ঔপন্যাসিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৫ আশ্বিন ১৪২৮

ঔপন্যাসিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:১৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১

ঔপন্যাসিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৫০তম  মৃত্যুবার্ষিকী
বিংশ শতাব্দীর বিশিষ্ট বাঙালি সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। বাংলা সাহিত্যর অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই কথাসাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক ও গল্পকার ১৯৭১ সালের আজকের দিনে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। বাংলা সাহিত্যের শক্তিমান এ ঔপন্যাসিকের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।
সামাজিক পরিবর্তনের বিভিন্ন চিত্র তার একাধিক গল্প ও উপন্যাসের বিষয়বস্তু ছিলো। প্রথম জীবনে কিছু কবিতা লিখলেও কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তারাশঙ্করের প্রধান খ্যাতি। ১৮৯৮ সালের ২৪ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদার পরিবারে করেছিলেন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ে। বাবা হরিদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও মা প্রভাবতী দেবী। তার পিতা বাড়িতে নিয়মিত রামায়ণ, মহাভারত, তন্ত্রশাস্ত্র প্রভৃতি পাঠ করতেন।

ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার কারণে ১৯৩০ সালে গ্রেপ্তার হলেও পরে মুক্তি পান তিনি। এর পর নিজেকে সাহিত্যে নিয়োজিত করেন। ১৯৩২ সালে তিনি প্রথমবার শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে দেখা করেন। একই বছরে তার প্রথম উপন্যাস 'চৈতালী ঘূর্ণি' প্রকাশ পায়।

শক্তিমান এই ঔপন্যাসিকের লেখায় বিশেষভাবে পাওয়া যায় বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের সাঁওতাল, বাগদি, বোষ্টম, বাউরি, ডোম, গ্রাম্য কবিয়াল সম্প্রদায়ের কথা। ছোট বা বড় যে ধরনের মানুষই হোক না কেনো, তারাশঙ্কর তার সব লেখায় মানুষের মহত্ত্ব ফুটিয়ে তুলেছেন, যা তার লেখার সবচেয়ে বড় গুণ। তারাশঙ্করের উপন্যাস, গল্প ও নাটক নিয়ে চল্লিশটিরও বেশি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। সত্যজিৎ রায়ও তারাশঙ্করের জলসাঘর এবং অভিযান উপন্যাসের সফল চিত্ররূপ দিয়েছেন।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে ৬৫টি উপন্যাস, ৫৩টি গল্পগ্রন্থ, ১২টি নাটক, ৪টি প্রবন্ধের বই, আত্মজীবনী ও ভ্রমণকাহিনি। উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে— নিশিপদ্ম, বিচারক, ফরিয়াদ, কালিন্দী, গণদেবতা, আরোগ্য নিকেতন, রাধারানী, সপ্তপদী, হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, কবি, ধাত্রীদেবতা, চাঁপাডাঙার বৌ, নীলকণ্ঠ, জলসাঘর, বেদেনী, হারানো সুর, অভিযান, ডাকহরকরা, পঞ্চপুত্তলী, উত্তরায়ণ, মহানগরী, হীরাপান্না, গুরুদক্ষিণা; রবীন্দ্রনাথ ও বাংলার পল্লী, পথের ডাক, কালান্তর; নাটক দ্বীপান্তর, পথের ডাক, দুই পুরুষ। তিনি ৬৫টি উপন্যাস, ৫৩টি গল্পের বই, ১২টি নাটক, চারটি প্রবন্ধের বই, চারটি আত্মজীবনী এবং দুটি ভ্রমণকাহিনী লিখেছেন।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার কর্তৃক ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’, ‘সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার’, পদ্মশ্রী ও পদ্মভূষণ উপাধিতে ভূষিত হন। 

এছাড়া কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রদেয় শরত্স্মৃতি পুরস্কার, জগত্তারিণী স্মৃতিপদক, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার লাভ করেন। সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য বহুবিধ পদক-সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি। 

এসকে
 

আরও পড়ুন

আরও