টাঙ্গাইলের চরাঞ্চলে ভালোবাসার ‘গুপ্তধন’
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২০ | ১৮ চৈত্র ১৪২৬

টাঙ্গাইলের চরাঞ্চলে ভালোবাসার ‘গুপ্তধন’

আব্দুল্লাহ আল নোমান, টাঙ্গাইল ১০:১২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৯

টাঙ্গাইলের চরাঞ্চলে ভালোবাসার ‘গুপ্তধন’

বর্ষায় দু’কূল ভাসিয়ে নেয়া যমুনা-ধলেশ্বরীর শুষ্ক মৌসুমে ধু ধু বালুচর। জেগে ওঠা বালুচর অবহেলিত মানুষের বেঁচে থাকার অন্যতম অবলম্বন। নদীর ভাঙা-গড়ার যুদ্ধে টিকে থাকা মানুষগুলো বালুচরে দীর্ঘদিন ধরে বাদামের চাষ করে আসছেন।

চলতি মৌসুমে টাঙ্গাইলের চরাঞ্চলগুলোতে বাদামের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি। তাই চরের কৃষকরা বাদামকে ভালোবেসে এর নাম দিয়েছেন ‘গুপ্তধন’।

টাঙ্গাইলের যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর চরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে।  দামও অন্য বছরের তুলনায় ভালো হওয়ায় হাসির ঝিলিক দেখা গেছে কৃষকদের মাঝে। অধিকাংশ জমিতে ঢাকা-১ ও ডিজি-২ জাতের বাদামের চাষ হয়েছে।

কৃষকরা এখন ব্যস্ত জমির পরিচর্চা, জমি থেকে বাদাম তোলা ও বাদাম বিক্রিতে। এলাকার হাটবাজারগুলোতে প্রতি মন বাদাম বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকা থেকে ২শ টাকায়। প্রতি বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করতে কৃষকের খরচ হয়েছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় বাদাম উৎপাদন হচ্ছে ১০ থেকে ১২ মণ। খরচ বাদ দিয়ে বিঘা প্রতি কৃষকের লাভ হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।

বাদাম চাষি মো. রফিক পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘বাদেম চাষে খুব সহজেই লাভবান হওয়া যায়। আশা করছি বাজার ভালো হলে খরচ বাদে প্রতি বিঘায় ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা লাভবান হবো।’

কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি ৫ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। এতে আমার ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘায় ৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। যদি বাজারে ভালো দাম থাকে তাহলে লাভবান হবো। যদি কৃষি বিভাগ থেকে সহযোগিতা পাওয়া যায় তাহলে আরো লাভবান হতাম।’

আরেক চাষি বলেন, ‘এবার বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। আমি এবার ৯ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। এতে আমার ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আশা করছি ২০ হাজার টাকা লাভ হবে। যদি সরকার সরাসরি বাদাম আমাদের কাছ থেকে নিয়ে নিতো তাহলে আরো লাভ হেতো। এখন আমরা দালালের মাধ্যমে বাদাম বিক্রি করছি।’

ভূঞাপুর উপজেলার রইপাড়া গ্রামের বাদাম চাষি শামছুল রহমান বলেন, ‘বিগত বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পুরোদমে বীজ বপন ও বাদাম ক্ষেতের পরিচর্যা শুরু করেছি। বাদাম চাষে অল্প খরচ, কম সময় ও পরিশ্রমে অধিক লাভবান হওয়া যায়।’

বাদাম চাষি কোহিনুর বেগম বলেন, ‘গত বছর আমি ৩ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছিলাম। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর প্রায় ৭ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছি।’

এ ব্যাপারে বাদাম চাষ বিষয়ে ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজের শিক্ষক ও কৃষিবিদ প্রবাস কুমার চন্দ্র বলেন, ‘যমুনা চরাঞ্চলে বাদাম ও অন্যান্য ফসল চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তাই কৃষকরা তাদের বেলে মাটির জমিতে বাদাম চাষ করছেন।’

তিনি জানান, আশ্বিন-কার্তিক মাস বাদাম চাষের সঠিক সময়। আড়াই থেকে ৩ মাসের মধ্যে তা আবার কৃষকের ঘরে উঠে। সুস্বাদু, মুখোরচক ও ভিটামিনসমৃদ্ধ এই ফসল একদিকে যেমন খাদ্যে যোগান দিয়ে থাকে তেমনি তেলের চাহিদা পূরণ করে।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘বাদাম চাষে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের বাদাম পর্যাপ্ত পরিমাণে বিজ, সার, টাকাসহ প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা করা হচ্ছে। এছাড়া তাদেরকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কৃষকদের বাদাম চাষে উৎসাহিত করার জন্য আমরা কাজ করছি। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষি বিভাগের সার্বক্ষণিক তদারকির কারণে বাদামের ফলন ভালো হয়েছে।’

টাঙ্গাইলে সরকারিভাবে কোনো বাদাম ক্রয় কেন্দ্র নেই। তাই বাধ্য হয়েই ফড়িয়া ও দালালদের কাছে বিক্রি করতে হয়। তাই কাঙ্ক্ষিত দাম পান না কৃষকরা। সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করলে কৃষকরা আরো লাভবান হতেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এইচআর

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও