পরিত্যক্ত জমিতেও সরিষা আবাদে লাভবান চাষিরা
Back to Top

ঢাকা, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০ | ৩১ আষাঢ় ১৪২৭

পরিত্যক্ত জমিতেও সরিষা আবাদে লাভবান চাষিরা

মেহেদী হাসান মাসুদ, রাজবাড়ী ৪:০৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০২০

পরিত্যক্ত জমিতেও সরিষা আবাদে লাভবান চাষিরা

রাজবাড়ীতে অল্প সময়ে ও কম খরচে সরিষা আবাদে বাম্পার ফলন হওয়ায় চাষিরা ভালো লাভবান হয়েছেন।  বিঘা প্রতি মাত্র দুই থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা খরচ করে দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যেই সরিষার ফলন পাওয়া যায় বলে তারা পড়ে থাকা জমিতে এর আবাদ করে বেশি লাভবান হতে পারছেন।

শীতের আগে বিভিন্ন ফসলি মাঠ যখন বোরো ধান আবাদের আগে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে তখন অল্প সময়ের জন্য কৃষকেরা সরিষার আবাদ করে থাকেন। এতে একদিকে যেমনি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে না থেকে জমি চাষ হয় অন্যদিকে পড়ে থাকা জমি থেকে অল্প সময়ে সরিষার আবাদে ভালো লাভবানও হচ্ছেন চাষিরা।

অনেক স্থানে আবার বিনা চাষে সরিষার আবাদ হচ্ছে, সেখানে কৃষকদের খরচ আরো কম হচ্ছে।

রাজবাড়ী জেলার পাঁচটি উপজেলার সদর, গোয়ালন্দ ও কালুখালী উপজেলাতে শরিষার আবাদ বেশি হয়ে থাকে। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী অঞ্চলে যেসব স্থানে বন্যার পানিতে প্লাবিত হয় সেখানে সরিষার আবাদে ভালো ফলন পাওয়া যায়।

এসব অঞ্চল এখন সরিষার হলুদ ফুলে সজ্জিত হয়ে আছে। গোয়ালন্দ ও কালুখালী এ দুটি উপজেলা পদ্মা নদী তীরবর্তী হওয়ায় এখানে সরিষাসহ সব ধরনের ফসলই ভালো ফলন হয়েছে।

গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম, ছোটভাকলা, দৌলতদিয়া এবং কালুখালীর রতনদিয়া ও কালিকাপুরে বিভিন্ন ফসলি মাঠ এখন সরিষা আবাদে বাম্পার ফলন দেখা যাচ্ছে। অল্প খরচ এবং কম সময়ে বোরো ধান আবাদের আগে এ সরিষা চাষ করে চাষিরা বেশি লাভবান হচ্ছেন।

গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের তেনাপচা নদী তীরবর্তী ফসলি মাঠে মোজাহার মোল্লা ও ইদ্রিস সরদার শরিষা আবাদ করেছেন। অল্প সময়ে ও কম খরচে এর আবাদ করে এ বছর তারা বাম্পার ফলন পেয়েছেন।

বিঘা প্রতি তাদের খরচ হয়েছে দুই থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকার মধ্যে। আর প্রতি বিঘা জমি থেকে সরিষা পাচ্ছেন ৬ থেকে ৭ মণ। প্রতিমণ শরিষা দেড় হাজার থেকে আঠারশ টাকা বাজারে বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

আবার এ থেকে তাদের সংসারে তেলের চাহিদাও মিটে যাচ্ছে তাদের। তাদের মতো অন্য কৃষকরাও সরিষা আবাদ করে বেশ ভালো লাভবান হচ্ছেন। এ বছর সরিষার বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকদের লাভবান বেশি হচ্ছে বলে জানান তারা। বর্তমানে বোরো আবাদের আগে সরিষা আবাদ করে বোরো ধানের খরচ পুষিয়ে নিয়েছেন কৃষকেরা।

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক গোপাল কৃষ্ণ দাস পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘রাজবাড়ীতে এ বছর সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে, ইতোমধ্যে ৩ হাজার ৩শ ৭৪ হেক্টর জমিতে এর আবাদ হয়েছে। বিশেষ করে বারি সরিষা- ১৪, ১৫ ও বারি টুরি-৭ এবং রাই সরিষাসহ স্থানীয় কিছু জাতের সরিষা আবাদ করেছেন চাষিরা।’

তবে আবহাওয়া ভালো থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাবেন বলে জানান কৃষকেরা।

এইচআর

 

: আরও পড়ুন

আরও