শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় ভালবাসায় হাসান আরিফের শেষ বিদায়
Back to Top

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ মে ২০২২ | ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

>

শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় ভালবাসায় হাসান আরিফের শেষ বিদায়

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৮:২৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০২, ২০২২

শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় ভালবাসায় হাসান আরিফের শেষ বিদায়
সর্বস্তরের মানুষ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কবি, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিজন-সহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় আবৃত্তিশিল্পী হাসান আরিফকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন।
শনিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন শেষে হাসান আরিফের কফিন নিয়ে শোক র্যা লি বের করা হয়। 

পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদ প্রাঙ্গণে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর হাসান আরিফের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মরদেহ দান করা হয়।

বেলা ১১টায় শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে আসা হয় হাসান আরিফের মরদেহ। সেখানে দুপুর ১টা পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন করে- ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, আওয়ামী লীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জয়বাংলা সাংস্কৃতিক ঐক্যজোট, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছায়ানট, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ আবৃত্তিশিল্পী সংসদ, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, উদীচী, সংস্কৃতি মঞ্চ, বাংলাদেশ পুলিশ থিয়েটার, পদাতিক নাট্যসংসদ বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম বাংলাদেশ, আবৃত্তি অঙ্গন, আবৃত্তি সংগঠন ত্রিলোক ও শ্রুতিঘর-সহ নানা সংগঠন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে হাসান আরিফের ছোট বোন রাবেয়া রওশন তুলি বলেন, আমার ভাইটি আর বজ্রকণ্ঠে আবৃত্তি করবে না। আমার স্বপ্নবাজ ভাই স্বপ্ন দেখেছিল করোনা থেকে ভালো হয়ে বঙ্গবন্ধুর বীরগাঁথা নিয়ে একশত আবৃত্তি শিল্পীর সমন্বয়ে একটি প্রযোজনা মঞ্চস্থ করবে। দেশের আবৃত্তি শিল্পীদের কাছে আবেদন, তার সেই ইচ্ছাটি যেন পূরণ হয়।

রামেন্দু মজুমদার বলেন, নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে- আমরা যারা সাংস্কৃতিক সংগঠক ছিলাম তাদের মধ্যে হাসান আরিফ অন্যতম। তিনি একজন সৃষ্টিশীল সংগঠক ছিলেন। তার কণ্ঠ আবৃত্তিতে অন্যমাত্রা যোগ করেছে। তিনি সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।

নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, আরিফ ছাড়া সাংস্কৃতিক আন্দোলন আগের মতো থাকবে না। তাকে ছাড়া পথ চলা কঠিন হবে। মুক্তিযুদ্ধের পরে অনেক মুক্তিযোদ্ধা থেমে গেছে। কিন্তু আরিফের মতো তরুণ সংস্কৃতিকর্মীরা থেমে থাকেনি। তারা মৌলবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও যুদ্ধাপরাধীর বিচার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আরিফ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশের স্বপ্ন দেখেছিল। সে স্বপ্নকে আমাদের বাস্তবে রূপ দিতে হবে।

সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস বলেন, তিনি দেশের বরেণ্য আবৃত্তিশিল্পী ছিলেন। ব্যক্তিগত ভোগবিলাস আনন্দের কথা ভুলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন। তাকে এত অল্প সময়ের মধ্যে বিদায় দিতে হবে আমরা কখনও ভাবিনি।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হাসান আরিফ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।

এসবি

 

আরও পড়ুন

আরও
               
         
close