মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি যুক্তিযুক্ত: আইসিজে
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ২৫ মে ২০২০ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি যুক্তিযুক্ত: আইসিজে

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:১৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০২০

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি যুক্তিযুক্ত: আইসিজে

ছবি: আবু সুফিয়ান

গণহত্যা বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার যে আবেদন গাম্বিয়া করেছে, তা যুক্তিযুক্ত বলে মনে করছে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে)।

জাতিসংঘের এই সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না- সেই বিচারের এখতিয়ার আইসিজের রয়েছে। সেইসঙ্গে আন্তর্জাতিক গণহত্যা কনভেনশনের ভিত্তিতে এই মামলা করার প্রাথমিক অধিকারও গাম্বিয়ার আছে।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ নিতে গাম্বিয়ার করা আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে গিয়ে এ কথা বলেছেন আইসিজের প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আবদুলকাভি আহমেদ ইউসুফ।

ছবি: আবু সুফিয়ান

দ্য হেগের স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় (বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টায়) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতের আদেশ ঘোষণা শুরু করেন।

রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যা করা হয়েছে তা গণহত্যার শামিল বলেও মন্তব্য করেছে আইসিজে। বৃহস্পতিবার গাম্বিয়ার করা মামলার রায় ঘোষণার সময় এ মন্তব্য করেন নেদারল্যান্ডসের হেগে ১৫ বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত আইসিজে।

সংস্থাটি আরো বলেছে, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা প্রদানের দায় অস্বীকার করতে পারে না মিয়ানমার।

প্রসঙ্গত, গত বছরের নভেম্বরে আইসিজেতে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে মামলাটি দায়ের করেছিল পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। গাম্বিয়া মুসলিম দেশগুলোর জোট অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওআইসি) পক্ষে এই আইনি প্রক্রিয়ার উদ্যোগ নেয়। মামলায় সমর্থন দিতে ওআইসি তার ৫৭ সদস্য দেশকে উৎসাহিত করেছিল।

ছবি: আবু সুফিয়ান

পরবর্তীতে গত বছরের ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর আইসিজেতে এই মামলার শুনানি হয়। এতে গাম্বিয়া ও মিয়ানমারের আইনজীবীরা অংশ নিয়েছিলেন। শুনানি চলাকালে গাম্বিয়ার নেতৃত্ব ছিলেন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইনমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদু। মিয়ানমারের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি।

মামলার রায়ে বলা হয়, বেসামরিক রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থ হয়েছে মিয়ানমার। সেখানে আরো বলা হয়, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চরম নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং সেখানে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অবহেলা ছিল।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। ইতিহাসের জঘন্যতম ওই অভিযানের শিকার হয়ে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন এর আগে বলেছে, গণহত্যার উদ্দেশ্যেই মিয়ানমার ওই অভিযান চালিয়েছে।

যদিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দাবি মিয়ানমার বরাবর অস্বীকার করেছে। এর পরই বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতে নেন গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল আবুবকর মারি তামবাদু।

আরপি

 

: আরও পড়ুন

আরও