাতটি ধরা। গল্পে গল্পে হারিয়ে যাওয়া। আর বিদ্যাপীঠের জ্ঞানের পরশে আন্দোলিত হওয়া।

দীর্ঘ দেড় বছর পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পা রেখেই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে এভাবেই হারিয়েছে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতেই তাদের সবারই চোখে মুখে ছিল খুশির ঝিলিক।

হৈ হৈ করে ঘাড়ে ব্যাগ নিয়ে স্কুলে ঢুকছে শিক্ষার্থীরা। চিৎকার, আর বাঁধভাঙা জোয়ারে আনন্দের বহিঃপ্রকাশ তাদের।

শিক্ষামন্ত্রী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঘুরে দেখেছেন পরিস্থিতি। সন্তানের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে খুনসুঁটিতে মেতে ওঠেন অভিভাবকরা। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক সবার আশা, আবার সবকিছু আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।

রাজধানীসহ সারা দেশের সব শিক্ষার্থীই প্রিয় বন্ধুদের কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। তারা জানায়, ‘অনেক আনন্দ লাগছে। অনেক বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়েছে। সবার সঙ্গে সবার অনেক কথা হয়েছে। তবে ৪ ঘণ্টা মুখে মাস্ক পরে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে। মাস্কের ভেতরে ঘামে ভিজে কেমন হয়ে গেছে। এতে খুব অস্বস্তি লাগলেও আমরা সবাই খুশি।’

একসময় ঢং ঢং করে বাজলো স্কুলের ঘণ্টাধ্বনি। সবাই ঢুকছে শ্রেণিকক্ষে। তাদের বরণ করে নিতে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ, স্কুলের আঙিনা সাজানো হয়েছে রঙিন কাগজ, জরির মালা, বিভিন্ন রঙের বেলুন ও কাগজের ফুল দিয়ে।

নিজের চেনা-পরিচিত প্রাণের পাঠশালায় দীর্ঘদিন পরে ফিরেছে শিক্ষার্থীরা। এ যেন পরম আনন্দের দিন তাদের কাছে। মুখের উচ্ছ্বাস দেখেই তা আঁচ করা যায়। শরতের স্নিগ্ধ সকালে কাঁধে স্কুলব্যাগ নিয়ে শিশুদের ছোটাছুটির এমন দৃশ্য পথচারী কারোর দৃষ্টি এড়ায়নি।

প্রতিটি স্কুলে উচ্ছসিত ছিল শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন পরে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পেরে খুশি হয়েছেন অভিভাবকরাও। শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের পেয়ে প্রাণ ফিরেছে বিদ্যালয়গুলোর।

বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান গেট দিয়ে মাস্ক পরে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করতে দেখা যায়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ ও হ্যান্ড স্যানিটাইজের ব্যবস্থা করেছেন। প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন। অন্যান্য সময়ের মতো একে অপরের কাঁধে হাত অথবা কোলাকুলির দৃশ্য না থাকলেও শিক্ষার্থীদের চোখে মুখে ছিল অন্য রকম এক আনন্দ অনুভূতির ছোয়া।

অনেকেই সকালে মা, বাবা অথবা ভাইয়ের সঙ্গে স্কুলে এসেছে। দুপুরের পর ক্লাস শেষ করে বের হয়ে বন্ধুদের সঙ্গে সেলফি তুলতে দেখা যায় তাকে। এতদিন পর স্কুলে এসে তাদের মনে জেগেছে এক অন্যরকম অনুভূতি। এ যেন ঈদের দিনের মতো। ঈদের দিন বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হলে যেমন আনন্দ হয়, তেমন আনন্দ হচ্ছে আজ। 

রাজধানী ঢাকার মুগদার এশিয়ান আইডিয়াল স্কুলের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাবিলা জানায়, প্রাণঘাতী করোনা কারণে পুরো পৃথিবী যেন থমকে গেছিলো। বন্ধ হয়ে গিয়েছিল প্রাণের স্কুলটিও। সেই সাথে বন্ধ ছিল পড়াশোনাও। আজ স্কুলে ফিরতে পেরে খুব আনন্দ লাগছে। প্রিয় বন্ধুদের পেয়ে কি যে আনন্দ লাগছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। মনে হচ্ছে, দীর্ঘদিন পর প্রাণ ফিরে পেলাম। 

নাবিলা জানায়, আগের দিনই মা-বাবার নির্দেশ ছিলো- তোমার ব্যাগ, বই-খাতা-কলম, স্কুলড্রেস ও জুতা সব গুছিয়ে রেখ। রাতের খাবার শেষ করে ১০টার আগে ঘুমাতে যাবে। আজ থেকে টেলিভিশন, মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার দেখা বন্ধ। তাৎক্ষণিক খারাপ লাগলেও প্রাণে খুশির ঝিলিক লেগেছিল এই ভেবে যে কাল থেকে আবার স্কুলে যেতে পারবো। দেখা হবে প্রিয় শিক্ষক, সহপাঠী ও বন্ধুদের সঙ্গে।

চাপাইনবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, গত ১৮ মাস বাসায় বসে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে গেছিলাম। এছাড়া আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা অনলাইনে ক্লাসের সাথে পরিচিত না। তাই অনলাইনে ক্লাসের প্রতিও আমার আগ্রহ ছিল না। বাসায় বসে, সুয়ে, মোবাইল টিভি দেখেই সময় পার করেছি। পড়াশোনার অনেক ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আশা করি, স্কুল খোলার পর তা সেই ঘাটতি পূরণ করতে পারবো। এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় পাব এখন।

সশরীরে পাঠদান অংশ নিতে পেরে উচ্ছ্বসিত শিক্ষকরাও। তারা বলছেন, শিক্ষকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বোঝাপড়া। দীর্ঘদিন পর এটি আবার শুরু হওয়ায় তারা খুবই আনন্দিত।

যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা লায়লা শিরিন সুলতানা জানান, স্কুলের ভেতরের জঙ্গল কেটে এবং স্কুল ধুয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীরাও স্কুলে আসার পরে ক্যাম্পাস মুখর হয়েছে। শিক্ষার্থীরা স্কুলমুখী হওয়ায় তাদের জন্য আমরা অভ্যর্থনা জানিয়েছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিটি ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অভিভাবকরা জানান, ১৭ মাসের মতো বন্ধ থাকায় নতুন পোশাক, জুতা ও ব্যাগ কিনতে হয়েছে। এরপর রাতে বই-পুস্তক ঠিক করে রাখা, সকালের টিফিন তৈরি করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে ছেলে-মেয়েরা আবার স্কুলে ফিরতে পারছে; আবার তাদের নিয়মিত লেখাপড়া শুরু হচ্ছে। এটাই অভিভাবকের জন্য খুশির খবর।

গতকাল প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের চেয়ে প্রাথমিকের শিশুরা তুলনামূলক বেশি স্বাস্থ্যবিধি মেনেছে। রাজধানীর গণকটুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চম শ্রেণিতে মোট শিক্ষার্থী ৮২ জন। কিন্তু প্রথম দিন উপস্থিত ছিল ৪২ জন। আর তৃতীয় শ্রেণিতে মোট শিক্ষার্থী ৭০ জন। কিন্তু উপস্থিত ছিল ৩৬ জন। এরকম চিত্র ছিল অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক অভিভাবক প্রথম দিনে শিশুদের স্কুলে পাঠাননি। আস্তে আস্তে এটা ঠিক হয়ে আসবে।

তবে দীর্ঘদিন পর মাদ্রাসা চালু হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক- সবাই খুশি। অনেক প্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় ছাত্রদের কাছাকাছি বসতে হয়েছে। তবে তারা প্রায় সবাই মাস্ক পরেছে।

স্কুল-কলেজ খুলে যাওয়ায় গতকাল সকাল থেকে রাজধানীর প্রায় সব সড়কে গাড়ির চাপ ছিল অনেক বেশি। মালিবাগ, শান্তিনগর, কাকরাইল ও গুলিস্তানসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে তীব্র যানজট তৈরি হয়।

তবে এতো আনন্দের মাঝেও রয়েছে দুঃখ কষ্ট ও কান্না। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর দেশে রোরবার থেকে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও এক হাজারের মতো কিন্ডারগার্টেন ও স্কুল খুলেনি।

মূলত আর্থিক অস্বচ্ছলতা, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী সংকটের কারণেই স্কুলগুলো বন্ধ রাখতে তারা বাধ্য হচ্ছেন বলে শিক্ষকরা জানিয়েছেন।

সরকারের নির্দেশনা মেনে রোববার থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেনি তার একটি চট্টগ্রামের ভিশন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল।

স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন বলছেন, ‘২১ জন শিক্ষক এবং সাড়ে চারশো শিক্ষার্থী নিয়ে তাদের স্কুল চলছিল। তবে চরম প্রতিকূল অবস্থায় পড়ে তাকে বাধ্য হতে হয়েছে স্কুলটি বন্ধ করে দিতে।’

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল এবং কলেজ ঐক্য পরিষদ দাবি করছে, সারা দেশে প্রায় ৬০ হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুল ছিল। সেখানে প্রায় ১০ লাখ শিক্ষক প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থীকে পাঠদান করে আসছিল। কিন্তু করোনার প্রকোপে স্কুল যেমন বন্ধ হয়েছে তেমনি নতুন করে স্কুল খুলতে শিক্ষকদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে নানা চ্যালেঞ্জ।

ফেনী জেলায় অর্ধশতাধিক কিন্ডারগার্টেন স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। আরও ১৫০টির অবস্থা নিবু নিবু। বেকার হয়েছেন এক হাজারেরও বেশি শিক্ষক।

ফেনী জেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম মামুনুর রশিদ জানান, ফেনীতে প্রায় তিনশো কিন্ডারগার্টেন স্কুল আছে। করোনার ছোবলে এর অধিকাংশের অবস্থা শোচনীয়। উদ্যোক্তারা ব্যয়ভার বহন করতে না পেরে প্রতিষ্ঠান গুটিয়ে নিয়েছেন।

তিনি জানান, করোনার কারণে এরই মধ্যে শহরের শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কে আলহ্বাজ শামছুল হক ভূঞাঁ আদর্শ একাডেমি, পাগলা মিয়া সড়কে প্রাইম আইডিয়াল একাডেমি, শিক্ষা নিকেতন ইনস্টিটিউট, ইস্ট ওয়েস্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও সৃজনী গ্রামার স্কুল এরকম বেশ কয়েকটি কিন্ডারগার্টেন বন্ধ হয়ে গেছে।

করোনার কারণে বেড়েছে স্কুলগামী শিশুদের বাল্যবিয়ে। একটি বেসরকারি সংস্থার তথ্যমতে, শুধু কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও উলিপুর উপজেলাতেই গত ১৪ মাসে বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে ১৬৭ কন্যাশিশু। গত বছরের এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সাত মাসে কুড়িগ্রাম জেলায় বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে ১ হাজার ২৭২ কন্যাশিশু। এই সাত মাসে দেশের ২১টি জেলার ৮৪ উপজেলায় ১৩ হাজার ৮৮৬টি বাল্যবিয়ে হয়েছে বলে জানিয়েছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দেশের ১৩টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নারী ও কন্যাশিশুর ওপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে। তাদের হিসাবে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের আগস্ট মাস পর্যন্ত মাত্র ১০৮টি বাল্যবিয়ের ঘটনা ঘটে। বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ছিল ৯৭। ২০১২ থেকে ১৮ সাল পর্যন্ত, অর্থাৎ গত সাত বছরে বাল্যবিয়ের ঘটনা ঘটে ৭৬৮টি।

মহামারি করোনাভাইরাস কেড়ে নিয়েছে তাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় শিক্ষাজীবন, প্রিয় শিক্ষক সহপাঠী ও প্রাণের বন্ধুদের। 

এদিকে করোনা সংক্রমণ বাড়লে আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণার বিষয়ে জানতে চাইলে দীপু মনি বলেন, ‘যদি সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়, তাহলে তো আমাদের সুযোগ থাকবেই আগের পদ্ধতিতে (অনলাইন ক্লাস) ফিরে যাওয়ার।’

কোভিড-১৯ সংক্রমণজনিত ঝুঁকির কারণে গত বছরের (২০২০) ১৭ মার্চ সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এক সময় শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে অনলাইনে ক্লাস চললেও লম্বা সময় লাখ লাখ শিক্ষার্থী ছিল ঘরবন্দি। 

এরপর সংক্রমণ পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি না হওয়ায় দফায় দফায় ছুটি বাড়ানো হয়। চলতি বছরের শুরুর দিকে সংক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও কয়েক দফা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি নিয়েও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে সম্প্রতি ১২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। 

এতদিন শিক্ষার্থীরা কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করছিল, যেন খুলে দেওয়া হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আগামী অক্টোবরের মধ্যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও খুলে দেওয়া হতে পারে।

এইচআর
লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।
 

আরও পড়ুন

আরও