কৃষি প্রণোদনার ঋণ নিয়ে সংশয়ে প্রান্তিক চাষীরা
Back to Top

ঢাকা, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২০ | ১৯ আষাঢ় ১৪২৭

কৃষি প্রণোদনার ঋণ নিয়ে সংশয়ে প্রান্তিক চাষীরা

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:৩৫ অপরাহ্ণ, মে ৩০, ২০২০

পাবনার মির্জাপুর গ্রামের কৃষক আনিসুর রহমান। রমজান মাস টার্গেট করে মৌখিক চুক্তিতে দশ বিঘা জমি লিজ নিয়ে চাষ করেছিলেন তরমুজ, শসা, বাঙ্গিসহ নানা ধরণের মৌসুমী ফল।

ফলন ভালো হলেও, করোনা ভাইরাসের লক ডাউনে ঢাকা থেকে ক্রেতা না আসায় পণ্য বিক্রি না করতে পেরে পড়েছেন চরম লোকসানের মুখে।

সম্প্রতি, সরকার কৃষি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলে নতুন করে আবাদের জন্য ব্যাংক ঋণের চেষ্টা করেন।


তবে, বর্গাচাষী আনিসের নেই জমির দলিল, লিখিত চুক্তি করতেও রাজি নন জমির মালিক। কাগজপত্রের জটিলতা আর শর্তের বেড়াজালে ঋণ না পেয়ে হতাশ আনিস।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্রামাঞ্চলের প্রান্তিক চাষীরা অধিকাংশই আনিসুরের মতো বর্গা চাষী। কাগজপত্রের জটিলতা, আর সই সাক্ষরের ঝামেলা এড়িয়ে আবাদ শেষে ফসল ভাগাভাগির মৌখিক চুক্তিতেই সহজ সমাধান খোঁজেন তারা।

কৃষি ঋণ কিংবা প্রণোদনা পেতে কোনমতে ব্যাংকের দরজায় পৌঁছালেও, জটিল শর্ত আর কাগজপত্রের হিসাব মেলাতেই হিমশিম অবস্থা হয় তাদের। নীতিমালার ফাঁক ফোকরে প্রান্তিক চাষীদের জন্য সরকারের দেয়া সহযোগীতা ভোগ করেন সুযোগ সন্ধানী জমির মালিকেরাই।

আউশ, খরিপের মতই করোনার কৃষি প্রণোদনায় ঋণ বিতরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনাও একই ধরণের, তাই সুবিধা প্রাপ্তি নিয়ে সংশয়ে প্রান্তিক চাষীরা।


কৃষি বিভাগ জানায়, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ চাষীদের সহায়তা ও উৎপাদন অব্যহত রাখতে কৃষি প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে, অনিয়ম, দুর্নীতির অতীত অভিজ্ঞতা ও জটিল শর্তের কারণে এসব সহায়তা পাওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন ভূমিহীন প্রান্তিক চাষীরা। প্রকৃত চাষীদের কাছে প্রণোদনার সুবিধা পৌঁছাতে বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ দিয়েছেন কৃষিবিদরা।

পাবনা সদর উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম মুন্নু বলেন, জমির কাগজপত্র জমা দেয়ার বাধ্য বাধকতার কারণে প্রণোদনার কৃষি ঋণের সুবিধা প্রান্তিক চাষীদের কাছে পৌঁছে না।

পাবনা সদর উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, কৃষি পুনর্বাসন কমিটিতে আমার মত কৃষি কর্মকর্তারা সদস্য সচিব হলেও তাদের কোন ক্ষমতাই নেই।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার উপপরিচালক কৃষিবিদ আজাহার আলী বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের স্বজনপ্রীতি ও প্রভাব বিস্তারের কারণে প্রান্তিক চাষীদের কাছে প্রণোদনার সুবিধা পৌঁছানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।


তিনি জানান, করোনা দূর্যোগের প্রণোদনা ও সরকারী সুবিধা প্রদানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তবরব সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।


প্রতিবেদন: রিজভী জয়, পাবনা

 

: আরও পড়ুন

আরও