করোনাকালে পোল্ট্রি খাতে নেই স্বস্তি
Back to Top

ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৪ আশ্বিন ১৪২৭

করোনাকালে পোল্ট্রি খাতে নেই স্বস্তি

পরিবর্তন ডেস্ক ১১:২৪ অপরাহ্ণ, জুন ১৩, ২০২০

বেকারত্ব দূরের পাশাপাশি সস্তায় আমিষের চাহিদা পূরণ। পোল্ট্রি শিল্পের সাথে এসব বিশেষণগুলোই একসময় সবচেয়ে বেশি দেওয়া হত। কিন্তু করোনা মহামারির পর থেকে নানা সংকটে জর্জরিত এই শিল্প।

শুরুতে উদ্যোক্তাদের অনেকের বেকারত্ব দূর হলেও, এখন অনেকেই পুঁজি হারিয়ে উল্টো বহন করছেন ঋণের বোঝা। ফলে শান্তিতে নেই এ খাতের সাথে জড়িতরা।

বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিরা যেন মেনেই নিয়েছেন এমন নিয়তি। তারা বলছেন মুরগী লালনপালনের খরচ ও বাজারমূল্যের ভারসাম্য থাকছে না। বেশি লাভ না, অন্তত পুঁজিটা যাতে ঠিক থাকে। সাথে অন্তত কিছুটা লাভের মুখও দেখতে চান তারা। পাশাপাশি ভোক্তারাও যাতে সস্তার এরই আমিষ পেতে পারেন তেমনটা জানান চাঁপাইনবাবগঞ্জের খামারীরা।

জুনের প্রথম সপ্তাহে বেশ কয়েকটি খামার ঘুরে পোল্ট্রি খাতের বর্তমান ভয়াবহ চিত্র দেখা গেল। অনেক খামারে মুরগী নাই।

করোনার ভয়াবহতায় খামারে মুরগী আনেন নি খামারি ওয়াহিদুর রহমান।


তিনি জানালেন, এখন মুরগী লালন-পালনে খুববেশি লাভ নেই। অনেক খামারেই মুরগী উঠানো বন্ধ হয়ে আছে।


চাঁপাইনবাবগঞ্জের হরিপুরের আরেক খামারী জসিম উদ্দীন। তার চারটি খামার থাকলেও একটিতেও নেই মুরগী। ঈদের আগে মরেও গেছে বেশ কিছু। খামার সচল না থাকায় কর্মচারীদের বেতন ঠিকমতো দিতে পারছেন না বলে জানালেন তিনি। চাইলেন সরকারি প্রণোদনা।


জসিম উদ্দীনের খামারের কর্মী রজব আলী তিনি জানান, গত ১০ বছরেরও এমন মহামারি তিনি দেখেন নি। কোনদিনই তাদের খামার মুরগী-শূণ্য থাকত না।


এ বিষয়ে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সরকার ঘোষিত প্রণোদনা যেন খামারীরা পায়, সে বিষয়ে কাজ করছেন তারা। খামারীদের কাছে দরখাস্তও চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় থেকে পোল্ট্রি, ডিম, একদিন বয়সী মুরগীর বাচ্চা, হাঁস ও মুরগী সরকারঘোষিত ছুটিকালীন নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন, পরিবহন ও বিপণন সচল রাখতে তারা কাজ করছেন। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য করোনার শুরুতেই সকল জেলা প্রশাসক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, করোনা সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক খামারীদের জন্য মন্ত্রণালয়ের প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে প্রণোদনা দেয়ার বিষয়টি নিয়ে সরকার কাজ করছে। তাছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত খামারীদের ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ ও কিস্তি স্থগিতকরণের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে এনবিআরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দেয়ার কথাও জানান তিনি।

 

: আরও পড়ুন

আরও