মাঠজুড়ে সোনালী ধানে ভরেছে কৃষকের মন
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ২৫ মে ২০২০ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

মাঠজুড়ে সোনালী ধানে ভরেছে কৃষকের মন

আবদুল্লাহ আল-মামুন, ফেনী ৪:৫১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯

মাঠজুড়ে সোনালী ধানে ভরেছে কৃষকের মন

বাতাসে এখন শীতের আমেজ। মাঠের পর মাঠজুড়ে সবুজ ধানের শীষগুলোতেও এখন সোনা রঙের হাসি। শেষ অগ্রহায়ণের সোনালী রোদে সেই হাসি আরো ঝলমল করে ওঠছে।

সোনাঝরা সেই রোদের অনেক মাঠেই কাস্তে নিয়ে ধান কাটার উৎসবে নেমে পড়েছেন কৃষক। ফুরফুরে মনে ফসল তুলছেন তারা। আবহাওয়া ও পরিবেশ প্রতিকূলে থাকা সত্ত্বেও এ বছর ধানের ফলন ভালো হয়েছে।

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর, নারায়নপুর, জগতপুর, সিন্ধুরপুর, রাজাপুর, রাম নগর, মাতুভূঞা ও জায়লস্কর গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, কুয়াশা মাখা ভোর থেকে দলবেধে, আইল ধরে কৃষক ছুটছেন জমিতে।

কয়েকটি ফসলের মাঠে দলবেধেই কাস্তে হাতে নেমে পড়ছেন তারা। ধান কেটে আঁটি বেঁধে রাখছেন খেতের মাঝেই। বিকেল থেকেই সেই আঁটির বোঝা মাথায় করে বাড়ি নেয়া হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. হারুন-অর-রশিদ জানান, ৮ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে এ বছর আমন চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিআর-১১,২২,২৩, ব্রি ধান-৪৪,৪৯, ৫১, ৫২, ৬২, ৭২, ৭৩, ৭৬, ৮০, ৮৭ বিনা ধান-৭, ১৭ সহ স্থানীয় কিছু বাজাল, কালো জিরা জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। ২৫টি ব্লকের মধ্যে সবগুলো ব্লকে ধান কাটা শুরু হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর আমন ফসল অনেকটাই ভালো। পোকামাকড় ও রোগবালাই আক্রমণ ছিল কম। তারপর কোনো সমস্যা দেখা গেলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে জানানো হতো। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে সঙ্গে পরামর্শ দিয়ে সব সমস্যার সমাধান করে দেয়। যেজন্য উপজেলার মাঠে মাঠে কৃষিতে বিল্পব ঘটে।

রামনগর গ্রামের কৃষক আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, এবার ২ বিঘা জমিতে ব্রি ধান-৫২ জাতের ধান লাগিয়ে ছিলাম। ফলন ভালো হয়েছে। চলতি বছর ধানের ছড়া বের হওয়ার মুখে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আঘাত হানে। এতে ফসলহানির আশঙ্কাও করেছিলাম। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরেও ধানের বাম্পার ফলন দেখে খুশি আছি।

পূর্ব চন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক ওমর ফারুক ভালো ধান হওয়ায় ভীষণ খুশি। তিনি বলেন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ৩ বিঘা জমিতে জিংক সমৃদ্ধ জাতের ব্রি ধান ৬২ চাষ করেছি। ধানের ফলন বেশ ভালো। ধান দেখে কাটতে ভালো লাগছে।

তিনি আরো জানায়, কৃষি বিভাগ ধানের জমিতে নমুনা শস্য কর্তন করেছিলেন ২০ বর্গমিটারে ধান পেয়েছে ৯.৭৫৫ কেজি (কাঁচা), হেক্টরে না কি ৪.৪২ মে.টন (শুকনা) ধান হবে। মাত্র ১শ ৪ দিনে তো ভালো ফলন পাবো। তারপর এ জমিতে সরিষা চাষ করবো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাফিউল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘চলতি আমন মৌসুমে ও গত বছরের তুলনায় এ বছর ও ফসলের লক্ষমাত্রা ছড়ানোর জন্য আমরা কৃষকদেরকে নতুন নতুন জাতের ধানচাষ করার জন্য পরামর্শ দিয়েছি। কৃষিবান্ধব সরকার কৃষি উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। আমন ধানের বাম্পার ফলন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সবসময় সার্বিক সহযোগিতা করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এবার সরকারি খাদ্য গুদাম ৮৮৫ মেট্টিক টন ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমনের উৎপাদক কৃষকের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এসব ধান বিক্রি করতে পারলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবে।’

এইচআর

 

: আরও পড়ুন

আরও