বাঙালির চোখে অপু-অপর্ণাই ছিল রোমিয়ো-জুলিয়েট
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২১ | ১৪ মাঘ ১৪২৭

বাঙালির চোখে অপু-অপর্ণাই ছিল রোমিয়ো-জুলিয়েট

পরিবর্তন ডেস্ক ১:০৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০১, ২০২০

বাঙালির চোখে অপু-অপর্ণাই ছিল রোমিয়ো-জুলিয়েট
প্রায় দু’সপ্তাহেও বেশি সময় হলো অতিক্রান্ত হয়েছে অপু হারিয়ে যাওয়ার। এখনো তার স্মৃতিতে দেশে-বিদেশে আয়োজিত হচ্ছে বিভিন্ন অনুষ্ঠান। চর্চা চলছে প্রয়াত অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বহুমুখী প্রতিভার নানা দিক নিয়ে। গত ২৯ নভেম্বর ব্রিটেনের বেঙ্গল হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে সৌমিত্র সম্পর্কে রঙিন দিনের স্মৃতির ঝাঁপি খুলেছিলেন শর্মিলা ঠাকুর। অনুষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিল ব্রিটিশ কাউন্সিল, দ্য নেহরু সেন্টার। শর্মিলা ছাড়াও আলোচনায় ছিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, কৌশিক সেন, সুমন ঘোষ প্রমুখ।

আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সত্যজিৎ রায়ের ‘অপুর সংসার’ ‘রোমিয়ো-জুলিয়েটের পরে কয়েক দশক ধরে অপু-অপর্ণা ছিল সবচেয়ে রোম্যান্টিক জুটি,’ শর্মিলার প্রশস্তি আলোচনা সভার আমেজ তৈরি করে দিয়েছিল। ছবির সময়ে শর্মিলার বয়স ১৩, সৌমিত্র ২৩। প্রবীণ অভিনেত্রী বলেন, ‘ছবিটায় অদ্ভুত এক সারল্য ছিল। ওই সময়ে আমাদের জীবনেও যে সারল্য, আশা ছিল, তা-ই প্রতিভাত হয়েছিল পর্দায়।’

শর্মিলা বলেন, ‘আমার কেরিয়ারের দু’টি পর্যায়। যখন ‘অপুর সংসার’, ‘দেবী’ করলাম, তখন আমি স্কুলে পড়ি। এর পরে বম্বে যাই। ‘বর্ণালী’, ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’র মতো ছবিগুলি যখন করি, তখন খানিক পরিণত।’ সৌমিত্রের অভিনয়শৈলী সম্পর্কে শর্মিলার পর্যবেক্ষণ, ‘মানিকদা আমাদের সংলাপের সাথে কিছু নোটসও দিতেন। তবে সৌমিত্রকে দেখতাম, চরিত্র নিয়ে মানিকদার সাথে আলোচনা করতে। দৃশ্যটির আগে সেই চরিত্রটি কী করে, এমন ধরনের প্রশ্ন করতেন।’ ক্যামেরা বন্ধ হলে সৌমিত্র চিরন্তন ‘আড্ডাবাজ’। ‘কখনও আবৃত্তি করছেন, তার অভিজ্ঞতার কথা বলছেন। মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনতাম!’

‘নায়ক’, ‘অমানুষ’ ছবিতে উত্তমকুমারের সাথে ছিলেন শর্মিলা। সৌমিত্র কতটা আলাদা ছিলেন উত্তমের চেয়ে এমন প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী বলেন, উত্তম ছিলেন স্টার। তার সুস্পষ্ট ধারণা ছিল স্টারডম সম্পর্কে। জনতার সাথে সচেতন দূরত্ব বজায় রাখতে তিনি পছন্দ করতেন। আমি যখন তার সাথে ছবি করেছি, তখনও শ্রদ্ধাপূর্ণ দূরত্ব বজায় ছিল। আসলে উত্তম কখনও বন্ধু হয়ে ওঠেননি। সৌমিত্র আর আমার একসাথে পথচলা শুরু। তাই দ্রুত সখ্যও গড়ে উঠেছিল। সকলে তার কাছে পৌঁছতে পারত। বরাবরই সৌমিত্র তার অনুসন্ধিৎসু মনটা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন।’

পরিচালক সুমন ঘোষ এক বার সৌমিত্রের কাছে প্রশ্ন রেখেছিলেন, ‘বম্বের ইরফান খান, নওয়াজ়উদ্দিন সিদ্দিকির মতো বাংলা ছবি ইদানীং আন্তর্জাতিক মানের শিল্পী তৈরি করছে না কেন?

যে উচ্চতায় তিনি পৌঁছে ছিলেন, তার পরে আর কেউ নেই কেন?’ জবাবে সৌমিত্র বলেছিলেন, ‘ও রকম ছবি আর হচ্ছে কোথায়?’

আসলে সময় বলে দেয়, কালের গর্ভে কোন ছবি ছাপ রেখে যাবে। অভিনেত্রীর কথায়, ‘আমরা কয়েকটি ছবিতেই রোম্যান্টিক জুটি ছিলাম। কয়েক দশক ধরে সে সব ছবির দ্যুতি অক্ষুণ্ণ ছিল।’

ওএস/ এসকে

 

আরও পড়ুন

আরও