চলে গেলেন কথাসাহিত্যিক নিমাই ভট্টাচার্য
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২০ | ২২ আষাঢ় ১৪২৭

চলে গেলেন কথাসাহিত্যিক নিমাই ভট্টাচার্য

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৬, ২০২০

চলে গেলেন কথাসাহিত্যিক নিমাই ভট্টাচার্য
বাংলা ভাষার জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও বর্ষীয়ান সাংবাদিক নিমাই ভট্টাচার্য আর নেই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। 'মেম সাহেব' তার বহুল পঠিত একটি উপন্যাসের নাম।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা ১০ মিনিটে টালিগঞ্জের বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। তিনি বার্ধক্যজনিত অসুখে ভুগছিলেন। তার তিন পুত্র ও দুই কন্যা বর্তমান। নিমাইবাবুর স্ত্রী ও আরও দুই মেয়ে আগেই প্রয়াত হয়েছেন।

১৯৩১ সালের ১০ এপ্রিল তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার যশোর জেলার মাগুরা মহকুমায় জন্মগ্রহণ করেন এই স্বনামধন্য কথাসাহিত্যিক। দেশভাগের পর নিমাই ভট্টাচার্য পূর্ববঙ্গ থেকে পশ্চিমবঙ্গে স্থায়ী হন। সেখানে কলকাতার টালিগঞ্জের শাশমল রোডের বাসায় বসবাস করতেন তিনি। পাঁচ বছর আগে মস্তিস্কের রক্তক্ষরণজনিত কারণে শরীরের একাংশ অবশ হয়ে যাওয়ার পর থেকে লেখালেখি একেবারেই বন্ধ হয়ে যায় নিমাই ভট্টাচার্যের।

মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সে মাতৃহীন হয়ে ভীষণ কষ্টে পিতার সীমিত আয়ের মধ্যে নিমাই ভর্তি হন কলকাতা করপোরেশনের ফ্রি স্কুলে। কলকাতা রিপন কলেজে কিছুদিন পড়ালেখা করার পর যশোরে ফিরে আসেন তিনি। ১৯৪১ সালে তিনি যশোরের সম্মিলনী ইনস্টিটিউশনে চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং নবম শ্রেণি পর্যন্ত এখানেই পড়াশোনা করেন।

নিমাই ভট্টাচার্যের পিতা সুরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য নিজেও যশোরের সম্মিলনী ইনস্টিটিউশনের ছাত্র এবং পরবর্তীতে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন কলকাতা গমনের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত। পরবর্তীতে দেশভাগের পর নিমাই ভট্টাচার্য তার পিতার সঙ্গে পুনরায় কলতায় যান এবং সেখানে আবারও রিপন স্কুলে ভর্তি হন। সেখান থেকে তিনি ১৯৪৮ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন এবং সেখান থেকেই আইএ পাস করেন এবং ১৯৫২ সালে বিএ পাস করেন।

১৯৬৩ সালে কলকাতার সাপ্তাহিক ‘অমৃতবাজার’ পত্রিকায় প্রথম তার লেখা একটি উপন্যাস প্রকাশিত হলে তা ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। এরপর তার আরও চারটি উপন্যাস একই পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

কলেজে অধ্যয়নকালেই সাংবাদিকতা শুরু করেছিলেন তিনি। ১৯৫০ সালে ‘লোকসেবক’ পত্রিকা দিয়ে তার সাংবাদিকতা জীবনের শুরু। তারপর দিল্লিতে গিয়ে বেশ কয়েকটি কাগজের সংসদ, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক করেসপন্ডেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন।
১৯৮০ সাল পর্যন্ত টানা ৩০ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের বড় সময়টা কাটিয়েছেন দিল্লিতে। কাজ করেছেন পাঁচটি কাগজে। অধিকাংশই সর্বভারতীয় সংবাদপত্র। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে জওহরলাল নেহরু, লাল বাহাদুর শাস্ত্রী, ভি কে কৃষ্ণমেনন, মোরারজী দেশাই, ইন্দিরা গান্ধীসহ অনেকের স্নেহভাজন ছিলেন তিনি। সাংবাদিকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম লিখতেন তিনি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে আগাধ পাণ্ডিত্য ছিল নিমাই ভট্টাচার্যের। বাংলাদেশের স্বাধীনতার কয়েক বছর পর দিল্লিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে দেখা হলে তিনি বঙ্গবন্ধুকে চারটি বই উপহার দিয়েছিলেন।

নিমাই ভট্টাচার্যের প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা দেড় শতাধিক। যার অধিকাংশই উপন্যাস। প্রায় পাঁচ দশক ধরে সমানভাবে পাঠকপ্রিয় 'মেম সাহেব' উপন্যাসটি তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রচনা হলেও এ ছাড়া তার লেখা উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো- পিয়াসা, ম্যারেজ রেজিস্ট্রার, অষ্টাদশী, মাতাল, প্রবেশ নিষেধ, কেরানী, নিমন্ত্রণ, অ্যাংলো ইন্ডিয়ান, প্রিয়বরেষু, মোগল সরাই জংশন, শেষ পরানির কড়ি, পথের শেষে, সদর ঘাট ইত্যাদি। জীবদ্দশায় সাহিত্যকর্মের জন্য অসংখ্য স্বীকৃতি পেয়েছেন বরেণ্য এই কথাসাহিত্যিক।

ওএস/জেডএস

 

: আরও পড়ুন

আরও