সিডরের ১৩ বছর পরও নির্মাণ হয়নি পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র
Back to Top

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০ | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

সিডরের ১৩ বছর পরও নির্মাণ হয়নি পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র

অচিন্ত্য মজুমদার, ভোলা ১২:০৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০২০

সিডরের ১৩ বছর পরও নির্মাণ হয়নি পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র
ভোলার উপকূলের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রলয়ঙ্কারী ২০০৭ সালের সেই ঘূর্ণিঝড় সিডরের ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও সেই দুর্বিসহ স্মৃতি ভুলতে পারছে না মানুষ।

সিডরের কথা মনে করে এখনও আতকে ওঠেন তারা। স্বজন হারনোর ব্যথা কাঁদায় তাদের। সিডরে নিখোঁজ ভোলার ১৫ জেলে আজও ফিরে আসেনি। তাদের ফিরে পাওয়ার প্রতিক্ষায় প্রহর গুনছেন স্বজনরা।

সিডরের ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও ভোলার উপকূলের মানুষ এখনও অরক্ষিত। এখনও ঝড়ের পূর্বাভাস পান না তারা। তাদের জন্য নির্মাণ করা হয়নি পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র।

এক এক করে পেরিয়ে গেছে ১৩ বছর। সিডরের সেই দিনের কথা আজও কাঁদায় উপকূলবাসীকে। কেউ হারিয়েছেন বাবা-মা, কেউ সন্তান, কেউ বা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পথে বসেছেন। কেউ বা সিডরে নিখোঁজ সন্তানদের ফিরে আসার প্রতিক্ষায়। কিন্তু তারা ফিরে আসবে কিনা তা জানা নেই কারো।

সিডরে নিখোঁজ চন্দ্র প্রসাদ গ্রামের লোকমান হোসেন (বাবা আব্দুর রশিদ) নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। সে বেঁচে নাকি মরে গেছে তা জানেন না তার পরিবার। এখনও ফিরে আসার অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছে তারা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিডরের সেই ভয়ঙ্কর ঝড়ে উপকূলীয় জেলা ভোলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখানে ৫২ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। নিহত হয় ৪২ জন। ৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া কয়েক কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়।

ওই ঝড়ের পর থেকে এখনও নিখোঁজ ১৫ জেলে। ১৩ বছরেরও তারা ফিরে না আশায় তাদের সলিল সমাধির আশঙ্কা করছেন সঙ্গীয় জেলেরা। সিডরে জেলা সদর, চরফ্যাশন, মনপুরা ও বোরহানউদ্দিনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সিডরে লণ্ডভণ্ড ভোলার সদরের চন্দ্র প্রসাদ গ্রামে এখনও চলছে শোকের মাতম। সন্তান হারানো ব্যথা ভুলতে পারছেন না তারা। দৌড়া-দৌড়ি ছুটা-ছুটি করে কেউ প্রাণ রক্ষা পেলেও সিডরের কথা মনে করলেই আঁতকে ওঠেন তারা। ক্ষতিগ্রস্ত নিঃস্ব অনেক পরিবার গৃহ নির্মাণ করতে না পেরে ঝুপড়ি ঘরে বেড়িবাঁধে আশ্রয় নিয়ে বছরের পর বছর পার করছেন তারা। সিডরের বর্ণনা করতে গিয়ে তারা যেন আতঙ্কিত।

প্রত্যক্ষদর্শী মালেক, শাজাহান, বিবি আসমা পরিবর্তনকে বলেন, ‘ঝড় শুরু হওয়ার সাথে সাথে ঘর থেকে বের হয়ে বাঁচার জন্য যুদ্ধ করি। কারো কারো প্রাণ রক্ষা হলেও মারা যান তিনজন। তাদের পরিবারে এখনও শোক চলছে।’

এদিকে, ভোলার উপকূলের উপর দিয়ে সিডর-আইলার মতো ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেলেও উপকূলের মানুষের জন্য নির্মাণ করা হয়নি পর্যপ্ত সাইক্লোন সেল্টার। ঝড় এলেই উপকূলবাসীর খবর নেয় প্রশাসন থেকে গণমাধ্যম কর্মীরা। আর বাকি সারা বছর এদের কথা ভাবে না কেউ।

এইচআর

 

আরও পড়ুন

আরও