ড্রাগন ফলে রঙ্গীন নওগাঁ
Back to Top

ঢাকা, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২০ | ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭

ড্রাগন ফলে রঙ্গীন নওগাঁ

বাবুল আখতার রানা ৭:৩১ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৮, ২০২০

ড্রাগন ফলে রঙ্গীন নওগাঁ
অধিক পুষ্টিগুন সম্পন্ন বিদেশী ফল ড্রাগন। বর্তমানে নওগাঁর রাণীনগরে বিভিন্ন বাগানে উৎপাদিত হচ্ছে ফলটি। চাহিদা থাকায় ফলটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হচ্ছে। তাই দিন দিন অত্যন্ত লাভজনক এই বিদেশী ফলের বাগানের পরিসর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মুখরোচক, রসালো, ক্যান্সার ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের উপকারি ড্রাগন ফল চাষে ঝুঁকছেন উপজেলার কৃষকরা। বর্তমানে ভিয়েতনাম, থাইলান্ড ও ইন্দোনেশিয়ায় এই ফল অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রধান খাবারের অংশে স্থান করে নিয়েছে। যে কেউ এই ফলের বাগান তৈরি করতে পারেন।

বাংলাদেশে এই বিদেশী ফল চাষে উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখছেন কৃষি বিভাগ। একটি ড্রাগন ফলের গাছ ২৫ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে এবং বছরে ৬ মাস ফল দেয়। সাধারণত মে মাসে গাছে ফুল আসে এবং ফুল আসার ৩৫ দিনের মধ্যেই এই ফল খাওয়ার উপযোগি হয়। উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে এই ফল বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করাও সম্ভব।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় দিন দিন এই বিদেশী ড্রাগন ফল চাষের পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে উপজেলার সাড়ে ৪ হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফলের বাগান তৈরি করা হয়েছে। উদ্বুদ্ধ কৃষকদের কৃষি অফিস ড্রাগনের চারা থেকে শুরু করে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে। জমিতে বার বার একই ফসল চাষ করার অভ্যাস থেকে কৃষকদের ফিরিয়ে এনে অধিক লাভজনক ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি অফিস কাজ করে আসছে। এই ফসলগুলো চাষ করলে একদিকে কৃষকরা যেমন কম খরচে ও কম পরিশ্রমে অধিক লাভ করতে পারেন অপরদিকে জমির উর্বরতা শক্তিও বৃদ্ধি পায়। উপজেলার অনেক তরুনরা পড়ালেখার পাশাপাশি বর্তমানে এই লাভজনক ড্রাগন ফল চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

উপজেলার কালিগ্রাম ইউনিয়নের রঞ্জনিয়া গ্রামের তরুন উদ্যোক্তা নাইস জানান, পড়ালেখা শেষ করে চাকরি নামক সোনার হরিণের পেছনে না দৌড়ে নিজেই কিছু করার প্রত্যয় থেকে আজ আমি প্রায় ৯ বিঘা জমিতে ড্রাগন ফলের বাগান তৈরি করেছি। ড্রাগন চাষ করে আমি বর্তমানে অনেক লাভবান হয়েছি। অনেক মানুষ আজ আমার বাগানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। তবে দেশে ড্রাগন ফলের বাজার এখনোও সেভাবে গড়ে ওঠেনি। তবে সরকার যদি এই ফলটি বিদেশে রপ্তানি করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তাহলে আগামীতে ড্রাগন ফল চাষীরা আরো অনেক লাভবান হবেন। বর্তমানে প্রতি কেজি ড্রাগন ৪০০-৪৫০টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আগামীতে আমি এই বাগানের পরিসর আরো বৃদ্ধি করবো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানান, ২০১২ সাল থেকে উপজেলাতে ড্রাগন ফল চাষের নিরব বিপ্লব শুরু হয়। এখন ড্রাগন উপজেলার কৃষকদের কাছে একটি লাভজনক ফলের নাম। প্রতিদিনই কৃষকরা কৃষি অফিসে এসে ড্রাগন ফল সম্পর্কে জেনে যাচ্ছেন। এছাড়াও এই বাগান তৈরিতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চারা সরবরাহ থেকে শুরু করে সরকারি ভাবে সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও বাগান মালিকদের সার্বক্ষনিক পরামর্শ প্রদান ও খোঁজখবর রাখছি। আশা রাখি একদিন দেশের মধ্যে রাণীনগর উপজেলা ড্রাগন ফল চাষে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

বিএআর/জেডএস

 

: আরও পড়ুন

আরও