সার ও ডিজেলের মূল্য বাড়ায় রোপা আমন চাষিরা বিপাকে
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২২ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

>

সার ও ডিজেলের মূল্য বাড়ায় রোপা আমন চাষিরা বিপাকে

তাড়াশ(সিরাজগঞ্জ)প্রতিনিধি ১২:৩২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০২২

সার ও ডিজেলের মূল্য বাড়ায় রোপা আমন চাষিরা বিপাকে
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে রোপা আমনের ভরা মৌসুমে অনাবৃষ্টির কারনে এমনিতেই জমিতে রোপা আমন লাগাতে পারছে না। তারই মধ্যে সার ও ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি কৃষকের মরার উপর যেন খরার ঘাঁ। কৃষকদের দাবী সার ও ডিজিলের দাম বাড়ায় ফসলেরর উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। ফলে ক্ষতির মুখে পড়বে কৃষকরা।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, চলতি মৌসুমে তাড়াশ উপজেলায় ১২ হাজার ৯০৭ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইউরিয়া সারের দাম কেজিতে ৬ টাকার বাড়ানোর রেশ কাটতে না কাটতেই সরকার ডিজেলের মূল্য লিটার প্রতি ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করেছে। ফলে চাষিরা উৎপাদন খরচ বাড়ার বোঝা মাথায় নিয়ে জমিতে রোপা আমন লাগাচ্ছে। বোরো আবাদের চাইতে রোপা আমন চাষে কৃষকের খরচ কম হলেও বর্ষার ভরা মৌসুমে বৃষ্টি না হওয়া এবং সার ও ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধিতে কৃষকরা বিপাকে পড়েছে।

উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামের কৃষক ব্রজেন্দ্রনাথ সরকার জানান, সার ও ডিজেলের দাম বাড়ার ফলে চাষাবাদে খরচও বেড়েছে। বর্তমানে এক বিঘা জমি চাষে মোট খরচ হচ্ছে ৯ হাজার টাকা। তাতে ধান পাওয়া যাবে ১২ মণ। ধান কাটা মৌসুমে ধানের মূল্য থাকে ৭০০ টাকা মণ। সে হিসাবে ধানের উৎপাদন খরচই উঠবে না। এমন অবস্থা থাকলে চাষিদের পক্ষে চাষাবাদ চালিয়ে যাওয়া দুস্কর হয়ে পড়বে।

খুচরা সার ব্যবসায়ী আজিম উদ্দিন জানান, ইউরিয়া সারের দাম প্রতি বস্তায় ৩০০ টাকা বেড়েছে। এছাড়া ডিএপি, পটাশ ও এমওপি সারের দাম বস্তা প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়ে গেছে। সার ও ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধিতে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষের খরচ বেড়েছে একর প্রতি প্রায় এক হাজার টাকা।

উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের গুয়ারাখি গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, খেয়ে পড়ে বাঁচার তাগিদে ডিজেল ও সারের বাড়তি দাম মাথায় নিয়ে চাষাবাদ করছি। আর ভরা মৌসুমে বৃষ্টি না থাকায় জমিতে সেচ দিয়ে পানি দিতে হচ্ছে। এতে খরচও হচ্ছে বেশি।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ লুৎফুন্নাহার লুনা জানান, সার ও ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে কৃষকের চাষাবাদে উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে। উপজেলায় ১২ হাজার ৯০৭ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে।

এএইচএ
 

আরও পড়ুন

আরও
               
         
close