শুভ জন্মদিন হুমায়ূন আহমেদ
Back to Top

ঢাকা, বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০ | ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

শুভ জন্মদিন হুমায়ূন আহমেদ

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:৪৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০২০

শুভ জন্মদিন হুমায়ূন আহমেদ
নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭২তম জন্মদিন আজ (শুক্রবার)। নানা আয়োজনে এ দিনটি উপযাপন করছে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

হ‌ুমায়ূন আহমেদ এমন এক সাহিত্যিক, যিনি ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, চলচ্চিত্র সব শাখাতেই অসম্ভব জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। পাঠক-দর্শককে মোহগ্রস্ত করেছেন।

এবার চলমান কোভিড-১৯ মহামারির কারণে হুমায়ূনের এবারের জন্মবার্ষিকীর বিভিন্ন অনুষ্ঠান সীমিত করার পাশাপাশি এগুলোর বেশিরভাগই আয়োজন করা হয়েছে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে।

১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় হ‌ুমায়ূন আহমেদের জন্ম। মৃত্যু ১৯ জুলাই ২০১২। ডাকনাম কাজল। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজ। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা, আর মা গৃহিণী। তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। কথা সাহিত্যিক জাফর ইকবাল তার ছোট ভাই। সবার ছোট ভাই আহসান হাবীব নামকরা কার্টুনিস্ট ও রম্যলেখক।

১৯৭২ সালে প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশের পরপরই খ্যাতি লাভ করেন হ‌ুমায়ূন আহমেদ।

বাংলাদেশে পাঠকপ্রিয় এই লেখক দুই শতাধিক ফিকসন ও নন-ফিকসন বই লেখেন। ১৯৯০ ও ২০০০ দশকে তার বইগুলো একুশে বইমেলায় সর্বাধিক বিক্রি হয়।

তাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী শ্রেষ্ঠ লেখকদের মধ্যে অন্যতম গণ্য করা হয়। বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগের এই অধ্যাপক নন্দিত নরকে, লীলাবতী, কবি, শঙ্খনীল কারাগার, গৌরিপুর জংশন, নৃপতি, বহুব্রীহি, এইসব দিনরাত্রি, দারুচিনি দ্বীপ, শুভ্র, নক্ষত্রের রাত, কোথাও কেউ নেই, আগুনের পরশমণি, শ্রাবণ মেঘের দিন, জোছনা ও জননীর গল্প, এমন ঝড় তোলার মতো উপন্যাস উপহার দিয়েছেন আমাদের। তার বইয়ের সংখ্যা তিনশ'রও বেশি।

বিজ্ঞানের ছাত্র হ‌ুমায়ূন আহমেদ প্রথম উপন্যাসেই সাড়া ফেলেন। হ‌ুমায়ূনের উপন্যাসের নাট্যরূপ ধারাবাহিকভাবে টেলিভিশনে প্রচারিত হলে সেখানেও দর্শকদের সাড়া। হ‌ুমায়ূন যখন চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন তা দেখতেও শহর ভেঙে পড়ে।

হ‌ুমায়ূন আহমেদ চলচ্চিত্র আগুনের পরশমণি, শ্যামল ছায়া, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, নয় নম্বর বিপদ সংকেত ও ঘেটুপুত্র কমলা সবগুলোই ছিল দর্শকপ্রিয় ও ব্যবসা সফল।

বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ হুমায়ূন আহমেদকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও একুশে পদক দেয়া হয়।

নব্বই দশকের শুরুতে চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে আবির্ভাব ঘটে তার। নিজের উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে হুমায়ূনের পরিচালিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে আগুনের পরশমণি, শ্যামল ছায়া, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, নয় নম্বর বিপদ সংকেত, ঘেটুপুত্র কমলা। আগুনের পরশমণি, দারুচিনি দ্বীপ ও ঘেটুপুত্র কমলা চলচ্চিত্রের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।

বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট লেখকের জন্মদিন উপলক্ষে তার পরিবারের সদস্যরা, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও টিভি চ্যানেলগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।

হুয়ায়ূন আহমেদের স্মরণে ২০১৫ সালে প্রবর্তিত হয় ‘হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার’। এক্সিম ব্যাংকের সহযোগিতায় পুরস্কারটি প্রবর্তন করেছে জনপ্রিয় পাক্ষিক ‘অন্যদিন’। শুক্রবার সেই জননন্দিত লেখকের জন্মদিন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার বিকালে প্রদান করা হয় ‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার-২০২০।’

এবার সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য এ পুরস্কার পেয়েছেন কথাসাহিত্যিক হাসনাত আবদুল হাই। আর ‘পুরুষপাঠ’ শীর্ষক গল্পগ্রন্থের জন্য নবীন সাহিত্যশ্রেণিতে এ পুরস্কার পেয়েছেন গল্পকার নাহিদা নাহিদ।

ওএস/এইচআর

 

 

 

আরও পড়ুন

আরও