নামাযের গুরুত্বপূর্ণ ৫ উপকারিতা
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২০ | ১৯ চৈত্র ১৪২৬

নামাযের গুরুত্বপূর্ণ ৫ উপকারিতা

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:০৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৯

নামাযের গুরুত্বপূর্ণ ৫ উপকারিতা

নামায ইসলামের এক মৌলিক স্তম্ভ। একজন ব্যক্তির কালিমা পাঠের মাধ্যমে মুসলমান হওয়ার পর প্রথম যে কাজটি মুসলমান হিসেবে তার উপর ফরয হয়, তাহলো নামায।

এক হাদীসে রাসূল (সা.) বলেছেন, একজন মুসলমান ও একজন কাফেরের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টিকারী হলো নামায। (মুসলিম)

সুতরাং মুসলমান হিসেবে নামায আদায় আমাদের সকলের আবশ্যিক কর্তব্য।

নামায শুধু আবশ্যিক কর্তব্যই নয়, পাশাপাশি মানসিক ও আধ্যাত্মিকতার দিক থেকে নামাযের বিভিন্ন উপকারী প্রভাব আছে। তন্মধ্য হতে এখানে নামাযের পাঁচ উপকারিতা উল্লেখ করা হলো।

১. আত্ম উপলব্ধি ও অন্তরের শান্তি অর্জন

প্রত্যেক জীবিত আত্মারই আধ্যাত্মিক চাহিদা রয়েছে। এ চাহিদা পূরণ না হলে কোনো ব্যক্তিই অন্তরে শান্তি লাভ করতে পারেনা।

নামাযের মাধ্যমে ব্যক্তি তার স্রষ্টার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে। এর ফলে আধ্যাত্মিক চাহিদা পূরণের মাধ্যমে একদিকে যেমন সে অন্তরের শান্তি অর্জন করে, অপরদিকে নিজের সত্ত্বা ও অস্তিত্ব সম্পর্কে যথাযথ উপলব্ধি করতে পারে।

হযরত আবু মুসা আল-আশয়ারী (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদীসে এসেছে, রাসূল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার প্রভুকে স্মরণ করে এবং যে ব্যক্তি তার প্রভুকে স্মরণ করেনা, উভয়ের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে জীবিত ও মৃতের মধ্যে যে পার্থক্য।” (বুখারী ও মুসলিম)

২. দাসত্ব থেকে মুক্তি দানকারী

নামায মানুষকে বস্তুজগতের সকল প্রকার দাসত্ব ও বন্দীত্ব থেকে মুক্তি দান করে। ইমাম ইবনে তাইমিয়া বলেছেন, “আসল বন্দী সে যার অন্তর তার প্রভুর জন্য বন্ধ থাকে এবং আসল দাস সে ব্যক্তি যার অন্তর তার ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষার দাস।”

নামাযের মাধ্যমে ব্যক্তি এই বন্দীত্ব ও দাসত্ব থেকে মুক্তি পেতে পারে।

৩. নৈতিকতার মূলভিত্তি

নামায একজন ব্যক্তির মধ্যে নৈতিকতার ভিত্তি তৈরি করে দেয়। কোনো ব্যক্তি যদি যথাযথ নামায আদায় করে, তবে নৈতিক গুণাবলী তার মাঝে সহজেই বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে।

৪. ঈমানের নবায়নকারী

দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের মধ্য দিয়ে দৈনিক পাঁচবার আমরা স্মরণ করি, আমরা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর বান্দা। আর সকল পরিচয়ের উপরে এটিই আমাদের পরিচয়।

সুতরাং, নামাযের মাধ্যমে আমাদের ঈমানকে আমরা প্রতিনিয়তই নবায়ন করে নিই।

৫. একতার ধারণা

নামাযের জামায়াতে ধনী-গরিব, সাদা-কালো একই কাতারে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করে। কোনো প্রকার বৈষম্যের ধারণা নামাযের জামায়াতে কাজ করেনা। সকলেই এক আল্লাহর বান্দা হিসেবে নামায আদায় করে।

জামায়াতে নামাযের এই ব্যবস্থা থেকে আমরা একতার ধারণা ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা অর্জন করতে পারি। আল্লাহ আমাদের সকলের জন্য নামায আদায়কে সহজ করে দিন।

এমএফ/

 

ইসলাম: আরও পড়ুন

আরও