২০-২৫ রানের আক্ষেপ মাশরাফির
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০ | ২৭ আষাঢ় ১৪২৭

২০-২৫ রানের আক্ষেপ মাশরাফির

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:৪১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৮

২০-২৫ রানের আক্ষেপ মাশরাফির

২২২ রানের মামলি পুঁজি নিয়ে কি আর জয় পাওয়া সম্ভব! সেটাও শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে। তবে জয় না হোক, স্বল্প এই পুঁজি নিয়ে অবিশ্বাস্য লড়াই করেছেন বাংলাদেশের বোলাররা। বিশেষ করে তিন পেসার রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান ও অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা অসাধারণ বোলিং করেছেন। তাদের অগ্নি-ঝরা বোলিংয়ের কারণেই ম্যাচের শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করেছে বাংলাদেশ। ২২২ রান নিয়েও বোলারদের প্রানপণ লড়াই স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছে, আর ২০-২৫টা রান হলেই ভারতের পরিবর্তে শিরোপা উৎসবটা হতে পারত বাংলাদেশে!

ম্যাচ শেষে মাশরাফির কণ্ঠেও ঝরল ২০-২৫ রানের আক্ষেপ। ঠিক আগের ম্যাচটাতেই ২৩৯ রানের পুঁজি নিয়ে পাকিস্তানকে রুখে দিয়েছিল বাংলাদেশের বোলাররা। তুলে নিয়েছিল ৩৭ রানের জয়। আফগানিস্তানের তার আগের ম্যাচটিতে ২৪৯ রানের পুঁজি নিয়ে ৩ রানের জয়।

এই দুটি ম্যাচকে উদাহরণ বানিয়ে মাশরাফি বলেছেন, ‘আমরা আমাদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়ে খেলেছি। শেষ বল পর্যন্ত চাপ প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছি। হ্যাঁ, স্বীকার করছি আমরা ব্যাটিং এবং বোলিং, দুই বিভাগেই কিছু ভুল করেছি। তবে আগের ম্যাচগুলোতে আমাদের বোলিংয়ের দিকে তাকালে দেখবেন, আমরা ২৪০-এর মতো রান করে জিতেছি। ফাইনালেও ব্যাটসম্যানদের চাওয়া ছিল এটাই, ২৪০-২৫০ রান। তবে সেটা না হলেও আমরা দুর্দান্ত লড়াই করেছি। বোলাররা শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করেছে।’

শেষ ওভারে জয়ের জন্য ভারতের দরকার ছিল ৬ রান। রুবেল কিংবা মোস্তাফিজ শেষ ওভারটা করতে পারলে হয়তো ম্যাচের ফলটা অন্য রকমও হতে পারত। কিন্তু তাদের বোলিং কোটা আগেই শেষ হয়ে যায়। অধিনায়ক মাশরাফি নিজের ১০ ওভারের বোলিং কোটা শেষ করে ফেলেন আরও আগে। শেষ ওভারে মাশরাফি তাই বাধ্য হয়েই বল দেন মাহমুদউল্লাহর হাতে।

প্রশ্ন উঠেছিল পেসারদের কোটা শেষ করে শেষ ওভারটা স্পিনারদের জন্য রাখলেন কেন? এই প্রশ্নের ব্যাখ্যাটাও দিয়েছেন মাশরাফি। বলেছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা সাবলীল ব্যাটিং করেছিলেন। তাই তিনি চেয়েছেন পেসার দিয়ে বোলিং করিয়ে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখতে। সেটা পেরেছেনও রুবেল-মোস্তাফিজ। কিন্তু মাশরাফির শেষ ওভার পরিকল্পনাটা সফল হয়নি। তিনি চেয়েছিলেন শেষ ওভারের সমীকরণটা ১০ রানে রাখতে। যাতে মাহমুদউল্লাহ বা নাজমুল ইসলাম তা ভালোভাবে ডিফেন্ড করতে পারে।

কিন্তু তা হয়নি। শেষ দিকে রুবেল-মোস্তাফিজ অসাধারণ বোলিং করার পরও দারুণ ব্যাটিং করে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা শেষ ওভারের সমীকরণটা বানিয়ে ফেলেন ৬ রানের। মাহমুদউল্লাহর পক্ষে যা ডিফেন্ড করা সম্ভব হয়নি। জয় পায়নি বাংলাদেশও।

ব্যাখ্যায় মাশরাফি বলেছেন, ‘আমি বারবার বোলারদের সঙ্গে কথা বলেছি। মাঝপথে তারা (ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা) বড় শট খেলঅর চেষ্টা করছিল। আমি তাই পেসারদের দিয়ে আগে বোলিং করিয়ে তাদের রানের চাকাটা থামানোর চেষ্টা করছিলাম। শেষ ওভারটা আমি নাজমুল বা মাহমুদউল্লাহর জন্য রাখতে চেয়েছি। কারণ, চিন্তা ছিল যদি পেসাররা ৪৫ ওভার থেকে ভালো বোলিং করে এবং আমরা যদি শেষ ওভারে অন্তত ১০ রানের সমীকরণ পেয়ে যাই তাহলে হয়তো ডিফেন্ড করতে পারব।’

রুবেল-মোস্তাফিজ হতাশ করেছেন তা নয়। তারা শেষ দিকে সেরা বোলিংটাই করেছেন। কিন্তু নিজেদের লক্ষ্যের দিকে তাকিয়ে দারুণ ব্যাটিং করে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা সমীকরণটা সাধ্যের মধ্যে রেখেছে। এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচটাও বের করে নিয়েছে।

কেআর

 

 

: আরও পড়ুন

আরও