মুড়িকাটা পেঁয়াজে কৃষকের মুখে হাসি
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২০ | ১৮ চৈত্র ১৪২৬

মুড়িকাটা পেঁয়াজে কৃষকের মুখে হাসি

মেহেদী হাসান মাসুদ, রাজবাড়ী ১২:৪৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৯

মুড়িকাটা পেঁয়াজে কৃষকের মুখে হাসি

রাজবাড়ীর পদ্মা পাড়ের গোয়ালন্দে এ বছর মুড়িকাটা পেঁয়াজের ভাল ফলন হয়েছে। তবে নতুন পেঁয়াজ উঠার সাথে সাথে কিছুটা কমতে শুরু করেছে বাজারে পেঁয়াজের দাম। কৃষি বিভাগ বলছে, একই জমিতে দুইবার পেঁয়াজ আবাদ করে পদ্মা পাড়ের কৃষকেরা অধিক লাভবান হচ্ছেন। তবে এই দাম আগামীতে না পওয়ার সম্ভাবনাও তাদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় ভাল ও উন্নত জাতের পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য সুখ্যাতি রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে পদ্মার পানিতে ডুবে যায় নদী তীরের বেশীর ভাগ এলাকা। একদিকে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি আশির্বাদ স্বরূপ রেখে যায় উর্বর পলি মাটি। এ মাটিতেই পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসলের বাম্পার উৎপাদন করেন পদ্মাপাড়ের কৃষকরা। গোয়ালন্দে তিন ধরনের পেঁয়াজ উৎপাদন হয়ে থাকে। মুড়িকাটা, হালি ও দানা পেঁয়াজ।

জেলার কৃষকের ঘরে এখন উঠছে আগাম জাতের মুড়িকাটা পেঁয়াজ। পেঁয়াজের ফলন ও ভাল দাম পাওয়ায় কৃষকেরা। চারা লাগানোর ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মাথায় কৃষকেরা এখন ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ তুলতে শুরু করেছেন। বসে নেই কৃষানীরাও। তারাও ক্ষেত থেকে উঠানো পেঁয়াজ পাতা কেটে বাজারে পাঠানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের মহিদাপুর চরে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ পেঁয়াজের ক্ষেত। একদিকে মুড়িকাটা পেয়াজ তুলছেন কিছু কৃষক। আর সেই পেঁয়াজের পাতা ছাড়িয়ে বিক্রি উপযোগী করছেন কৃষানী ও পরিবারের ছোট ছোট সদস্যরা। অপরদিকে দানা পেঁয়াজসহ অন্যন্য পেঁয়াজ ক্ষেতের পরিচর্যার ব্যস্ত কৃষকরা। তেমন কোনো রাস্তা না থাকলেও ট্রাক নিয়ে সরাসরি জমিতে পৌঁছে গেছেন অনেক পেঁয়াজ বেপারী। তারা সরাসরি জমি থেকে কৃষকের কাছ থেকে পেঁয়াজ কিনে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন।

কৃষক আব্দুল হামিদ মোল্লা জানান, গতবছর পেঁয়াজ চাষ করে লাভ হয়নি। ফলন ভাল হলেও পেঁয়াজের দাম ছিলো না। ফলে ক্ষতির মধ্যে পড়েছিলেন। কিন্তু চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের ফলন ভাল হয়েছে। বাজারে ভাল দামও ভাল আছে।

উপজেলার চর দৌলতদিয়া এলাকার কৃষক বারেক সিকদার জানান, তিনি এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে মোট ৬০ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে তিনি পেঁয়াজ তুলতে শুরু করেছেন। বর্তমানে ২ হাজার টাকা মন বিক্রি করছেন। আশা করছেন অন্তত ১শ মন পেঁয়াজ তোলা সম্ভব হবে। এছাড়া প্রায় ১২ হাজার টাকার পেঁয়াজ কলিও তিনি বিক্রি করেছেন।

গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিকদার মোহায়মেন আক্তার বলেন, এ উপজেলায় তাহেরপুরী ও লাল জাতের মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ বেশী হয়। চলতি মৌসুমে গোয়ালন্দে ১৮৫০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। উৎপাদন হবে অন্তত সাড়ে ৩শ মেট্রিক টন পেঁয়াজ। এবছর বাম্পার ফলনের পাশাপাশি বাজারে বেশী দাম পাচ্ছে কৃষক।

এছাড়া পেঁয়াজের ফলন বাড়াতে কৃষকদের বিনামূল্যে পেঁয়াজের বীজ সরবরাহ করাসহ বিশেষ নজরদারি করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

এএসটি/

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও